উপসর্গ সম্পর্কে ধারণা জরুরি

বিশ্বব্যাপী মরণব্যাধিগুলোর একটি ক্যানসার। বাংলাদেশেও মৃত্যুহারের জন্য দায়ী রোগগুলোর অন্যতম ফুসফুসের ক্যানসার। তাই ফুসফুসের ক্যানসার যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতিরোধ করা যায়, সে জন্য এর উপসর্গ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখতে হবে। বলা হয়ে থাকে, শ্বাসযন্ত্রের যাবতীয় রোগের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার সবচেয়ে মারাত্মক। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো যায়। আর এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

default-image

এ লক্ষ্যে এসকেএফ অনকোলজি নিবেদিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানের নবম পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেডিওথেরাপি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকার অনকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জাফর মো. মাসুদ। এ পর্বের আলোচ্য বিষয় ‘ফুসফুস ক্যানসার’।

অনুষ্ঠানটি প্রথম আলোর ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

ডা. স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশে পুরুষদের এক নম্বর ক্যানসার হলো ফুসফুস ক্যানসার। যাঁদের বয়স ত্রিশের বেশি এবং ধূমপায়ী, তাঁরা এ ধরনের ক্যানসার থেকে একেবারেই ঝুঁকিমুক্ত নন। তাঁদের ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্যানসার এমনভাবে শরীরে সৃষ্টি হবে, যা বেশির ভাগ সময়ই টের পাওয়া যাবে না। কারণ, নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ অনেক সময় চোখে পড়বে না। আর অন্যান্য ক্যানসারের থেকে ফুসফুসের ক্যানসার বেশ মারাত্মক, কারণ এতে লক্ষণ সহজে ধরা পড়বে না।

ধূমপান পরিহারের মাধ্যমে ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর আইন প্রণয়ন এবং এর যথাযথ প্রয়োগ। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে হবে। এতে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। কারণ, অনেকেই নিজে ধূমপান না করলেও প্যাসিভ স্মোকিংয়ের মাধ্যমে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আবার জন্মসূত্রেও এ ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই এ বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে।

ডা. জাফর মো. মাসুদ বলেন, ফুসফুসের ক্যানসার মূলত একটি নীরব ক্যানসার এবং এতে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ক্যানসার কোনো কিছু বোঝার আগেই অ্যাডভান্সড স্টেজে চলে যেতে পারে। সাধারণত, একটানা দীর্ঘদিন কাশি থাকলে তা ফুসফুস ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হিসেবে মনে করা হয়। রোগীর যদি নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া একটানা দীর্ঘদিন কাশি থাকে এবং তিনি যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেক সময় কাশির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। আরেকটি উপসর্গ হলো শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা।

বিভিন্ন সময়ে কাজ করতে গেলে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে। ফুসফুসে ক্যানসারের একটি সাধারণ উপসর্গ হলো বুকে ব্যথা হওয়া। অনেকের পিঠে কিংবা হাতেও ব্যথা ছড়াতে পারে। অনেক সময় রোগীর খাবারে অরুচি ও অনীহা দেখা দেয়। কারও কারও দেহের ওজন অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। এগুলোই ফুসফুসে ক্যানসারের মূল উপসর্গ। এর কোনো একটি বা একাধিক উপসর্গ দেখা দিলে ফুসফুস ক্যানসার হিসেবে ধরে নিয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ক্যানসারের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, যেমন: বিভিন্ন ধরনের ফল (বিশেষ করে মাল্টা, কমলা) ও শাকসবজি (ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো) খাওয়া এবং নিয়মমাফিক চলাফেরার মাধ্যমে ফুসফুস ক্যানসার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এ ক্ষেত্রে গ্রিন টি বিশেষ উপকারী। তাই গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।

default-image

আর প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কার্বনেটেড ড্রিংক বা কোমল পানীয় পরিহার করতে হবে, কারণ এগুলো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। আমাদের দেশে রোগীরা সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে এ–জাতীয় রোগকে অবহেলা করে থাকেন। অনেকেই ঠিকমতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না, যার কারণে রোগ আরও জটিল হতে থাকে। তবে বর্তমানে আমাদের দেশেও ফুসফুসের ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে। তাই উপসর্গ দেখামাত্রই দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।

মন্তব্য করুন