বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডা. মো. রাশিদুল হাসান বলেন, আমাদের দেশে কতজন মানুষ একজিমা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বা হয়, এ নিয়ে কোনো তথ্য নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ শতাংশ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে। সবচেয়ে বেশি পেশাজনিত কারণে একজিমা হতে দেখা যায়। নারীদের ঘরের কাজে পানি বেশি ধরতে হয়। কসাইদেরও অনেক পানির কাজ করতে হয়। তাই তাদের হাতে একজিমা বেশি হয়। যারা ওয়ারিং বা ওয়েল্ডিং মেশিনে কাজ করে, তাদের অনেক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা লাগে। তাদের ক্ষেত্রে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হতে পারে। যারা কনস্ট্রাকশনে কাজ করে, তাদেরও একই ধরনের একজিমা হতে পারে।

একজিমার প্রধান কারণ হচ্ছে কোনো বস্তু বা রাসায়নিকের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা। এ ছাড়া অ্যালার্জি, পেশা ও পরিবেশগত কারণেও হতে পারে। এটি একটি ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ। এর জন্য কোনো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস—কোনোটাই দায়ী নয়। তবে একজিমা হওয়ার পরে এগুলো আক্রমণ করে।

এর ডায়াগনোসিসটা হয় ক্লিনিক্যালি। চিকিৎসকের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং দেখার চোখ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই জানান ডা. মো. রাশিদুল হাসান। এ ছাড়া রোগীর ইতিহাস নিতে হবে। আর রোগীর রক্ত পরীক্ষাও করা হয়। তবে তা রোগীকে কী ধরনের ওষুধ দেওয়া হবে, এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে কি না, সেটা নির্ণয়ের জন্য। আবার সোরিয়াসিস রোগের লক্ষণের সঙ্গে একজিমার বেশ মিল রয়েছে। এ জন্য রোগী এলে কোন রোগে আক্রান্ত, তা ধরতে বায়োপসি করার প্রয়োজন হয়।

default-image

একজিমার চিকিৎসা সম্পর্কে ডা. মো. রাশিদুল হাসান আরও বলেন, যেহেতু এটি একটি ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ, সেহেতু এর জন্য দরকার অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ। এর ভেতর সবচেয়ে ভালো স্টেরয়েড। একজিমা অনেক সময় নিরাময়যোগ্য রোগ নয়, একে শুধু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ জন্য স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাতে কম হয়, সেইভাবে ব্যবহার করা উচিত। যেহেতু এটা ত্বকের রোগ সেহেতু স্টেরয়েড টপিক্যালি ব্যবহার করতে হয়। এতে যদি একেবারেই কাজ না করে, সে ক্ষেত্রে আমরা ওরাল স্টেরয়েড ব্যবহার করতে পারি। তবে এটি খুব অল্প সময়ের জন্য। ইনফেকশন হলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। একজিমা হলে অনেক বেশি চুলকানি হয়। তাই রোগীকে অ্যান্টিহিস্টামিন দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সোরিয়াসিস নিয়েও বিস্তারিত জানা যায়। এটি হলে খুব বেশি চুলকায় না, চামড়ায় লাল লাল চাকা উঠবে এবং সেই লাল চাকার ওপরে পুরু স্তরে সাদা চামড়া উঠবে। একে মেডিকেলের ভাষায় ইরাইথেমেটাস লেসিয়ন উইথ স্কেলিং প্লেকস বলে। কিছু কিছু নির্দিষ্ট জায়গা আছে, যেখানে সোরিয়াসিস বেশি হয়। যেমন দুই হাঁটুতে, দুই কনুইতে, কোমরে যেখানে বেল্ট পরা হয়, নাভিতে, নখে এবং মাথার তালুতে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নিলে এ রোগ ভালো হয়ে যায়।

সোরিয়াসিস একটি মাল্টিফ্যাক্টরিয়াল ডিজিজ। জেনেটিক কারণ বা ওষুধের প্রতিক্রিয়ার জন্য সোরিয়াসিস হতে পারে। কোথাও আঘাত লাগলে, কেটে গেলে সেখান থেকেও হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এর কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। বায়োপসি এবং হিস্টোপ্যাথলজির মাধ্যমে সোরিয়াসিস নির্ণয় করতে হয়। এ ছাড়া ডারমোস্কপি ব্যবহার করেও এ রোগ নির্ণয় করা হয়।

আলোচনায় আরও জানা যায়, বাংলাদেশে একটি সোরিয়াসিস ফাউন্ডেশন রয়েছে। এর কাজ হলো সবাইকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা, চিকিৎসকদের এ নিয়ে নতুন তথ্য প্রদান করা। এ ছাড়া এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সোরিয়াসিস দিবস পালন করা হয়।

যাঁদের সোরিয়াসিস আছে, তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হয়। তাঁদের সাবান–পানি কম ব্যবহার করা উচিত, শীতকালে সোরিয়াসিসের প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে বলে বেশি করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এভাবে কিছুটা হলেও এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর এটি বেড়ে গেলে অবশ্যই ওষুধ নিতে হবে।
ডা. মো. রাশিদুল হাসান বলেন, পৃথিবীতে যে তিনটি চর্মরোগের ওষুধ নিয়ে বেশি গবেষণা হয়, সেগুলোর একটি হচ্ছে সোরিয়াসিস। দেখা যায় ছয় মাস পরপর এর নতুন ওষুধ বাজারে আসে। আমাদের দেশের অনেকের আর্থসামাজিক অবস্থা অত ভালো নয়, সবার সামর্থ্য না থাকলেও আমরা নতুন নতুন ড্রাগ বিক্রি করতে পারছি এবং ফল ভালো পাচ্ছি।’ এ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা একজিমার মতোই।

টপিক্যাল স্টেরয়েড এবং চুলকানির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন। এরপর রোগীর অবস্থা বুঝে আরও কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। আর সোরিয়াসিস রোগীর ওরাল স্টেরয়েড ওষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। খেলে এটি অনেক বেড়ে যেতে পারে। এমনকি পাস্টুলার সোরিয়াসিসের মতো মারাত্মক অবস্থা হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের স্টেরয়েড ব্যবহার করা যাবে না। একজিমা ও সোরিয়াসিসের চুলকানি কমাতে অ্যান্টিহিস্টামিন দেওয়া হয়। এর অনেক ক্যাটাগরি আছে। যেমন বিলাস্টিন, ফেক্সোফেনাডিন। কে কোন অ্যান্টিহিস্টামিন সেবন করবে, তা রোগীর বয়স, অবস্থা, রোগ এবং পেশার ওপর নির্ভর করে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন