বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেন?
যখন আমাদের বিয়ে হবে, তখন হানিমুনে অবশ্যই সমুদ্রের ধারে যাব। তখনই প্রিন্ট করে ভালোবাসার মানুষের ছবিগুলো ওখানে ছেড়ে দিয়ে আসব ভাটার সময়। যেন সমুদ্র তোমাকে ধারণ করে রাখে।

আকাশ তো আমি ছুঁতে পারব না। যদি কখনো দূরে যাও, সাগরের পানি ছুঁয়ে তোমাকে অনুভব করব। যেখানেই আমাদের ঘর বসাই না কেন, ধারেকাছে সাগর থাকতেই হবে। সব সমুদ্র একটার সঙ্গে আরেকটা যুক্ত। কোনো না কোনোভাবে তোমার ছবিগুলো থেকে যাবে সাগরেই।

এ রকম অদ্ভুত রোমান্টিক ভাবনা কী করে মাথায় এল?
জানি না...কিন্তু তোমার সঙ্গে প্রেমের পর এসেছে ভাবনাটা। আর যদি আমার মৃত্যু হয়, তখন যেন তোমার ছবি আমার কবরে দিয়ে দেওয়া হয়, এ রকম একটা ইচ্ছা লিখে রেখে যাব। মৃত মানুষের ইচ্ছাকে সবাই সম্মান করে। পৃথিবীর কাছে আর কিছু চাই না তো তোমাকে ছাড়া। কবরে ঘুমিয়েও তোমাকে পাশে চাই।

জামিলের খুব মন খারাপ হয়ে গেল হঠাৎ! মেয়েটা এমনভাবে বলছে, একবারে কলজে ছুঁয়ে যাচ্ছে! কী বলবে সে, বুঝতে পারছে না। এ রকম ছিঁচকাঁদুনে মেয়ে জামিল আগে কখনো দেখেনি। একটু কষ্টে আফসানা কেঁদে একেবারে বুক ভাসিয়ে ফেলে। মাঝেমধ্যে বিরক্ত লাগে, কিন্তু একটু দূরে গেলেই এই পাগলীধরনের মেয়েটার জন্য তার মন কেমন করতে থাকে!

বলো, তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না? আমি কিন্তু মরে যাব। আত্মহত্যা করব না, তবে জেনো মরে যাব ঠিকই। একটু একটু করে নিজেকে কষ্ট দিয়ে মরব।
কী মুশকিল! ছেড়ে যাওয়ার কথা আসছে কেন?
তুমি সুন্দর কোনো মেয়ে দেখলেই কেমন ভালো লাগার দৃষ্টিতে তাকাও, আমার ভালো লাগে না।

কী সব কথা! ভালো লাগা দৃষ্টি আবার কেমন? আমার দিকে তাকিয়ে একটু দেখাও তো অফ? আফসানাকে জামিল সংক্ষেপে অফ ডাকে। ক্ষণে ক্ষণে মুড অফ হয় বলে তার নামের সঙ্গে একটু মিলিয়ে এই নাম।

default-image

সত্যি সত্যি একধরনের ঘোরলাগা চোখে আফসানা তাকাল জামিলের চোখে!
আমি এভাবে সব সুন্দর মেয়ের দিকে তাকাই? একধরনের মুগ্ধতা থাকতে পারে। সেটা সবার থাকে সুন্দরের প্রতি। তাই বলে সবাইকে ভালোবাসতে হবে নাকি? সবাইকে বউ ভাবব? এ রকম কেউ ভাবে? উদ্ভট ধরনের কথা বলবে না তো। তুমি আমার ভালোবাসা। খুব ভালো জানো, তোমাকে আমি কেমন ভালোবাসি! বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনে দিতে পারি এক শ আটটা নীলপদ্ম...সুনীলের কবিতার লাইনটা বলতে পেরে তার ভালো লাগছে। কারণ, আফসানার মুখ কোমল হয়ে গেছে এটা শুনে। কিন্তু বলার সময় বলল, আমাকে কষ্ট দেবে না একবার আমার গা ছুঁয়ে বলো!

এই জামিল, অফিস থেকে ফেরার সময় প্রিমিয়াম সুইটস থেকে কয়েক কেজি মিষ্টি আনিস তো। সন্ধ্যায় তো স্বাতীদের বাসায় যাব ওকে আংটি পরাতে। আমি একটু বেরোচ্ছি, মায়ের গলা! অনেকক্ষণ লাগল জামিলের বুঝতে যে সে স্বপ্ন দেখছিল এতক্ষণ!

অফিসে অনেকক্ষণ জামিল মন ভার করে থাকল। এত জীবন্ত স্বপ্ন হয়? দুপুরে মাকে ফোন করে বলল, বিকেলে আংটি পরাতে সে যেতে চায় না। স্বাতীর সঙ্গে বিয়েটা এখন আর চাচ্ছে না! সময় নিয়ে গুছিয়ে ভেবেই সে মাকে ফোন করেছে।

কেন করবি না? সবাই মিলে ঠিক করলাম। তুই রাজি হলি। এখন কী বলে মানা করব?
ওটা তুমি আমার ওপর ছেড়ে দাও। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

কেন করবি না?
বাসায় এসে বলি?
আচ্ছা।

এরপর সে স্বাতীর মাকে কল করল। সুন্দর করে বুঝিয়ে বলল, কৌতূহলবশত ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়েছিল, সেখানে দেখে সে কখনো বাবা হতে পারবে না। একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে সে জেনেশুনে একটা মেয়েকে জীবনের সঙ্গে জড়াতে পারে না! এই মানসিক শক নিতে পারছে না কোনোভাবেই। আপনি একজন মা, নিশ্চয়ই বুঝবেন? এখন সাময়িক আবেগের বশে হয়তো আপনারা সহমর্মিতা থেকে বিয়েটা এগিয়ে নিতে চাইবেন, কিন্তু ভবিষ্যতে জীবন অসহ্য হয়ে যাবে। সেটা আমি করতে পারি না। ভদ্রমহিলা খুব মায়া নিয়ে কথা বললেন, কিন্তু আংটি পরানোর প্রসঙ্গ তুললেন না। জামিল অবশ্য এক ফাঁকে বলেছে, তারা চাইলে সে মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট ছবি তুলে পাঠিয়ে দিতে পারে। ভদ্রমহিলা মানা করেছেন। তা ছাড়া এটা অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ।

তাদের অফিসের জিএম (প্রশাসন) মনসুর সাহেবের দূরসম্পর্কের ভাগনি হয় স্বাতী। কথা অনেক দূর এগিয়ে আংটি পরানো পর্যন্ত যাওয়ার পর এ রকম অদ্ভুত স্বপ্ন জামিলকে বদলে দিয়েছে। এক দিনেই সে খুব ভেবেচিন্তে পা ফেলছে। অদৃষ্টের প্রতি আশ্চর্য এক বিশ্বাস তাকে এ রকম করতে সাহস জোগাচ্ছে। যেন ঘুড়ির সুতা অন্য ভুবন থেকে নাড়ানো হচ্ছে!

আফসানা কোনো অর্থেই স্বাতীর চেয়ে সুন্দরী নয়, মানুষ হিসেবে কে কেমন, জামিল জানে না। তবে আফসানা ছটফটে ধরনের মেয়ে, এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারে না, এটা সে জানে। বাসায় ছোট বোন অথৈয়ের কাছে কয়েকবার আসতে দেখেছে সে তাকে। সারাক্ষণ নড়াচড়া করে মেয়েটি, স্থির হয়ে বসে থাকে না কখনো। ভালো? এই টাইপ কথা ছাড়া জামিলের সঙ্গে তার কোনো কথাও হয়নি। অথৈয়ের ক্লাসমেট নয় আফসানা। দুই ক্লাস সিনিয়র, কী একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, কোন সাবজেক্টে যেন।

বিকেলে বাসায় ফিরে সে মায়ের কাছে গিয়ে বলল, আমি আফসানাকে বিয়ে করতে চাই। তুমি ব্যবস্থা করে দাও। হতভম্ব মা আফসানা কে জানতে চেয়েই পরে নিজেই বললেন, হাসেম সাহেবের মেয়ে?
হ্যাঁ।

এই ফাজিল মেয়ে কী করে তোর মাথায় ঢুকল? যদিও স্বাতীর মায়ের সঙ্গে কথা বলে সে মন খারাপ করে বসে ছিল। খুব ভালো জানে, ছেলে মিথ্যা বলেছে স্বাতীর মাকে। মেডিকেল টেস্ট না ঘোড়ার ডিম!

মা, আফসানার সঙ্গে আমার কোনো প্রেম নেই। কখনো তেমন কথাও হয়নি। ছোটবেলা থেকে দেখি। কেন যেন তাকে আমার মনে ধরেছে, তুমি কথা বলো। নিজের পারফরম্যান্সে জামিল নিজেই অবাক। গলায় এত আত্মবিশ্বাস আসে কী করে?
দীর্ঘদিন মুখোমুখি বাসায় বাস করার কারণে দুই পরিবারে যাতায়াত ছিল। এই বিয়ে সেটেল করতে তেমন বেগ পেতে হলো না। বাসররাতে জামিল ঘরে ঢুকতেই আফসানা অবাক হয়ে বলল, একটা কথা বলি?
বলো।

আমি না এই দৃশ্য স্বপ্নে দেখেছি একদিন। কোন দৃশ্য? এই যে আমি বউ সেজে বসে আছি, আপনি রুমে ঢুকে মাথা থেকে পাগড়ি খুলছেন...চোখভর্তি জল নিয়ে সে আরও বলল, বিশ্বাস করলেন না, তা-ই না?
অবাক জামিল উত্তর না দিয়ে আফসানার হাত ধরে বলল, তোমাকে আমি অফ বলে ডাকব। সমস্যা আছে?

না নেই। জানতেও চাইল না কেন অফ?
আমি ১৫ মিনিট তোমার হাত ধরে চুপচাপ বসে থাকব, কোনো কথা বলবে না। এর মধ্যেই আমাদের আত্মা বিনিময় হবে...তুমি শুধু মনে মনে বলো আমার আত্মা তোমার হোক।
জামিলকে চমকে দিয়ে আফসানা শব্দ করেই বাক্যটা বলল।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন