বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আধুনিক যুগে বাবা–মা জীবিকা নির্বাহের তাগিদে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন। ছুটির দিনে শিক্ষিত মা-বাবা অনেকেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সামাজিক বা লৌকিকতার আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকেন। আর এই বাস্তবতায় প্রায়শই কিশোর বা তরুণ সন্তানদের না বলা কথাগুলো অব্যক্ত থেকে যায়। এতে পরোক্ষভাবে প্রজন্মের প্রতি হয় অবিচার। এদিক থেকে ক্ষেত্রবিশেষে বাহবা পাওয়ার আশায় ছায়ার পেছনে দৌঁড়ে আমরা আমাদের জীবনের সারসত্য বা সাবস্ট্যান্সকে উপেক্ষা করছি। শিশু কিশোরদের বেড়ে ওঠার প্রতিটি পর্যায়ে তাঁদের অপার সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করতে হবে। তাঁকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করে, হেয় প্রতিপন্ন না করে তার ছোট–বড় ভালো যেকোনো সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে জীবনের প্রতিবন্ধকতাগুলোকে কীভাবে ভালোভাবে মোকাবিলা করবে, সে ব্যাপারে তাঁকে শিক্ষা দিতে হবে, আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে। শিশু, কিশোর বা তরুণটি বাইরের পরিবেশে কোনো সমস্যা বা হুমকির শিকার হচ্ছে কিনা, সে জন্য নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। প্রয়োজনে সময় সুযোগ অনুসারে মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিতে হবে। প্রতিটি মানুষ তাঁর জীবন পরিক্রমায় কোনো না কোনো মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে থাকে। সেটিই স্বাভাবিক আর তা আদৌ লজ্জা ও সংকোচের কোনো বিষয় নয়।

একজন মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলর আমাদের নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখতে, সমাজের সঙ্গে সংগতি বিধান করে চলতে, স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নির্দেশনা দিতে পারেন। বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত, ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মেডিটেশন, উৎপাদনশীল হয়ে নিজেকে ও সমাজকে সক্রিয় রেখে উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

সামাজিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞান প্রসারের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পাঠক্রমে বা নিয়মিত রুটিনে মানসিক স্বাস্থ্য ও মূল্যবোধ নীতি, ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা সম্পন্ন শিক্ষার বিষয়টি এমনভাবে সংযুক্ত করা দরকার, যেন প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষক বা শিক্ষক কিছুটা হলেও মানসিক কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্বভার নিতে পারেন। মানবিকতা ও মূল্যবোধের গুরুতর দিকটি নিয়মিত স্বল্পশিক্ষিত সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির জন্য সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে সমাজ উন্নয়ন কর্মীরা, সম্প্রচারমাধ্যম ও জননেতারা তাঁদের নিয়মিত আলোচনায় উপস্থাপনের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক ভূমিকা রাখতে পারেন।

সর্বোপরি, সুস্থ ও উন্নত মানবিক পরিবেশ প্রসারের নিরিখে আরোপিত গতানুগতিক একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির বলয় থেকে বের হয় আগামী প্রজন্মকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক অর্জন নয় বরং তাঁদের মনের দরজায় প্রবেশ করে সব কথা শুনে যথাযথ নির্দেশনা সমৃদ্ধ মানবিক সৎগুণের বিকাশে সাহায্য করা প্রয়োজন।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন