করোনাকালে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, সঙ্গে ওষুধও

বিজ্ঞাপন
default-image

৯৫ বছর বয়সী একাত্তুরনেসার অনেক বছর ধরেই পায়ে ও কোমরে ব্যথা। ব্যথায় কষ্ট পেলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সচ্ছলতা তাঁর নেই। পাড়ার ছেলেদের মারফত খবর পান এক চিকিৎসাসেবার কথা। সেখানেই চলে এলেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে তিনটি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিলেন, সঙ্গে ওষুধগুলোও দিলেন। অথচ বিনিময়ে কোনো পয়সাই তাঁকে দিতে হলো না।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে একাত্তুরনেসার সঙ্গে কথা হয় রাজধানীর লালমাটিয়ার মসজিদ সমাজ বাংলাদেশের প্রাঙ্গণে। সেখানেই অস্থায়ী ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এ উদ্যোগের আয়োজক ইনজিনিয়াস হেলথ কেয়ার, সৌহার্দ্য ফাউন্ডেশন ও ট্রাই ফাউন্ডেশন। এই তিন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে করোনার সময়ে মানুষকে জরুরি চিকিৎসা বিনা মূল্যে দিতে। ‘নিজ বাড়ি নিজ হাসপাতাল করোনামুক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁরা বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, গত ৯ আগস্ট থেকে মাঠপর্যায়ে তাঁরা এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। মোহাম্মদপুরের খিলজি রোড, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, বাবর রোড, হুমায়ন রোড এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার ৩ হাজার ১৬৫টি পরিবারের ১২ হাজার ৬৬৬ জন এই সেবাদান প্রকল্পের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে যাঁদের করোনা রোগাক্রান্ত ও উপসর্গ ছিল, তাঁদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮২ জন বিনা মূল্যে সেবা নিয়েছেন এবং ১৯ জন করোনা রোগী বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘করোনামুক্ত বাংলাদেশ’ স্লোগানে এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর জন্য বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই কভিড–১৯–এর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর কাছে করোনার উপসর্গ অনুসন্ধান, সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার কাজ করা হচ্ছে।
এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘বাসাবাড়িতে যে কারও করোনার উপসর্গ থাকলে আমরাই ওই বাসায় গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেব। বর্তমানে মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় আমাদের কার্যক্রম চলছে। তবে আমাদের জানানো হলে পুরো ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা কারও কাছ থেকে টাকা চাইছি না, উল্টো এই সময়ে সহযোগিতা করতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘নিজ বাড়ি নিজ হাসপাতাল করোনামুক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের কয়েকটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবাদানের কাজ করছেন। এ ছাড়া অস্থায়ী বুথ ও সেন্টারে চিকিৎসাসেবা, বিনা মূল্যে অক্সিজেন–সেবা দেওয়ার কাজ করছেন। শ্যামলীর রিং রোডের ইনজিনিয়াস পালমো–ফিট সেন্টারে মূল চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তবে পাড়া–মহল্লায় অস্থায়ী ক্যাম্প করেও স্বাস্থ্যসেবা দেন এ প্রকল্পের স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ উদ্যোগে কাজ করছেন দশজন স্বেচ্ছাসেবক, যাঁরা বাসাবাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। সব মিলিয়ে প্রকল্পে কাজ করছেন ৩০ জন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিনা মূল্যে যেসব সেবা

উদ্যোক্তারা জানান, কারও মধ্যে করোনার উপসর্গ পাওয়া গেলে করোনা শনাক্তের জন্য সিবিসি পরীক্ষা, বুকের এক্স–রে ও অক্সিজেন স্যাচুরেশন পরীক্ষা প্রথমবার বিনা মূল্যে করানো হয়। পরেরবার থেকে একদম স্বল্প মূল্যে এসব সেবা দেওয়া হয়। আর অসচ্ছল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হয় বিনা মূল্যে। যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁর চিকিৎসায় প্রায় ১৪ হাজার টাকা মূল্যের ফেভিপিরাভির ওষুধও বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে এ উদ্যোগের আওতায়। এসব স্বাস্থ্যসেবা যে কেউ নিতে পারেন। ঢাকার যে কারও অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে (০১৭০১৬৭৭৭৭০) বিনা মূল্যে প্রথম ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে এই নম্বরে (০১৭০১৬৭৭৭১০) যোগাযোগ করুন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন