বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘নাড়ির টানে ঐতিহ্যের বন্ধনে, চলন যাই মেজ্জান খাই’ স্লোগানে আয়োজিত মেজবান উৎসব স্পেনের স্থানীয় সময় রাত আটটায় শুরু হয়ে একটায় শেষ হয়। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল মেজবান খাবার ভাত, গরুর মাংস ও ডাল। মেজবানে দল–মতনির্বিশেষে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের হলরুম প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। উৎসবে মাদ্রিদ ও আশপাশের শহরে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসী ছাড়াও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি এতে অংশ নেন।

বাংলাদেশিদের মিলনমেলা ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা মাদ্রিদের ব্যবসায়ী এস এম বদরুল হকের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় উৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি ব্যবসায়ী কাজী এনায়েতুল করিম; সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল আলম; চট্টগ্রাম সমিতির প্রধান উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ; বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম সমিতির উপদেষ্টা মো. দুলাল সাফা এবং চট্টগ্রাম সমিতির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন চৌধুরী ও সাইফুদ্দিন সাইফু। পরে তাঁদের এ পরিকল্পনায় যোগ দেন ব্যবসায়ী মিঠু করিম, লোকমান হাকিম, কুতুব উদ্দিন, রোকন, মোরশেদুল আলম আজম, হাছানসহ চট্টগ্রামবাসী।

দুই হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। মেজবানে অংশ নিয়ে তাঁরা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নেন। প্রতিবছরই মাদ্রিদে চট্টগ্রাম সমিতি কোনো ফি ছাড়াই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান খাবারের আয়োজন করে থাকে।

default-image

মেজবানে সপরিবার উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারোয়ার মাহমুদ। দূতাবাসের কর্মকর্তা–কর্মচারীরাও মেজবানে অংশ নেন। এ ছাড়া কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আল মামুন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মো. ফজলে এলাহী, মোজাম্মেল হক, নুর হোসেন পাটোয়ারী, মো. রিজভী আলম, হেমায়েত খান, এইচ এম মাসুদুর রহমান, রমিজ উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, কবির আহমদ, তোতা কাজী, স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাহাদুল সুহেদ প্রমুখ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিকে একসঙ্গে দেখে ভালো লাগছে। এ ধরনের আয়োজন কমিউনিটিতে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে। তিনি এমন আয়োজনের জন্য প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

আয়োজনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুগ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে এভাবেই প্রবাসেও দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ অব্যাহত রাখতে চান।
মেজবানের প্রধান উদ্যোক্তা এস এম বদরুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রবাসেও লালন করার প্রত্যয় নিয়ে মেজবান উৎসবের আয়োজন।’ একসঙ্গে এত প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতি নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন