default-image

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নবনির্মিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সৌধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। নতুন সৌধটির নকশা অমর একুশে কিংবা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কোনোটিরই গুরুত্ব বহন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সিডনির প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে। নবনির্মিত সৌধটি নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করবে বলেও ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন তাঁরা। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সিডনির লাকেম্বাতে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে মিডিয়া প্রতিষ্ঠান বাসভূমি। এতে সিডনির স্থানীয় বাংলাদেশি বিভিন্ন সংগঠনের কিছু ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টারবারি-ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে সিডনির বাঙালিপাড়াখ্যাত লাকেম্বার নিকটবর্তী বেলমোরের পিল পার্কে উদ্বোধন করা হয় এই নতুন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সৌধটি। এর আগে ২০০৬ সালে সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে দেশটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সৌধ নির্মিত হয়। পিল পার্কের নতুন এ মাতৃভাষা সৌধটির নকশায় একজন মা ও ডানে-বাঁয়ে তাঁর দুই সন্তানকে আগলে রেখেছেন এবং ওপরে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাসাদৃশ্য প্রতীক রয়েছে। পেছনে রয়েছে বাংলাসহ আর কিছু ভাষার কথা। তবে নির্মাণকাজ শুরুর আগে পৃথিবীর নকশায় বাংলা ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষার অক্ষর খচিত একটি ২৮ ফুট উচ্চতার নকশা প্রস্তাবনা করা হয়েছিল। প্রাথমিক অবস্থায় এ সৌধ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার। এর একটা বড় অংশ স্থানীয় বাংলাদেশিরা সংগ্রহ করে ক্যান্টারবারি ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলকে দিয়েছিল। ক্ষোভ প্রকাশকারীদের অধিকাংশের প্রত্যাশা ছিল সৌধটি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মতো হবে।

default-image

তবে কমিউনিটির উদ্যোক্তাদের মতে, এই সৌধ যে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মতো হবে না, সেটা তহবিল সংগ্রহের আগেই জানানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার চলমান স্বাস্থ্যবিধির কারণে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টারবারি-ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের এই সৌধটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুব কমসংখ্যক ব্যক্তি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। অনেকে বলছেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পেয়ে কেউ কেউ এই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন