ইতিবাচক মনোভাবই সুস্থতার মূল

সুস্থতা আসলে কী?

default-image

রোগের অনুপস্থিতিই কি সুস্থতা? না। সুস্থতা মানুষের এমন একটি অবস্থা, যা আপনার শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাকে নির্দেশ করে। অসুস্থ বললে সবাই যদিও সাধারণত শারীরিকভাবে চিকিৎসার অংশটুকু বুঝে নেয়, কিন্তু সুস্থতা সার্বিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ ধারণাকেই সমর্থন করে।

তাহলে অসুস্থতা কী?

মানুষ হিসেবে শুধু শরীরের অংশটুকুই সব নয়। আমাদের মন আছে, চিন্তার ক্ষমতা আছে। আমরা যা চিন্তা করি, তার প্রভাবও শরীরে পড়ে। একটি দুঃসংবাদ শুনলে আমাদের হার্টবিট বেড়ে যায়। সাইকোসোমাটিক ইফেক্ট বলে একটি টার্ম আছে, যার অর্থ মনের অবস্থা শরীরে প্রভাব ফেলা। ওষুধ দিলে শরীরের অংশটুকু সারানো যাবে, কিন্তু এর কারণ সারানো যাবে না। শারীরিক ও মানসিক, যেকোনো একটি অংশে বিঘ্ন তৈরি হলে তাকে অসুস্থ বলা যায়।

বিজ্ঞাপন

সুস্থতা স্বাভাবিক কোন পর্যায়ে?

ডা. আবদুল্লাহ ইউসুফ জানান, একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে, সে স্বাবলম্বী হয়েই কিন্তু জন্মায়। নিজেই নিশ্বাস নেয়, তার হৃৎপিণ্ড নিজেই বিট করে। সৃষ্টিকর্তা প্রায় সব মানুষকে এভাবেই তৈরি করেছেন। এর অর্থ সুস্থতা আমাদের মধ্যে ‘বাই ডিফল্ট’ কাজ করে। নানান অভিজ্ঞতা ও চিন্তার প্রভাবে একটা সময় মানুষ মনে করতে থাকে, সে অসুস্থ হয়ে যাবে। এই ক্ষেত্রে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া জরুরি। নিজেকেই বের করতে হবে কী কী কারণে আমি অসুস্থ হতে পারি এবং সেই কারণগুলোকে নিজের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করলেই সুস্থতার স্বাভাবিক ধারা বজায় থাকবে।

আমরা কখন অসুস্থ হই?

শারীরিকভাবে আমরা নানা উপায়ে অসুস্থ হতে পারি। দুর্ঘটনায়, পারিপার্শ্বিক কারণে, ভাইরাস-ব্যকটেরিয়ার কারণে। আমাদের শরীরেই ইমিউন সিস্টেম থাকলেও সামাজিক, পারিবারিক বা আর্থিক কারণে মানসিক চাপে থাকলে এই সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস থাকলে দীর্ঘ সময় স্টেরয়েড ওষুধ নিতে থাকলেও ইমিউন সিস্টেম তাকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে পারে না। এ অবস্থায় যে কারও পক্ষে যেকোনো কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

স্বাভাবিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ার উপায়

default-image

কোনো রোগ থাকলে শুধু তা থেকে মুক্তি নয়, চিন্তা করতে হবে নিজেকে কীভাবে মানসিকভাবেও সুরক্ষিত রাখা যায়। জীবনে অনেক কারণেই দুশ্চিন্তায় পড়তে পারেন। তা ইতিবাচকভাবে নিতে জানতে হবে। ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ যেভাবে নেন, মনের অশান্তিতেও নিজেকে সেভাবে চিকিৎসা দিতে হবে। স্ট্রেস ও আতঙ্ক কীভাবে আমাদের ক্ষতি করে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কোভিডের সময়টা। অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, কোভিড হলেই তিনি মারা যাবেন। অথচ এভাবেও ভাবা যেত যে কোভিড হোক আর যা–ই হোক, আমার ইমিউন সিস্টেম তার সঙ্গে সর্বোচ্চ লড়াই করবে। চিন্তাধারার পার্থক্যের কারণেও আমাদের ইমিউন সিস্টেমের তারতম্য ঘটে।

বিজ্ঞাপন

কোভিডের পরের ধাক্কা সামলাবেন কীভাবে?

কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন কিন্তু সুস্থ হয়ে উঠেছেন, এমন অনেকে এখনো শারীরিক কিছু সমস্যা বোধ করছেন। অথচ মেডিকেল রিপোর্টে তার সবই ইতিবাচক। এ অবস্থার কারণ কী হতে পারে? ডা. আবদুল্লাহ ইউসুফ জানান, নতুন কিছু রিসার্চ অনুযায়ী, কোভিডের শারীরিক ও মানসিক শক এর অন্যতম কারণ হতে পারে। কোভিড চলে গেলেও শরীরে কিছু প্রভাব রেখে যায়, যা স্বাভাবিক। মানসিকভাবে মানুষ হাইপার হয়ে থাকে, ফলে শরীরে অস্থিরতা তৈরি হয়। যাঁদের ফুসফুসে সমস্যা হয়েছে বা দীর্ঘ সময় আইসিইউতে উপুড় হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, তাঁদের কিছু কিছু অর্গানের কার্যকারিতা কিছু সময়ের জন্য কমে যায়। যা নতুন করে কার্যকর হতে একটু সময় লাগে। শরীর ও মানসিকভাবে অ্যাডজাস্ট করে নিলেই জীবন আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।

কীভাবে ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখা যায়?

default-image

এই সময়ে নতুন একটি টার্ম তৈরি হয়েছে, সিটিং ইজ নিউ স্মোকিং। দীর্ঘ সময় ধূমপান করলে যেসব ক্ষতি হয়, দীর্ঘ সময় বসে থাকলেও দেখা যাচ্ছে একই রকম সাইড ইফেক্ট দেখা দিচ্ছে। তাই ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখতে ফিজিক্যালি অ্যাকটিভ থাকতে হবে। কোভিড মানুষকে শুইয়ে দিয়েছে, কিন্তু যাঁরা শারীরিকভাবে অ্যাকটিভ ছিলেন, তাঁরা অনেক ভালোভাবে কোভিড মোকাবিলা করতে পেরেছেন। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার ও ডায়েট মানতে হবে। মানসিক সুস্থতার জন্য মেডিটেশন করতে পারেন। মেডিটেশনের মাধ্যমে নিজেকে শান্ত রাখা সম্ভব, ইতিবাচকভাবে মনোবল বাড়ানো সম্ভব। এই দুই ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখতে খুব সাহায্য করে।

সব শেষে ডা. আবদুল্লাহ ইউসুফ কোভিডের সময় যাঁরা সম্মুখসারিতে থেকে মানুষের সেবা করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বলেন সুস্থতার ওপর বিশ্বাস রাখতে। কারণ, মানুষকে মূলত সুস্থ থাকার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। কর্মক্ষম ও সুস্থ থাকার ওপর বিশ্বাস রাখলেই সুস্থতাও ধরে রাখা সম্ভব।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন