যারা দূর প্রবাসে থাকেন তাঁদের সবারই মা–বাবা বেশ চিন্তিত থাকে। বিশেষ করে মার মনকে বুঝ দেওয়া সব থেকে কঠিন। আমাদের বাড়ির অদ্ভুত অলিখিত নিয়ম হচ্ছে সেই ছাত্রজীবন থেকে তাদের আমিই ফোন করব। আমাদের আশপাশের বন্ধুদের দেখতাম, তাদের মা–বাবারা সব সময় তাদের ফোন করছে, আর তাদের ভাবটা এমন যেন তারা দিনের মধ্যে কয়েকবার ফোনে বেশ বিরক্ত। কিন্তু আমি সব সময়ই মিস করতাম তাদের একটা ফোনকল। অনেক বলে কয়ে বেশ কিছুদিন পরে পরে একবার–দুবার বাবা ফোন করে বসত, তাতেই আমি মহাখুশি থাকতাম। আমি ফোন করলে, প্রথমেই মাকে বলতাম, এখনো বলি, ‘তোমার গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেন, ঠান্ডা লেগেছে মনে হয়, কথা ভালো শোনাচ্ছে না কেন, মনে হয় অসুস্থ। এতবার বলি, কাজ বাদ দিতে পারো না ইত্যাদি ইত্যাদি।’ মা বলার সুযোগই পেত না আমার শরীরের ব্যাপারে। তাঁদের সময়ই দিতাম না বলার বা বোঝার, আমি খুব খারাপ আছি। এমনিতেই তাঁরা চিন্তা করেন আর চিন্তার বোঝা বাড়ানোর শখ আমার নেই। নিজের কষ্টগুলো আড়াল করে দেখা তাঁদের হাসি, চিন্তামুক্ত অনুভূতি, এর থেকে বড় পাওনা আমার কাছে আর কিছুই হতে পারে না।
(ডক্টরাল শিক্ষার্থী, Wageningen University and Research, The Netherlands)

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন