বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট থিয়ডরো অবিআংয়ের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি অব্যাহতভাবে গত দুই দশক ধরে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে এবং আফ্রিকা মহাদেশে অন্যতম অর্থনেতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এ দেশে উদীয়মান অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ ও কর্মঠ জনশক্তির জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর্থসামাজিক উন্নয়নে দ্রুত বেগে এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

আলাপকালে রাষ্ট্রদূত ইকুয়েটেরিয়াল গিনিতে প্রায় ২০০ বাংলাদেশি বিভিন্ন কোম্পানিতে ফাইন্যান্স ম্যানেজার, আইটি এক্সপার্ট, শিপিং এজেন্টসহ অন্যান্য পেশায় অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশিসংখ্যক দক্ষ কর্মী এ দেশে বৈধপথে আনার জন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তাব করেন। রাষ্ট্রদূত সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের মানসম্মত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, হিমায়িত মৎস্য, গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রিকস দ্রব্যসামগ্রী বাংলাদেশ থেকে আমাদানির আহ্বান জানান। তাঁরা উভয়ই বস্ত্র খাত, বাণিজ্য, পর্যটন ও দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগের মতো বিষয়গুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ব্যাপারে দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে স্বেচ্ছায় নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ইকুয়েটোরিয়াল গিনির সহায়তা কামনা করেন। প্রেসিডেন্ট থিয়ডরো অবিআং রোহিঙ্গা জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক পদক্ষেপের গভীর প্রশংসা করেন ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাঁর সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন। ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ব্যাপারে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত সারওয়ার মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনির উন্নয়নে অন্যতম অংশীদার হতে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট থিয়ডরো অবিআং রাষ্ট্রদূত সারওয়ার মাহমুদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কমনা করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

এদিকে ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিমেওন ওয়োনো এসোনোর সঙ্গেও তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ বর্তমানে স্পেন, অ্যান্ডোরা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনি—এই তিন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন