default-image

জীবনের শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কেটেছে নিজ গ্রাম বেতুয়াতে। বাড়ির পাশেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানে টানা ১০টি বছর কাটানোর পর ঢাকা তিতুমীর কলেজ। কলেজজীবন শেষ করে কর্মজীবনে পা। এখন দীর্ঘ তিনটি বছর কাটছে দক্ষিণ কোরিয়াতে। চোখের পলকে মধ্যে যে সময় কীভাবে চলে যায়, তা কখনো অনুভব করা যায় না।

এখন ‘শৈশব-কৈশোর’ শব্দটা শুনলেই কেমন যেন একটা ধূসর গল্পের জগৎ সামনে চলে আসে। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি ভিজিয়ে দেয় চোখ নির্ভার, চিন্তাহীন একটা সময়। কত কীই-না করেছি আমরা সে সময়! কত গল্প, কত দুষ্টুমি আর কত খেলা, কত ঘোরাঘুরি। মনে পড়ে আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে আমি, মীর আর রাসেল যা কিছু করতাম, এ তিনজন একসঙ্গে। যেমনি আমরা শিক্ষকের খুবই প্রিয় ছাত্র ছিলাম ঠিক, তেমনি সমাজে ভালো কিছু করার প্রচেষ্টা আর ন্যায়নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে এলাকার মুরুব্বিদের কাছেও প্রিয় ছিলাম। কিছুদিনের মধ্যে সিনিয়র ও জুনিয়র মিলে এই বন্ধুত্বের পাল্লা ভারী হতে থকে। কারণ, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে নো সিনিয়র-জুনিয়র। তৈরি হয় আমাদের স্টাডি সার্কেল।

সিনিয়র বন্ধু থাকলে অনেক সুবিধা আছে। যেমন ছোটদের কাছে যা কঠিন, বড়দের কাছে তা অনেক সহজ। ছোটদের কাছে যা অসম্ভব, বড়দের কাছে তা সম্ভব। তাই সিনিয়র কোনো বন্ধু থাকলে অনেক কিছু খুব সহজে করা সম্ভব। তা ছাড়া তারা অনেক কিছু জানে। তাই ছোটরা তাদের সিনিয়র বন্ধুদের কাছ থেকে না-জানা অনেক কিছু জানতে পারে। যেকোনো সমস্যা হলে সিনিয়র বন্ধুদের সাহায্য নিতে পারে। তারপর দীর্ঘ সময় পথচলা একঝাঁক স্টাডি সার্কেল বন্ধুকে নিয়ে আনন্দের দিনগুলোর। বদলে গেছে সময়, বাস্তবতা বদলে দিয়েছে অনেক কিছুই। এখন শুধুই ফিরে দেখা।

default-image

কর্মজীবনে সেই স্টাডি সার্কেলের আজ কেউবা দেশে, কেউবা প্রবাসে। অনেক বছর কারও সঙ্গে সরাসরি দেখা হয় না। একসঙ্গে আর আড্ডা হয় না কফি হাউসে।
সেই বেতুয়া গ্রামের পরতে পরতে আমাদের স্মৃতি লুকিয়ে আছে, যেখানে আবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সবাইকে নিয়ে আর ফেরা তো সম্ভব নয়, তাই কিছু সময় স্মৃতিগুলো উসকে তোলার জন্য প্রযুক্তির বদৌলতে সবাই একসঙ্গে। হঠাৎ আয়োজন স্মৃতির কথা ও আড্ডা অনুষ্ঠান। সব বন্ধু আর কিছু সিনিয়র ভাইকে নিয়ে গত রোববার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায় জুমে ‘স্মৃতির কথা ও আড্ডা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যেখানে সবার ছোটবেলার পুরোনো স্মৃতি সমাহার ঘটে। ক্ষণিকের জন্য সবাই ফিরে গিয়েছি সেই স্বপ্নের দিনগুলোয়। জীবন-জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা সবাই একসঙ্গে। সবারই আবেগ–অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ অনুষ্ঠানে।
টানা কয়েক ঘণ্টা চলা গল্প আর আড্ডার মধ্যে শিল্পী মাহমুদ ফয়সালের সংগীতে সত্যিই মুগ্ধকর একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। আমজাদ হোসেন ও কামাল উদ্দিনের পরিচালনায় স্মৃতির কথা ও আড্ডার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা কামরুল আহসান, গাজী ছালেহ উদ্দিন, ইমাম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, কামাল উদ্দিন, আবু সাঈদ কামারুজ্জামান, আবদুল হালিম, তারেক মাহমুদ, মাসুদুর রহমান, নূর নবী, মীর হোসাইন, মোহাম্মদ হানিফ, মাহমুদ ফয়সাল, শেখ ফরিদ, শাখাওয়াত হোসেন, হাসানুর রশীদ, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ ইস্রাফিল, আবুল কালাম আজদ, নিজাম উদ্দিন, আশ্রাফুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম, কাজী মোস্তাফিজ, আলমগীর কবীর, নরুল আফসার, মঞ্জুর আলম, ফিরোজ আহমেদ, মাহবুবুল হক, আবু তৈয়ব শিমুল প্রমুখ।
পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ। কষ্টের কথা আপনজনকে প্রকাশ করলে নিজেকে হালকা মনে হয় এবং কাছের মানুষের ভালোবাসা আস্থা ও বিশ্বাস জোগায়। ভালো মানুষের সঙ্গে সংযোগ যে–কাউকে নতুন পথ এবং সম্ভাবনার নতুন আলো দেখাতে সাহায্য করে। করোনার নিস্তব্ধ পৃথিবী। অসহায় মানুষের আর্তনাদ, বেঁচে থাকার আকুল আবেদন, স্বজন হারানোর হাহাকার। চারদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল। নিশ্বাস ভারী, তাই আজ প্রকৃতির রুগ্‌ণ রূপ। মহামারির এই পরিস্থিতিকে মহান আল্লাহ যেন শান্ত করে দেন, সে জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

স্টাডি সার্কেল শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড শিক্ষা সফর, উপস্থিত বক্তব্য, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে,
ব্লাড গ্রুপিং: ২০২১ সালে ২৬ মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ব্লাড গ্রুপিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে দেড় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। করোনায় অসহায় মানুষদের মধ্যে ফুড প্যাকেজ উপহার বিতরণ করা হয় আমাদের এ স্টাডি সার্কেলের পক্ষ থেকে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকতে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শসহ সমাজের সব মসজিদে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচিও পালন করেছিল স্টাডি সার্কেল।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন