করোনা মোকাবিলায় চেস্ট ফিজিওথেরাপিস্ট এবং মাইক্রোবায়োলজিস্টদের প্রয়োজনীয়তা

করোনাকাল এক বছর পার হলো। গেল বছরের ১৭ নভেম্বর চিনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। এখন গোটা বিশ্বে সংক্রমণের সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটিতে। মৃত্যুর সংখ্যাও ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ জনস্বাস্থ্যগবেষক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসের ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ বা দ্বিতীয় ধাপে সংক্রমণ বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশেও ইতিমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে মানুষের মনে করোনাভীতি না থাকলেও খালি নেই কোনো আইসিইউ শয্যা।

default-image

বেশির ভাগ মানুষই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। বাংলাদেশের অবস্থান উত্তর গোলার্ধে হওয়ায় বর্তমান সময়ে শীত আমাদের দোরগোড়ায়। শীতকালে কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিজ্ঞানীরা করছিলেন। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের হার আবার বেড়ে যাওয়ায় করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব এরই মধ্যে আমাদের দেশেও পড়তে শুরু করেছে, তা বলা যায়।

বিজ্ঞাপন

লক্ষ করার ব্যাপার হলো, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। অনেক দিন পার হয়ে যাওয়ার ফলে এ ভাইরাসের জীবনীশক্তি বা আক্রান্ত করার ক্ষমতা কমে আসা অথবা আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও পরিবেশ এর কারণ হতে পারে। বর্তমানে সংক্রমিত লোকজনের বেশির ভাগেরই কোনো লক্ষণ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কোনো রকম সমস্যা বোধ না করায় করোনা টেস্ট করাননি। তাই জানতেও পারেননি যে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এসব ব্যক্তি বিভিন্ন সময় বহু জায়গায় বিচরণ করেছেন এবং নিজের অজান্তেই আরও অনেককে সংক্রমিত করেছেন। আবার শীতকালে বাংলাদেশে সামাজিক অনুষ্ঠান, সমাবেশ বেশি হয়ে থাকে। এতে জনসমাগম বেশি হওয়ার কারণে করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে।

default-image

করোনার এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন সমাজের বয়ঃজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা। তাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। এ বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকতে এবং সংক্রমণ এড়াতে ঘরের বাইরে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। যেহেতু করোনাভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করে এবং এতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অনেক কমে যায়, ফলে শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণও মারাত্মকভাবে কমে আসে। তাই করোনা মোকাবিলায় ফুসফুসকে অধিক কার্যকর করে তোলাই হবে সর্বোত্তম প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা।

ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি প্রদত্ত ‘ফিজিওথেরাপি গাইডলাইন ফর কোভিড-১৯ ইন দ্য একিউট হসপিটাল সেটিং’ অনুযায়ী মৃদু সংক্রমণ থেকে মারাত্মক সংক্রমণ পর্যন্ত রোগীদের রেসপিরেটরি ফিজিওথেরাপি দরকার। এ সময় মৃদু সংক্রমণ এবং মিউকাস নিঃসরণে অসুবিধা থাকলে এয়ারওয়ে ক্লিয়ারেন্স টেকনিক এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ফুসফুসের বেশির ভাগ পেছনের দিকে বিস্তৃত, তাই বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাসনালি পুনরায় খোলার জন্য রোগীকে উপুড় হয়ে শোয়ার উপদেশ দিতে হবে এবং শোয়া অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে হবে (ফিজিওথেরাপি গাইডলাইন ফর কোভিড-১৯, পৃষ্ঠা-১৩,২২)।

default-image

শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন মুখ দিয়ে বাতাস ছাড়ার সময় নাক দিয়ে বাতাস নেওয়ার সময়ের তুলনায় বেশি হয় এবং এ সময় মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে থাকতে হবে, যাতে অন্যকে সংক্রমিত করতে না পারে। সহজে মনে রাখার জন্য—বাতাস নেওয়ার সময় ৪ সেকেন্ড, বাতাস ধরে রাখার সময় ৭ সেকেন্ড এবং বাতাস ছাড়ার সময় ৮ সেকেন্ড। এর নাম হচ্ছে ‘৪, ৭, ৮ ব্রিদিং এক্সারসাইজ’। এতে করে শ্বাস ছাড়ার পর ফুসফুসে যে বাতাস থাকে, তার পরিমাণ বাড়বে। যত বেশি বাতাস ফুসফুসে থাকবে, ফুসফুসের চুপসে যাওয়ার ঝুঁকিও তত বেশি কমে যাবে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া নাক দিয়ে বাতাস নিয়ে তা ধরে রাখা এবং তারপর মুখ দিয়ে বাতাস বের করে দেওয়া, এতে করে ফুসফুস আর শ্বাসনালিতে বাতাস চলার পথ পরিষ্কার হবে। এই কৌশলগত পন্থাকে বলা হয় ‘কোল্যাটারাল ভেন্টিলেশন’ যা কিনা ফিজিওথেরাপি শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব। কোভিড-১৯ দ্বারা মৃদু সংক্রমণের সময় আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মোবিলাইজেশন, রেসপিরেটরি এক্সারসাইজ, থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ (যেমন- রেসিস্ট্যান্স এক্সারসাইজ, পুশ আপ, ক্যালিস্থেনিকস) ও রিহ্যাবিলিটেশন কৌশল, যেমন বেড মোবিলিটি, বসা থেকে দাঁড়ান, হাঁটা, কাঁধের ও পায়ের এক্সারসাইজ, সাইক্লিং প্রভৃতি করা যেতে পারে।

default-image

এ প্রসঙ্গে বলা উচিত, হাফ লায়িং পজিশন বা অর্ধেক শোয়া অবস্থা ডায়াফ্রামাটিক ব্রিদিং করলে বয়স্ক রোগীদের মানসিক বিষণ্নতা কমে, যা রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ দিন প্রতিদিন ৯ মিনিট করে গভীরভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করা গেলে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হয়, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রক্তে কর্টিসলের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়।

অন্য একটি গবেষণায় দেখা যায়, রক্তে কর্টিসলের পরিমাণ বেড়ে গেলে রেসপিরেটরি ট্রাক্টের ওপরের অংশ যেমন নাক, নাসারন্ধ্র, ফ্যারিংস এগুলোর ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই এরোবিক এক্সারসাইজ, ব্রিদিং এক্সারসাইজ, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, জগিং, স্ট্রেচিং করলে শুধু যে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে বা ডায়াফ্রামের কর্মক্ষমতা বাড়ে তা-ই নয়, এটি মানসিক বিষণ্নতা কমাতেও সাহায্য করে।

একজন রোগীর ফুসফুসের অবস্থা বুঝে তার জন্য শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামের সঠিক তালিকা তৈরি করে তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মক্ষম করে তোলার দায়িত্ব একজন ফিজিওথেরাপি চিকিত্সকের। সংক্রমণের আগে বা পরে ফুসফুসের বাতাস গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে স্পাইরোমিটার দিয়ে ব্যায়াম করার সময় নিজ ফুসফুসের ক্ষমতা অনুযায়ী বলগুলো ওপরে তুলতে চেষ্টা করতে পারেন। আবার পাইপ দিয়ে বোতল ভরা পানিতে ফুঁ দিয়ে বাবল তৈরি করে শ্বাসক্রিয়ার মাংসপেশির শক্তি বাড়াতে পারেন।

রক্তে কর্টিসলের পরিমাণ বেড়ে গেলে রেসপিরেটরি ট্রাক্টের ওপরের অংশ যেমন নাক, নাসারন্ধ্র, ফ্যারিংস এগুলোর ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই এরোবিক এক্সারসাইজ, ব্রিদিং এক্সারসাইজ, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, জগিং, স্ট্রেচিং করলে শুধু যে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে বা ডায়াফ্রামের কর্মক্ষমতা বাড়ে তা-ই নয়, এটি মানসিক বিষণ্নতা কমাতেও সাহায্য করে।

গোটা বিশ্ব করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর কবল থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশে টিকা তৈরির কাজও চলছে। কিন্তু কবে এ অতিমারি থেকে মুক্তি মিলবে, এখন সে দিকেই গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। টিকা তৈরির কাজসহ এ করোনাকালে আমাদের প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন মাইক্রোবায়োলজিস্ট বা অণুজীববিজ্ঞানীরা। এঁদের জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার বদৌলতে দেশে করোনা রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্য ভাইরাস থেকে একে পৃথককরণ সহজ হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত রাখতেও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের ভূমিকা অনন্য।

করোনা ওয়ার্ড ছাড়াও অন্য ওয়ার্ড বা আইসিইউ কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা যাবে, সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারেন অণুজীববিজ্ঞানীরা। ঠিকভাবে হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত না করার ফলে সেখান থেকে অনেক সংক্রমণ ছড়ায়। অপারেশনের সময়ও অনেক সংক্রমণ ছড়ায়। তার কারণও ঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না হওয়া। এই করোনাকালে অনেক চিকিত্সক, নার্স বা অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ওয়ার্ড ও এর আশপাশের জায়গা সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না হওয়া।

অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনায় বাংলাদেশে চিকিত্সকদের মৃত্যুর হার বেশি, যা চিন্তার কারণ। ‘ইমপিরিয়াল কলেজ অব লন্ডন’-এর গবেষণা মতে, পিপিই বা মাস্কের মান ছাড়াও করোনা সংক্রমণের আরও একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বায়োসেফটি-সংক্রান্ত ট্রেনিংয়ের অভাব। হাসপাতাল, আরটিপিসিআর ল্যাব ও সিসিইউগুলোতে নেগেটিভ প্রেশার রুম ও সঠিকভাবে বায়ো হজার্ড মেনটেইন ও ডিসপোজাল না করায় এখানে নিয়োজিত ও দায়িত্বরত লোকজনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে।

করোনা ওয়ার্ড ছাড়াও অন্য ওয়ার্ড বা আইসিইউ কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা যাবে, সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারেন অণুজীববিজ্ঞানীরা। ঠিকভাবে হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত না করার ফলে সেখান থেকে অনেক সংক্রমণ ছড়ায়। অপারেশনের সময়ও অনেক সংক্রমণ ছড়ায়। তার কারণও ঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না হওয়া।

করোনার এই সময়ে বাংলাদেশে ৮৯ জন মাইক্রোবায়োলজিস্ট বিভিন্ন জায়গায় আরটিপিসিআর ল্যাব সেট-আপ, মাননিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসকদের বায়োসেফটি ট্রেনিংয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন। আশার কথা হলো, একজন মাইক্রোবায়োলজিস্টও করোনায় আক্রান্ত হননি। এর কারণ, তাঁরা অণুজীবের জীবন ও বংশবৃদ্ধি এবং এ-সংক্রান্ত প্রায়োগিক ধারণা রাখেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া আমাদের দেশে অহেতুক অনেক বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়। জীবাণু যেভাবে ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠছে, তাতে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের ঘাটতি একসময় আরও বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন অ্যান্টিবায়োটিক সঠিক তথা কার্যকর, তা না জেনেই অনেকটা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে মারার মতো প্রয়োগ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, ভুল ডোজ এবং দুর্বল সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা সার্বিক এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এ কাজের ক্ষেত্রেও একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট সুন্দরভাবে চিকিত্সককে সাহায্য করতে পারেন কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর সেটা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে।

জীবাণু যেভাবে ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠছে, তাতে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের ঘাটতি একসময় আরও বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।

করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাতেও অণুজীববিজ্ঞানীরা উল্লেখযোগ্য হারে ভূমিকা রাখছেন। অনেক ল্যাবের প্রধান হয়েছেন অণুজীববিজ্ঞানী। যেসব ল্যাবে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সরাসরি তদারকি আছে, সেখানে কাজের মান অন্যদের তুলনায় ভালো বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে অণুজীববিজ্ঞানে স্নাতক পাস অনেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিভিন্ন ল্যাবে কাজ করছেন। কিন্তু আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত অণুজীববিজ্ঞানীদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি, যা খুবই প্রয়োজন।

সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অ্যান্টিবডি কিট দিয়ে সেরো পজিটিভিটি, এপিডিমিওলজিক্যাল স্টাডি ও ভ্যাকসিন-পরবর্তী অ্যান্টিবডি টাইটার জানতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সেরোলজিক্যাল কিট কাজে লাগানো যেতে পারে। করোনায় আক্রান্ত সুস্থ-অসুস্থ সবার শরীরের অ্যান্টিবডি টেস্ট করা জরুরি। এ থেকে জানা যাবে, জনগোষ্ঠীর কত অংশ উপসর্গ ছাড়া আক্রান্ত এবং কোন ধরনের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা তাঁর শরীরে ছিল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপযোগী চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে এ ধরনের গবেষণা অত্যাবশ্যক।

এ ছাড়া যেসব সংক্রমিত ব্যক্তি রোগাক্রান্ত নন এবং যাঁরা সংক্রমণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাঁদের সংগৃহীত রক্তের ব্যাংক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ রক্তের প্লাজমা করোনার কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। উপরন্তু বাংলাদেশের স্বল্প পরিবর্তিত স্থানীয় গবেষণা অবকাঠামোতেই এ রক্ত থেকে বিশোধিত অ্যান্টিবডি করোনা চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে ব্যাপকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব।

সবাই জেনে খুশি হবেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করার মতো অনেক গবেষক ও বিজ্ঞানী আছেন। কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের গবেষণাগারের সংখ্যা অপ্রতুল। বিশেষত বায়োলজিক্যাল গবেষণার ওপর জোর দিয়েই করোনা-পরবর্তী অবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের রূপরেখা তৈরি করতে হবে বলে আমাদের মনে হয়।

লেখক পরিচিতি:

আনোয়ার খসরু পারভেজ: অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোষাধ্যক্ষ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা।

এহসানুর রহমান: সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট, সিআরপি, সাভার, ঢাকা।

মন্তব্য করুন