default-image

৪ মার্চ, আমাদের অভিবাসনের চার বছর পূর্ণ হলো। শুধু এ চার বছরের স্মৃতিই নয়, মনের পর্দায় ভেসে উঠছে অভিবাসনপ্রক্রিয়া চলা সময়গুলোও। গল্পটা ঠিক শুধু আমার নয়, আমাদের জীবনের একক অধ্যায়। আমি ছোটবেলা থেকেই বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলাম। স্বপ্ন দেখতাম দেশ–বিদেশে ঘুরব; নানা জাতি, বর্ণ ও সংস্কৃতির স্বাদ অন্বেষণ করব। এর পেছনে অবশ্য আরেকটা কারণও ছিল, যেটা পরবর্তীকালে অনুধাবন করেছিলাম। হাস্যকর শোনালেও এটা সত্য যে আমার বিভুঁই স্বজনেরা ছিলেন আমার প্রাথমিক অনুপ্রেরণা। খুব ছোট বয়সে দেখতাম, যখন তাঁরা দেশে আসতেন, তখন মনে হতো তাঁরা কত সুখী। দেশে থাকার সময়গুলোয় তাঁদের চোখে জয়ের আনন্দ, দেওয়ার গর্ব আর তাঁদের জন্য সবার চোখে প্রচণ্ড সম্ভ্রম, আমাকে যারপরনাই আকর্ষণ করত। দেশে সমাজের মানুষদের প্রায়ই বড়াই করতে দেখতাম, কার কত আত্মীয় কত দূর দেশে থাকে, তা নিয়ে। এ জাতীয় মনোভাবের জন্য আমি আর্থসামাজিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করব। যা হোক, সে আলোচনা পরবর্তী সময়ের জন্য তোলা থাক।

বলছিলাম, আমাদের অভিবাসনের পূর্ব ও পরবর্তী কিছু সময়ের কথা। স্মৃতিগুলো বড্ড এলোমেলোভাবে উঁকি মারছে। কোনটা দিয়ে যে শুরু করি, তার খেই হারিয়ে ফেলছি। যা হোক, অভিবাসনের অভিপ্রায় বাল্যকাল থেকে থাকার কারণেই আমার মাতা–পিতাও বেশ সতর্ক ছিলেন যেন দুম করে কিছু করে না বসি। মা সায় দিতেন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে পূর্ণ যোগ্যতা নিয়েই অভিবাসিত হতে। এ ক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ দিতেন আমার মেজ মামার। প্রচণ্ড মেধাবী এই মানুষ সপরিবার অভিবাসী হয়েছিলেন কানাডায়। আর এ কারণে মা যখন তাঁর উদাহরণ টেনে কথা বলতেন, আমি মনে মনে বেশ নিরাশ হয়ে পড়তাম। কারণ আমি না ছিলাম মেধাবী, না ছিলাম মেধাবী হওয়ায় আগ্রহী। যা–ই হোক, একরকম আশা ছেড়ে দিয়েই জীবনের স্রোতে ভেসে চলেছিলাম। এর মধ্যে একদিন মা হঠাৎ করেই বললেন, তাঁর কর্মসূত্রে পারিবারিকভাবে বন্ধুত্ব হওয়া একজনের সন্তানের কথা, যিনি কিনা সে সময় উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে সুইডেনে অভিবাসিত হয়েছিলেন সাম্প্রতিক সময়ে। বলে রাখি, এর মধ্যে আমার বিয়েও হয়ে গেছে। সালটা তখন ২০০৮। আমি দেখলাম, এ সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।
একটু বলে রাখি, আমিসহ পুরো পরিবার এককভাবে মায়ের ওপরই পুরোদমে নির্ভরশীল ছিল ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য। তো, মায়ের অনুমতির আভাস পেয়েই আমি লেগে পড়লাম কী করে বিনা বেতনে উচ্চশিক্ষার জন্য সুইডেনে পাড়ি জমানো যায়, তা জানতে। আর এ ব্যাপারে অজয় ও সুস্মিতা আমাকে বেশ সাহায্য করেছিলেন, যাঁরা মার কর্মসূত্রে পারিবারিক বন্ধুর সন্তান। সে সময় প্রথম বিদেশযাত্রা, তা–ও আবার সপত্নীক। একটু বলে রাখি, আমার বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নটা ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে আমার সহধর্মীর মধ্যেও ডাউনলোড হয়েছিল। যা–ই হোক, সুইডেনে বছর খানেকের বেশি থাকা হয়নি আমাদের। মায়ের হঠাৎ করেই শরীর খারাপ হওয়া, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুপথযাত্রীর শামিল হওয়া, প্রচণ্ডভাবে পত্নীনির্ভর আমার পিতার পাগলপ্রায় অবস্থা আর আত্মদহনে নিষ্পেষিত আমরা (আমি আর আমার পত্নী প্রিয়া) সিদ্ধান্ত নিই দেশে ফিরে যাওয়ার।

বিজ্ঞাপন

দেশে এসে শুরু হয় আরেক সংগ্রাম। মাতৃবিয়োগের ধাক্কা সামলে না উঠতেই বাস্তবতার প্রচণ্ড কৌশলী ও নির্দয় লীলাখেলার সাক্ষী হতে থাকি হতবাক আমরা দুজন। সে সময় টের পেয়েছিলাম, সোনা পুড়লে যেমন খাঁটি হয়, তেমন মানুষ খাঁটি হয় প্রচণ্ড কষ্টে। আমার ইতিবাচক মানসিকতার সূচনা এ সময় থেকেই! মোটামুটি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলাম বিদেশে থাকার স্বপ্ন প্রবাসে রেখে এসেই। তখন সবকিছুই শুরু করতে হয়েছিল প্রায় নতুন করে।

সে সময় প্রায় দেবদূতের মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন পিন্টু চাচা, সম্পর্কে বাবার কাকাতো ভাই। তাঁর সম্পর্কের হস্তক্ষেপে মিনা বাজারের স্বল্প বেতনের চাকরিটা পেটে ভাত জুগিয়েছিল। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’তে একটা লাইন ছিল অনেকটা এ রকম, ‘কেউ সবকিছু হারিয়ে ময়না দ্বীপে যায়, আর কেউ–বা সব হারিয়ে ময়না দ্বীপ ছাড়ে’! আমাদের অবস্থা ছিল অনেকটা সে রকমই।

প্রচণ্ড মাতৃনির্ভর সংসার হঠাৎ অভিবাবকহীন হয়ে পড়ায় পালহীন, নাবিকহীন নৌকার মতো মাঝসমুদ্রে গোত্তা খেয়ে বেড়াচ্ছে যেন। আমাদের সংসার মাতৃনির্ভর ছিল বলেই কি না, দারুণভাবে চারদিকে প্রভাব বিস্তার করে থাকা মায়ের হঠাৎ অভাব, থেকেও না থাকার মতো অসুস্থ পিতার পক্ষে সামলে নেওয়া সত্যিই অকল্পনীয় ছিল। এ জন্য তাঁকে কোনোভাবেই দায়ী করা যায় না। সে সময় আমি নিদারুণভাবে বুঝেছিলাম, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাটা একটা বিশাল দক্ষতা, যা নেওয়ার মতো সৎ সাহস ও বুদ্ধিমত্তা অনেকের জীবনেই আসে না।

গল্পের মোড় অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে! সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কোনো এক লেখায় পড়েছিলাম, গল্পের ঘোড়াকে সীমানা দিয়ে চালাতে সব সময়ই বেগ পেতে হয়। যা–ই হোক, বলতে চাইছিলাম কীভাবে আবার হঠাৎ অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করলাম, স্বল্প বেতনে ওই বিশাল খরচের কীভাবেই বা জোগান হলো আর এসবের যোগ্যতাই–বা কীভাবে অর্জন করলাম! সত্যি বলতে অভিবাসনের চিন্তা আমাদের দুজনের মাথা থেকেই ঝেড়ে ফেলেছিলাম।

default-image

সালটা ২০১২। বাবাকে হঠাৎ করেই এখানে, মানে সিডনিতে ঘোরাতে নিয়ে আসেন আমার সেজ কাকা। তিনি এখানে সপরিবার ২৫ বছরের অভিবাসী। অস্থির মনের, অসুস্থ বাবা কিছুটা হলেও হাওয়া পরিবর্তনের ধাক্কায় সে সময় একটু হলেও জীবনে প্রাণ ফিরে পান। প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে প্রায় ৩০ দিনের অধিক সময় আত্মীয়–পরিজন নিয়ে যে শ্রষ্ঠ সময় তিনি কাটান, তাতে তাঁর বিদেশ সম্পর্কে ধারণাটাই পাল্টে যায়। বাড়ি ফিরে তিনি প্রথম কথাটাই বলেন, ‘তোমরা একটু চেষ্টা করে দেখো, যেতে পারো কি না।’ হঠাৎ করেই ইচ্ছেপাখা মেলতে শুরু করলেও ভবিষ্যতের নানান চিন্তায় মুখ গুঁজে রাখি। তবে কী, সুপ্ত বীজে জল–হাওয়ার দোলা বীজের প্রতিকূলতা অতিক্রমেরই সহায়ক। আর তা–ই হয়েছিল। এর মধ্যে সময়বিশেষে আমার মেজদা রোপিত বীজে জল দেওয়ার মতো উৎসাহ দিতে লাগলেন। আমার শুধু দুটো চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেত। এক, বাবার কী হবে; দুই, আমরা পারব তো! প্রথম চিন্তার সমাধান করেছিলেন সেজ কাকা। স্কিলড ইমিগ্র্যান্ট হয়ে এলে কিছুদিনের মধ্যেই অভিভাবক আনা যায় অথবা স্থায়ী বসবাস নেওয়ার কিছুদিন পর দেশে ফিরে আসা যায়, এ ধরনের কিছু তথ্য–উপাত্ত হাজির করলেন তিনি। ঠিক আছে, প্রথম চিন্তাটার তো সমাধান হলো, কিন্তু দ্বিতীয়টা?

আমার গল্পটা এখানেই। আমি ইতিবাচকতা বা পজিটিভিটিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু তখন কেন যেন বারবার গোত্তা খেয়ে মুখ থোবড়ানো ঘুড়ির মতো নিম্নমুখী মানসিক অবস্থা। এর একটা বিশেষ কারণ, করুণ অর্থনৈতিক অবস্থা। আর তা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া আত্মীয়স্বজন পরিবেষ্টিত সমাজব্যবস্থা। ‘সামাজিক অবস্থান মনে রাখা উচিত’, ‘তোরা সব সময়ই গরিব থাকবি’—এসব অপমানজনক কথা আজও আমাকে উৎসাহ জোগায়।

এভাবে বছর ঘুরতেই একদিন টনক নড়ল। কারণ এত দিন ছিলাম, করতে হবে, করতে হবে অবস্থানে। কিন্তু কীভাবে, কোথা থেকে, তার কোনো কিনারা বা সমাধানের চেষ্টা করিনি। সেদিন মেজদার ঐ ফোনালাপটাই পাল্টে দিয়েছিল আমার চিন্তাচেতনা। ‘নিজের যোগ্যতাটা আগে তৈরি কর, বাকিটা হয়ে যাবে’। শুরু করলাম প্রথম ধাপ, ইংরেজি যোগ্যতার পরীক্ষা, মানে IELTS পরীক্ষা, যার একবার পরীক্ষা ফি ৯ হাজার ২০০ টাকা এবং সময়বিশেষে ঊর্ধ্বমুখী। আর এটা জোগাড় করতে তিন-চার মাস সময় লাগত। সারা জীবন বাংলা মাধ্যমে পড়ালেখা করা যে কারও জন্য এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। মনে আছে, প্রথম পরীক্ষার ফি এক আত্মীয়ের কাছ থেকে নিয়েছিলাম তিন মাসের জন্য। তার জন্য খুব অপমান সহ্য করতে হয়েছিল। নিঃস্ব বাবার কাছে দেওয়ার মতো ছিল না কিছু। ঠিক করলাম, ব্যাংক থেকে ছোটখাটো ঋণ নেব। হয়েও গেল কীভাবে যেন। ৯ হাজার টাকা সীমানার অনিরাপদ ঋণ মানে ক্রেডিট কার্ড। এটার প্রয়োজন ছিল, কারণ আমি প্রথম পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাইনি। বসলাম দ্বিতীয় পরীক্ষায়, সেই ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা নিয়ে। সেটা শোধ করেছিলাম চার মাস অফিসে হেঁটে যাতায়াত করে এবং দুপুরে মধ্যাহ্নভোজন ব্যতিরেকে। অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অফিসের চায়ের ওপর। কারণ, ওটা ফ্রি ছিল। আর এটা শুধু আমি না, আমার অর্ধাঙ্গীও করতেন। যা হোক, দ্বিতীয়বারে উতরে গেলাম।
অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়া চলে নম্বর পদ্ধতিতে এবার পরবর্তী পালা শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা যাচাই। ছোটবেলা থেকেই মাকে বলতে শুনতাম, প্রচণ্ড ইচ্ছার কাছে সৃষ্টিকর্তা ধরাশায়ী। এ সময় প্রায় দ্বিগুণ বেতনে পেয়ে গেলাম নতুন চাকরির সন্ধান। উৎফুল্ল চিত্তে ভেবেছিলাম, দারিদ্র্যের অবসান হয়েছে! কিন্তু বিধি বাম। এবারের খরচ প্রায় আইইএলটিএস পরীক্ষার পাঁচ গুণ। সেই খরচ জোগাড় করতে করতে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হলো। মেয়াদ শেষের প্রায় ৬০ দিন আগে জমা দিতে পেরেছিলাম কাগজপত্র। ফলাফল এল তিন মাস পর। তত দিনে পরীক্ষার মেয়াদ শেষ। দরখাস্ত আহ্বানের (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট, সংক্ষেপে ইওআই) জন্য দিতে হবে কাগজপত্র, সঙ্গে শর্ত আইইএলটিএস পরীক্ষার নতুন পরীক্ষার ফল সংযুক্তি। আবার সেই কাঙ্ক্ষিত নম্বরের জন্য যুদ্ধ। তবে এবারেরটা উতরে গেলাম সহজেই। ইওআইর কাগজ জমা দেওয়ার চার থেকে পাঁচ মাসের মাথায় খবর পেলাম, আমি যে প্রফেশনে আবেদন করেছি, তা সাময়িক স্থগিত। মোদ্দাকথা পুরো অনিশ্চয়তা। অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়া নম্বর পদ্ধতিতে চলে। এতে করে কারও একক প্রক্রিয়া পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। শুরু করলাম আমাদের সামগ্রিক পয়েন্ট/ নম্বর বাড়ানোর প্রক্রিয়া। একটাই উপায়, স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চাকরির অভিজ্ঞতা যাচাই করা। এখানে ভাগ্য সহায় হলো কিঞ্চিৎ। আলাদা হলেও আমাদের দুজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা বৃহত্তর বিভাগের অন্তর্গত। এখানে আবার সেই প্রাথমিক পর্যায়ের যুদ্ধ। কেন জানি, আমার দেখা সব যুদ্ধই অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে আবার প্রায় দ্বিগুণ বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে সুযোগ। একটা কথা বলে রাখি, এর মধ্যে আমি প্রতিনিয়ত এঁকে যেতাম স্বপ্ন সফলের চিত্র। প্রতি মূহূর্তে উৎকণ্ঠা।

বিজ্ঞাপন

কারণ, দেখতে দেখতে প্রায় সাড়ে তিন বছরের মতো সময় এবং সঙ্গে এতগুলো টাকা। প্রায় সাড়ে তিন বছরের মাথায় ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ সকালে ই–মেইলটা পেলাম। শর্ত, ৩০ দিনের ভেতর পাড়ি জমাতে হবে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। এত দিনে আমরা দুই থেকে চার হয়েছি। তার বিমান ভাড়া, কিছুদিন চলার মতো সম্বল, কিছুই তো নেই। ভেবেছিলাম ফলাফল যদি ইতিবাচকও হয়, নিদেনপক্ষে ১০-১২ মাসের একটা সময় স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যাবে। আর এর মধ্যেই চাকরির প্রভিডেন্ট ফান্ডের পরিপক্কতায় উঠে আসবে অনেকগুলো টাকা। বিধি বাম! আমার প্রতিটা প্রাপ্তি এত কষ্টের আর দীর্ঘ অপেক্ষার যে ধৈর্য রাখা খুব মুশকিল। যা হোক, শেষবারের মতো ব্যাংক থেকে ঋণ নিলাম। এ ক্ষেত্রে আমার সর্বশেষ চাকরিটা বেশ সাহায্য করেছিল। অভিবাসনপরবর্তী গল্পটা শুধুই পরিশ্রমের। এর একমাত্র কারণ, আমি নিজের কাছে সৎ থাকতে চেয়েছি। যে ঋণ আমি করেছিলাম এ দেশে, শ্রমের বিনিময়ে গত চার বছরে তা পরিশোধ করেছি।

এত কিছু বলার একটাই উদ্দেশ্য। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সব সময় নিজেকে আরামের জায়গা (কমফোর্ট জোন) থেকে বাইরে আনতে হয়। রাখতে হয় প্রচণ্ড ধৈর্য। আর চিন্তাচেতনা থাকতে হয় উদ্দেশ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে (ফোকাসড)। নুন আনতে পান্তা ফুরায় যাঁর, তাঁর জন্য এটা একটা অর্জনই বলা চলে। কারণ, এ প্রক্রিয়া চলাকালে যে শারীরিক, মানসিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, তার সাক্ষী শুধুই আমরা দুজন।
কষ্টের মূল্য সৃষ্টিকর্তা দেবেনই। কথায় আছে, যেখান থেকেই শুরু করুক না কেন জয় পাণ্ডবদেরই, কেননা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের সহায়। আমার অভিবাসনের পুরো প্রক্রিয়া সফল হওয়ার পেছনে এ রকমই একজন কৃষ্ণসম বন্ধু ছিলেন, পারিজাত গোস্বামী। তিনি কোথায়, কীভাবে, কখন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন, তা বলব না। শুধু এটুকু বলতে চাই, প্রতিটা পদক্ষেপে তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ছাড়া কিছুই হতো না।
আমার ক্ষুদ্র জীবনে এ রকম অনেক সাফল্য, পরাজয় আর পরিশ্রমের গল্প আছে, যা হয়তো মিলে যাবে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে। আহামরি কিছু নয়। তবে কেন তুলে ধরা? শুধু ইতিবাচক শক্তিটাকে ছড়িয়ে দেওয়া, এটুকুই!
*পার্থ পাল, হিলস, ডেল, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন