সৌধের ইন্টারপ্রিটেশন অব আইজাক লেভিটান থ্রু ইন্ডিয়ান ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক

বিজ্ঞাপন
default-image

কবিতা ও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত দিয়ে রুশ চিত্রশিল্পী আইজাক লেভিটানের অসামান্য চিত্রকর্মের নতুন ব্যাখ্যা, নতুন মাত্রা এবং অভিনব অর্থ-দ্যোতনা তৈরির আয়োজন করে ব্রিটেনে বিশ্ব সংগীত ও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের শীর্ষ সংগঠন সৌধ। ‘ইন্টারপ্রিটেশন অব আইজাক লেভিটান থ্রু ইন্ডিয়ান ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক’ শিরোনামের এই অভূতপূর্ব ডিজিটাল পরিবেশনায় সম্প্রচারিত হয় সৌধ গজল ঠুমরি ও খেয়াল। ফেস্টিভ্যালের ফেসবুক পেজ থেকে গত রোববার সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) এটি প্রচারিত হয়। সৌধ পরিচালক কবি টি এম আহমেদ কায়সারের ভূমিকা, পরিচালনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে আইজাক লেভিটানের বিষাদ-বিধুর ও নিঃসঙ্গতামগ্ন ১০টি চিত্রকর্মের সঙ্গে ছিল রাগসংগীত ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার কবিতা দিয়ে এক নতুন অর্থসম্পাত এবং কালজয়ী চিত্রকর্ম নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকপাত।

চিত্রকর্মের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ধরে সংগীত পরিবেশন করেন কিরানা ঘরানার স্বনামধন্য শাস্ত্রীয় শিল্পী সনহিতা নন্দী, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ভায়োলিনবাদক স্বর্ণা খুন্তিয়া, প্রখ্যাত সেতারবাদক সাহানা ব্যানার্জি, শাস্ত্রীয় কণ্ঠশিল্পী মীনাক্ষী মজুমদার ও রামপ্রসন্ন ভট্টাচার্য। পাবলো নেরুদা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও লোরকা থেকে পাঠ করেন শুবার্ট গায়ক এরিক শিলিন্ডার।

এই ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশনার নির্দেশক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, ‘আইজাক লেভিটানের ল্যান্ডস্কেপগুলো আসলে একেকটা কালজয়ী কবিতা। আমি বারবার এই চিত্রকর্মের জন্য নতুন যোগাযোগের সেতুর সন্ধান করছিলাম। বারবারই এগুলো নতুন বোধের মুখোমুখি করে তোলে। যতবারই প্রতীচ্যে যা কিছু করার চেষ্টা করেছি, চেয়েছি; নতুন একটা যোগাযোগের সেতু তৈরি হোক প্রাচ্যে এবং প্রতীচ্যে। নতুন দর্শক তৈরি হোক চিত্রকর্মের, কবিতার, নাটকের, সংগীতের এবং বলতে গেলে প্রতিটি শিল্পমাধ্যমের। এই প্রয়াসগুলো অনুপ্রেরণা তৈরি করুক আরও শিল্পীদের মধ্যে যেন এসব প্রয়োজনীয় সমবায়ী উদ্যোগ দিয়ে আমাদের বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমজগতের সব মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আইজাক লেভিটানের চিত্রকর্মের দর্শকেরা যেমন আমাদের শাস্ত্রীয় সংগীতের জাদুতে আক্রান্ত হতে পারেন, ঠিক তেমনি আমাদের শাস্ত্রীয় সংগীতের শ্রোতারা আইজাক লেভিটানের মতো অসামান্য চিত্রশিল্পীর কালজয়ী কর্মের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। কিন্তু এই মিথষ্ক্রিয়া বা সমবায়ের মধ্যে যে সূক্ষ্ম সেতু নির্মিত হবে, তার একটা দার্শনিক ভিত্তি থাকতে হবে; অন্যথায় এই প্রয়াসগুলো কুটিরশিল্প হয়েই পড়ে থাকবে।’

default-image

আহমেদ কায়সার বলেন, ‘যাঁরা এই নতুন ইন্টারপ্রিটেশনে সংগীত পরিবেশন করেছেন, তাঁরা নানাভাবেই ভারতীয় মার্গ সংগীতের উজ্জ্বল প্রতিনিধি। আশা রাখছি, বিশ্ব কবিতা ও সংগীত, পালাগান ও অপেরা ইত্যাদির মতো এই উদ্যোগও একদিকে যেমন নতুন দর্শক তৈরি করবে, অন্যদিকে আরও নতুন নতুন সমবায়ী প্রকল্পে শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। করোনার ক্রান্তিকাল শেষ হলেই সৌধ এমন নতুন নতুন দর্শন প্রপঞ্চ ও শিল্প-ধারণা নিয়ে নানামুখী অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন