default-image

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। তাঁর পিতা হাস্ট কাসন ছিলেন হামবুর্গের একটি গির্জার ধর্মযাজক। সেই যাজকের মেয়ে শুধু জার্মানিই নয়, পুরো ‘ইউরোপের ক্রাইসিস ম্যানেজার’। সর্বত্রই তাঁর সমান প্রভাব। বিশ্ব রাজনীতিতে একটি মিথ আছে, পৃথিবীতে একজন ম্যার্কেল আছে। করোনাকালের আগে, করোনাকালে বিশ্ব রাজনীতিতে ‘আঙ্গেলা ম্যার্কেল’ অন্যতম আলোচিত নাম। ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের চেয়ারপারসন তিনি। ২০০৫ সাল থেকে জার্মানির চ্যান্সেলর। ব্যক্তিজীবনে নিঃসন্তান। কিন্তু কাজ করেছেন পুরো দুনিয়ার শিশুদের জন্য, বিখ্যাত সাময়িকী ‘ফোর্বস’-এর তালিকায় আঙ্গেলা ম্যার্কেল বরাবরই সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের শীর্ষেই থাকেন।

জার্মানির অর্থনীতি আর রাজনীতিকে সাহসের সঙ্গেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সক্রিয় এবং কার্যকর রাখতে আঙ্গেলা ম্যার্কেল চমৎকার ভূমিকা রেখেছেন। ‘ফোর্বস’ বেশ কয়েকবার ম্যার্কেলকে সময়ের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী নির্বাচিত করেছে। আঙ্গেলা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় আসেন ২০০৫ সালে। এরপর ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ‘ফোর্বস’-এর তালিকায় চারবার শীর্ষে উঠে আসেন।

নিজের দায়িত্ব পালনকালে পাঁচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছেন ম্যার্কেল। দেখেছেন চার ফরাসি প্রেসিডেন্ট, সাত ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে। বাইডেন চতুর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যাঁর ম্যার্কেলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হবে। এ সময় জাপানেও পালাবদল হয়েছে আট প্রধানমন্ত্রীর। বিশ্বের অনেক নেতা এসেছেন আবার চলেও গেছেন। কিন্তু জার্মানির ম্যার্কেল ছিলেন। জার্মানির ক্ষমতাসীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আরমিন লাশেট (৫৯)। চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই নেতা বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়ার মুখ্যমন্ত্রী। এলাকাটি বিদেশি-অধ্যুষিত। ম্যার্কেলের অপ্রকাশিত কিছু গুণ আছে, যা হলো—

অনর্গল রুশ ভাষায় কথা বলতে পারেন
১৯৫৪ সালে জন্মের ছয় সপ্তাহ পর ম্যার্কেলের বাবা হামবুর্গ থেকে তাঁর পরিবার সোভিয়েত-নিয়ন্ত্রিত পূর্ব জার্মানিতে সরিয়ে নিয়েছিলেন, যেমন হাজারো অন্যান্য জার্মান অন্য পথে পালাচ্ছিলেন। জিডিআরে বেড়ে ওঠা অন্যান্য বাচ্চার মতো ম্যার্কেল রুশ ভাষা শিখতেন। তিনি পূর্ব জার্মানির রুশ ভাষা প্রতিযোগিতায় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিশ্ববিদ্যালয়ের বারটেন্ডার ছিলেন

কার্ল মার্ক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান লিপজিপ বিশ্ববিদ্যালয়) পদার্থবিদ্যা অধ্যয়নকালে ম্যার্কেল ছাত্র ডিসকোতে বারমিডের পক্ষে কাজ করেছিলেন। তিনি নিজে একটি অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।

বার্লিন প্রাচীরের পতন উদযাপন

১৯৮৯ সালের নভেম্বর, বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর জার্মানিতে ৪০ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের সমাপ্তি ঘটে। ৩৫ বছর বয়সী ম্যার্কেল বার্লিন প্রাচীর পতনের রাতে প্রচুর আনন্দ উপভোগ করেছেন।

প্রথম স্বামীর নাম মোছেননি

ম্যার্কেল কাসনার জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৫৪ সালে। কার্ল মার্ক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে ১৯৭৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানী উলরিচ ম্যার্কেলের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তিনি আঙ্গেলা ম্যার্কেল হন। এই বিয়ে প্রায় পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিল। বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁর প্রথম নামটি ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ম্যার্কেল তার পর থেকে তাঁর প্রথম স্বামীর নাম রাখেন। ম্যার্কেলের দ্বিতীয় স্বামী জোয়াচিম সৌর বার্লিনের হাম্বল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। তিনি ২০০৩ সালে চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্কেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। জার্মান মিডিয়া তাঁকে ‘দ্য ফ্যান্টম অব দ্য অপেরা’ বলে ডাকে।

default-image

দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক নন শুধু, রান্নায়ও সমান দক্ষ

ম্যার্কেল তাঁর রান্নার দক্ষতায় খুব গর্বিত বলে জানা গেছে এবং বিশেষত বিভিন্ন ধরনের কেক বানান তিনি। বার্লিনে নিয়মিত সুপারমার্কেটে শপিং করেন। তিনি একবার নাইজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথনকে বলেছিলেন, তিনি প্রতিদিন সকালে তাঁর স্বামীর জন্য প্রাতরাশ তৈরি করেন।

বাবার কথা হৃদয়ে গাঁথা

১৯৯৫ সালে ম্যার্কেলকে কুকুর কামড়ানোর পর থেকে ম্যার্কেল কুকুর মারাত্মক ভয় পান। অভিযোগ করা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চ্যান্সেলরকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে একটি অনুষ্ঠানে বড় পোষা কুকুরটি এনেছিলেন। তিনি একদিন পুতিনকে তার বাবার একটি ঘটনা বলেন। তিনি জানান, ‘একদিন রাতে আমার পিতা পোষা কুকুর নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে দেখতে পান, রাস্তায় একজন পিতা তাঁর বাচ্চাকে নিয়ে না খেয়ে শুয়ে আছেন। “মানুষ না খেয়ে শুয়ে আছে, আর আমি কুকুর লালন করি।” কুকুর লালন এক ধরনের বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। আমার বাবার বিষয়টি আমাকে খুব নাড়া দেয়।’

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন