default-image
বিজ্ঞাপন

সুস্থতা সবারই কাম্য। আর শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যও যুক্ত। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মমাফিক চলাফেরা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলা।

default-image

এই লক্ষ্যে এসকেএফ নিবেদিত ‘আপনিও সুস্থ হতে পারেন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেন ডা. মো. আবদুল্লাহ ইউসুফ, ডক্টর অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন (ইউএসএ), আমেরিকান বোর্ড সার্টিফায়েড বিশেষজ্ঞ (ফ্যামিলি মেডিসিন), বিএসসি-হেলথ সায়েন্স (ইউএসএ), সাবেক কনসালটেন্ট, সেন্ট বারনাবাস হাসপাতাল (নিউইয়র্ক), সাবেক কনসালটেন্ট, সিটিএমডি আর্জেন্ট কেয়ার (নিউইয়র্ক), চিফ মেডিকেল কনসালটেন্ট, ব্যাক ইন মোশন লিমিটেড, ঢাকা।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রথম আলো ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. নাদিয়া নিতুল।

ডা. মো. আবদুল্লাহ ইউসুফ বলেন, একজন মানুষ সুস্থ কি না, তা নির্ভর করে তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবার ও পারিপার্শ্বিক অবস্থান ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। একজন মানুষ যখন সুস্থ বোধ করছেন না, তখন এর পেছনে এক বা একাধিক কারণ থাকতে পারে এবং এই কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। অনেক সময় রোগীরা এসে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

default-image

এ ক্ষেত্রে ডায়াগনোসিস করার পরে কোনো রোগ ধরা না পড়লে অনেক সময় আমরা মনে করি যে সমস্যাটি মানসিক। কিন্তু সব সময় তা সঠিক না–ও হতে পারে। কারণ, রোগনির্ণয় করা যায়নি মানেই রোগ থাকবে না, সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। এ ধরনের সমস্যাকে মেডিকেলের একটি টার্ম ‘ইডিওপ্যাথিক’ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

একজন রোগী যখন তাঁর শরীরের কোনো ব্যথার অভিযোগ করছেন, তখন চিকিৎসককে তাঁর কথা সময় নিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। কারণ, চিকিৎসকের কাছে রোগী হয়তো ৫-১০-১৫ মিনিট কিংবা বেশি হলে ৩০ মিনিটের জন্য আসছেন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সারা দিনের সমস্যাগুলো চিকিৎসক না–ও বুঝতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্ন করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা অনেক বিস্তারিত তথ্য ও সমস্যার কথা জেনে নিতে পারেন। কারণ, অল্প তথ্যের ভিত্তিতে রোগীকে বিষণ্নতার ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিলে এতে অনেক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের ওষুধ রোগীর ব্রেইন বা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে।

দীর্ঘদিন কারও মাথা, ঘাড় কিংবা পিঠব্যথা হলে সে এমনিতেও সুস্থ বোধ করবে না। তাই এটিকে মানসিক সমস্যা ভাবার কারণ নেই। এ জন্য শুরুতেই মানসিক সমস্যা ভেবে রোগীকে ওষুধের পরামর্শ দিলে রোগী এতে আসক্ত হয়ে পড়তে পারেন। এ ধরনের অবস্থা থেকে ফেরত আসা রোগীর জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

default-image

সব সমস্যার সমাধান শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যায় না। তাই একজন চিকিৎসককে সময় নিয়ে ইতিহাস জেনে ভালোভাবে পরীক্ষা ও বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে আসা উচিত। চিকিৎসকের ধারণাকে নিশ্চিত করার জন্যই মূলত ডায়াগনোসিসের প্রয়োজন পড়ে। তাই কেবল এর ওপর ভিত্তি না করে রোগীর ইতিহাস ও উপসর্গ বিবেচনা করে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।

অনেক রোগীই ব্যাকপেইন বা পিঠব্যথার অভিযোগ করে থাকেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাঁরা বিদেশে উন্নত চিকিৎসা, ওষুধ সেবন, এমনকি সার্জারিও করিয়েছেন। কিন্তু ব্যথা যাচ্ছে না। এর পেছনে মূল কারণটি খুঁজে বের করতে হবে। যেমন, একজন মানুষের যখন কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হয়, তখন তাঁর শিরদাঁড়ার হাড় নড়ে যেতে পারে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে। আমরা তখন একে বলে থাকি স্ট্রাকচার এফেকটিং ফাংশন। এ ক্ষেত্রে রোগীর হাড়ের কোন অংশ নড়ে গেছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা চিকিৎসককে ভালো করে ধরে দেখতে হবে এবং পুরো বিষয়টি সম্পর্কে সময় নিয়ে জানতে হবে।

default-image

মনে রাখতে হবে, একজন রোগী যখন ওষুধ সেবন করছেন, তখন তা ব্যথার অনুভূতিকে তার মস্তিষ্কে পৌঁছাতে দিচ্ছে না, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। সাধারণ ব্যথার ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ উপকারী হলেও হাড় নড়ে যাওয়া বা এ–জাতীয় সেনসিটিভ ব্যথায় বরং সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখামাত্রই রোগীকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করতে হবে এবং তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন