default-image

বইমেলার অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে ছিল রক্তদান কর্মসূচি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি, অঙ্গ ও টিস্যুদান কর্মসূচি। এ ছাড়া বইমেলার একাংশে ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দিনব্যাপী চলে গান, কবিতা, নাচ ও নাটক। তা ছাড়া, চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ও ফেসবুক গ্রুপ পেনসিল অস্ট্রেলিয়ার আলোকচিত্র প্রদর্শনী ছিল উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানমালায় বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে আরও ছিল কিশলয়, ফুলকলি, একুশে অভিযাত্রী, জুম্মা সাংস্কৃতিক জোট, শখের থিয়েটারসহ আরও অনেকে। মেলায় বইয়ের পাশাপাশি দেশীয় খাবারেরও স্টল ছিল।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে অ্যাশফিল্ড পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল একুশে বইমেলা। জমজমাট আয়োজনে কোনো কমতি রাখেনি মেলার আয়োজক একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া। সারা দিনই প্রতিটি বইয়ের স্টলে ছিল বইপ্রেমীদের ভিড়। এবারের মেলায় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দর্শকসমাগমের মতোই প্রচুর বই বিক্রি হয়েছে বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।

default-image

তবে সিডনির এ একুশে বইমেলাকে আরও বর্ধিত করার পরামর্শ দিয়েছেন মেলায় আগত অনেকে। ঢাকার প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বই ‘জাদুশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ’–এর লেখক সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশি জাদুশিল্পী এম এ জলিল এবারের বই মেলা সম্পর্কে বলেন, ‘আলোর পেছনের অন্ধকারের মতো একটা বিষয় হলো সিডনি বইমেলায় নানামুখী আয়োজনের পেছনে বইমেলা আর লেখকেরা ঢাকা পড়ে যায়। বই আর লেখকদের আরও প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বইমেলার সঙ্গে অনেক আয়োজন খুব ভালো এবং বড় করেই করা হয়। এটা আমাদের প্রবাসীদের একটা বাঙালিয়ানা সময় পার করার জন্য অনেক। তবে অন্যদিকে উপস্থিত লেখকদের এক মিনিট কথা বলার সময় দেওয়া হয়। এতে বইয়ের প্রচার, বইয়ের প্রতি আকর্ষণ এসবের ঘাটতি থেকে যায়। আগামী দিনের জন্য আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে বই আর লেখকদের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার জন্য।’

default-image

সিডনির মিশুক বইমেলা থেকে এই একুশে বইমেলা পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর ধরে বই বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত বই বিক্রয়কেন্দ্র ‘মেরুদণ্ড’–এর স্বত্বাধিকারী ও লেখক আশীষ ভট্টাচার্য বলেন, ‘বইমেলায় সব সময় এ দেশের বাঙালি নতুন প্রজন্মদের অংশগ্রহণে কমতি দেখা যায়। আমরা যারা আছি, তারা সংস্কৃতি ধারণ করি বলেই এত বছর ধরে বইমেলার আয়োজন করে আসছি। তাই এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন নতুন প্রজন্মদের আরও বেশি যুক্ত করা। এ ছাড়া স্টলবিন্যাসেও একটা সমস্যা থাকে, তবে সেটা মানিয়ে নেওয়া যায়, পরিবর্তন করতে পারলে ভালো।’

সিডনিপ্রবাসী সাংবাদিক কাজী সুলতানা শিমি একই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ছোট বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় আয়োজন আরও বেশি থাকা উচিত যেন তারা নিজে থেকেই এ সংস্কৃতি ধারণ করাটা বুঝে উপভোগ করতে শেখে। এ জন্য আমি নিজেও একটি “প্রজন্ম” নামে স্টল রাখি আর শিশুদের দিয়েই এটি পরিচালনা করার চেষ্টা করি। কর্তৃপক্ষকে বলব যেন মেলায় শিশু-কিশোর-তরুণদের আয়োজন আরও বেশি রাখার এবং যতটুকু সম্ভব পরিচালনার দায়িত্ব তরুণদের হাতেই তুলে দেওয়ার। এতে আমরা যখন থাকব না, পরবর্তীকালে এরাই যেন বাংলা সংস্কৃতির বাহক হতে পারে।’

default-image

মেলায় আগত সংস্কৃতিকর্মী ও ফেসবুক অ্যাকটিভিস্ট শুভজিৎ ভৌমিক মেলার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মেলার সব আয়োজন চমৎকার লেগেছে। তবে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালির এই আয়োজন অনেকটায় অবহেলিত। মেলার পরিধি আর প্রচার বৃদ্ধিতে আরও অনেকের, অনেক প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত।’ তিনি এই বইমেলায় বাংলাদেশের প্রকাশকদেরও অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানান।

মেলায় বই বিক্রেতা এবং ল্যাকেম্বায় বই বিক্রয় ঘর ‘প্রশান্তিকা’–এর স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান এবারের বইমেলায় ভালো বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বই বিক্রি ছিল ভালো। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাঙালি লেখকদের বইও বিক্রি হয়েছে প্রচুর। সব মিলিয়ে এক দিনের এই মেলায় এবার প্রায় ১০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, ‘গত বছর বইমেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজনের কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে সেটাও করা সম্ভব হয়নি। এরপর অনেক ঝুঁকির মধ্যেও ঠিক একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়েই আমরা এবারের বইমেলার আয়োজন করি। সবাইকে ধন্যবাদ সহযোগিতা করার জন্য।’

বইমেলায় প্রকাশক ও লেখকদের সঙ্গে স্থানীয় বাংলাদেশিদের গল্প আড্ডায় সময় পার করতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত এই মেলায় সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মাতৃভাষা উদ্‌যাপন ও বইমেলাকে সফল করে তোলে বলে জানান আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান। আগামী বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি এ বইমেলা আয়োজন করার প্রত্যয় নিয়ে সমাপ্ত হয় এবারের সিডনির একুশে বইমেলা।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন