default-image

অনেক অনেক দূরের একটা দেশ নরওয়ের ছোট একটা শহর ট্রমসো। শহরটির জনসংখ্যা ৭০ হাজারের মতো। এখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা খুবই কম। সব মিলিয়ে ২৫-৩০ জন হবে। সবাই কোনো না কোনোভাবে এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারণ যারাই এখানে আসেন হয় মাস্টার্স প্রোগ্রামে অথবা পিএইচ ডি বা পোস্ট ডক করতে। কমিউনিটি অনেক ছোট হওয়ার কারণে বাংলাদেশিরা বলতে গেলে সবাই সবাইকে চেনেন।

প্রথমে শহরটা সম্পর্কে একটু ধারণা দিই। বাংলাদেশের মানুষের নরওয়ে সম্পর্কে ধারণা এমনিতেই একটু কম আর আমি যে শহরটাতে থাকি তার নাম এখানে আসার আগে আমি নিজেও জানতাম না। ছোট্ট একটা পাহাড় আর সাগরে ঘেরা শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার বলা যেতে পারে। বছরের আট মাস বরফের নিচে ঢাকা থাকে। আবহাওয়া আমাদের দেশের ঠিক উল্টো। কিন্তু আমরা বাংলাদেশিরা খুব সহজে মানিয়ে নিতে পারি বলে এখানে বাংলাদেশিদের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে খুব একটা কষ্ট হয় না।

default-image

বছরের দুই মাস এখানে সূর্য ওঠে না। নভেম্বরের ২১ তারিখ থেকে জানুয়ারির ২১ তারিখ পর্যন্ত সময়টাকে তাই ডার্ক পিরিয়ড বলা হয়। এই সময় আকাশে নর্দার্ন লাইট বা অরোরা বুরিয়াল দেখা যায়। এক অপূর্ব সুন্দর জিনিস। আকাশে লাল, সবুজ রঙের আলোর খেলা। এই অরোরা দেখতে অনেক পর্যটক এই সময়ে এখানে আসেন। আর বছরের দুই মাস এখানে আবার সূর্য অস্ত যায় না। মের ২১ তারিখ থেকে জুলাইয়ের ২১ তারিখ। এই সময়টাকে বলা হয় মিডনাইট সানের সময়। কারণ রাত ২টার সময়েও বাইরে ঝকঝকে রোদ দেখা যায়। সত্যি অদ্ভুত জায়গা। তবে সামারের সময় যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে এখানকার প্রকৃতি এক অদ্ভুত সৌন্দর্য ধারণ করে। চোখ ধাঁধান সুন্দর।

default-image

নরওয়েজিয়ানরা মোটামুটি সবাই ভালো ইংলিশ বলতে পারে। তাই আমরা বাংলাদেশিরা এখানে আসার পর ভাষার জন্য তেমন একটা সমস্যার সম্মুখীন হই না। তবে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাইলে ভাষার দরকার অবশ্যই। জাতি হিসেবে নরওয়েজিয়ানরা অনেক অমায়িক। তাই তাদের সঙ্গে সহজেই মেশা যায়।
এখানে মোটামুটি বাংলাদেশি খাবার পাওয়া গেলেও সব পাওয়া যায় না। বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু পাওয়া যায়। তাই বাংলাদেশি শিঙাড়া ও ফুচকার অভাব অনুভব করি প্রচণ্ডভাবে। বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু দেশি ইলিশ, রুইয়ের সঙ্গে কী আর তুলনা চলে কোনো কিছুর? আরও একটা ব্যাপার আছে। জিনিসপত্রের দাম প্রচণ্ড বেশি। তাই চাইলেও সবকিছু সব সময়ে কেনা যায় না। হিসাব আমাদের করতেই হয়।

default-image

দুনিয়ার এই উত্তরে আমরা কিছু বাংলাদেশি ভালোই আছি। এখানে আমরা একসঙ্গে ঈদ, পূজা, পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন করি। উইকএন্ডে ঘুরতে যাই। সুখে দুঃখে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়াই। ভালো লাগে বাংলাদেশ থেকে এত দুরে থেকেও বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে পারি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0