সাকার ফাঁসি বহালের রায়ে লন্ডনে উল্লাস

বিজ্ঞাপন
default-image

উচ্চ আদালতে কুখ্যাত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি বহালের রায় ঘোষণার পর ২৯ জুলাই বুধবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে গণজাগরণ মঞ্চ যুক্তরাজ্য শাখার ডাকে এক আনন্দ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে লন্ডনপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সন্তানসহ প্রজন্ম একাত্তর, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, জাসদ, সিপিবির কর্মী ও লেখক-সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত এ সমাবেশে সাকার ফাঁসির রায় সর্বশেষ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে স্লোগান ও বক্তব্য দেন অংশগ্রহণকারীরা। এ সব দাবি সংবলিত ব্যানার ফেস্টুন ছিল সকলের হাতে হাতে। এ ছাড়া মিষ্টি বিতরণ চলে একের পর এক।

default-image


রায়ে উল্লাস প্রকাশ ও তা কার্যকর করার দাবিতে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, যুগ্ম সম্পাদক নইম উদ্দিন রিয়াজ, দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীম আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামাল, আমান উদ্দিন, প্রকৌশলী মিফতা ইসলাম, সিপিবির সৈয়দ এনামুল ইসলাম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আনসার আহমদ উল্লাহ, প্রজন্ম একাত্তরের সভাপতি শহীদের সন্তান বাবুল হোসেইন, বার্মিংহাম উদীচীর সভাপতি এলাহি হক, কবি মুজিবুল হক, সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা, কবি হামিদ মোহাম্মদ, নাজনীন সুলতানা শিখা, সারওয়ার কবিরসহ বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। সমাবেশ সঞ্চালনায় ছিলেন যুক্তরাজ্য গণজাগরণ মঞ্চের নেত্রী অজন্তা দেব রায়।
লন্ডনে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করে বক্তারা বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী এ কুখ্যাত আল-বদর বিলেতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র করছে। এই নরঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারী জাতির দুশমনকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সবশেষে সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।

default-image

সমাবেশ শেষে পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত আলোচনানুষ্ঠান। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, বিলেত সফররত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যুবনেতা জামাল আহমেদ খান, নিঝুম মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মিফতা ইসলাম, ছাত্রনেতা সারওয়ার কবির, নারী নেত্রী নাজনীন সুলতানা শিখা, রুবি হকসহ সংস্কৃতিকর্মীরা।
বক্তারা কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে বিচারাধীন অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার প্রশংসা করে তার নেতৃত্বে জঙ্গি-মৌলবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তৃতা, আনন্দ উচ্ছ্বাস ছাড়াও আলতাব আলী পার্ক ও মন্টিফিউরি সেন্টারের উভয় সমাবেশে সমবেত সুধীদের উল্লসিত বিজয়চিহ্ন প্রদর্শন ও গণজাগরণ কর্মীদের মিষ্টি বিতরণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখ্য, সাকার রায় শোনার জন্য লন্ডনে অনেকে রাতে ঘুমাননি। বাংলাদেশে যখন সাকার রায় ঘোষণা করা হয় তখন লন্ডনে সময় রাত চারটা। লন্ডনপ্রবাসী কবি শামীম আজাদ ভোর পাঁচটায় তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন তিনি তখনো ঘুমাননি, রায় শোনার অপেক্ষায়। অনেকের মতো কবি শামীম আজাদেরও শঙ্কা ছিল রায় নিয়ে। শেষ পর্যন্ত ফাঁসির রায় বহাল থাকায় বিলেতের প্রবাসীরা সর্বত্র উল্লাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন। দোকান-রেস্টুরেন্ট ও কর্মস্থলে তারা মিষ্টি বিতরণ করেন। অন্যদিকে, জামায়াত ও বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করে।

default-image


বিলেতে মুক্তিযুদ্ধের তৃণমূল সংগঠক প্রবীণ ব্যবসায়ী গুলশান রেস্টুরেন্টের অন্যতম কর্ণধার আবদুল মছব্বির তার প্রতিক্রিয়ায় সাকা চৌধুরীকে বিগফিস উল্লেখ করে বলেন, এত বড় রাজাকারের ফাঁসি না হলে দেশের মানুষ শান্তি পাবে না।
যুদ্ধাপরাধীদের হুমকির মুখে বিলেতে আশ্রয়প্রার্থী (অ্যাসাইলাম) মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ঋতু হামিদ ও মুক্তিযোদ্ধার সহোদরা রেবা আখতার চৌধুরী উল্লসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। লন্ডনে সফররত সিলেট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী সাকার ফাঁসির রায় বহাল থাকায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিজয় উল্লেখ করে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে বিলেতের সংস্কৃতিকর্মী ও রাজনীতিকরা ফেসবুকে সাকার ফাঁসির দাবি বহাল থাকার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। উদ্বেগ আর শঙ্কামুক্ত অপেক্ষার পর রায় বহাল থাকায় আনন্দ প্রকাশ করেও শত শত স্ট্যাটাস দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন