বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সাইক্লেডিক সভ্যতা ব্রোঞ্জ যুগের, অর্থাৎ ৫ হাজার বছর আগের সভ্যতা বুকে ধারণ করে আছে এ ছোট্ট দ্বীপ, গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে ১৪৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এবং আয়তনে মাত্র ১০২ বর্গকিলোমিটার। কাজের সুবাদে আমার অবস্থান নিওরিয়ন (Neorion) শিপইয়ার্ডে। ১৮৬১ সালে গড়ে ওঠা নিওরিয়ন ছিল গ্রিসের ইতিহাসে প্রথম শিপইয়ার্ড। এর পাশেই সমুদ্রবন্দর। থেকে থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষে বোঝাই ফেরি এসে ভিড়ছে বন্দরে। আছে ছোট-বড় প্রমোদতরি।

যদিও মধ্যযুগে সিসিলিয়ান, আরব, তুর্কি, ভেনিসিয়ানসহ বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণকারীদের দ্বারা সাইক্লেডসহ দ্বীপটি বেশ কয়েকবার বিধ্বস্ত হয়েছিল। তারপর অটোমান সাম্রাজ্যের (১৮২১-১৮২৯) বিরুদ্ধে গ্রিক স্বাধীনতাযুদ্ধের পরে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাইরোস একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

১৮৩০ সাল থেকে এখানে কাপড়, রেশম, জাহাজ নির্মাণ, চামড়া এবং লোহার বাণিজ্য গড়ে ওঠে। অনেক প্রাচীন সভ্যতার ছাপ বুকে ধরে আছে এই দ্বীপ, ছড়ানো আছে অনেক প্রাচীন গ্রিক স্থাপত্য। পুরোনো অট্টালিকা এবং সাদা রঙের ঘরগুলো পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে।

আছে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর এবং একটি পৌর গ্রন্থাগার। তার পাশের সিটি হলো শহরের কেন্দ্রে, মিয়াউলিস স্কোয়ারে, ক্যাফে, বসার জায়গা এবং খেজুরগাছ দিয়ে ঘেরা। রাস্তা পার হলেই বসার বেঞ্চ। এখানে বসে হিমেল বাতাসের সঙ্গে এক কাপ গরম কফি মন্দ না...ভাবতে অবাক লাগে, পিথাগোরাসের শিক্ষক দার্শনিক ফেরেসিডেসের আবাসস্থলও ছিল এই দ্বীপ!

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন