default-image

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত বেশির ভাগ রোগীরই মৃদু উপসর্গ থাকে। এই রোগীদের বেশির ভাগই বাড়িতে একটি নির্দিষ্ট ঘরে থেকে যথাযথ চিকিৎসা আর পর্যাপ্ত বিশ্রামে সুস্থ হয়ে ওঠেন। আইসোলেশনে থাকার দুই সপ্তাহ পর করোনা রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে রোগী সংক্রমণমুক্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। অবশ্য আইসোলেশনের দুই সপ্তাহ পর রোগীর মধ্যে টানা ৭২ ঘণ্টা কোনো উপসর্গ না থাকলেও তিনি করোনামুক্ত হয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হয়। এরপর রোগী আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান। এ সময় আইসোলেশনে থাকাকালীন রোগীর ব্যবহার করা কাপড়চোপড়, ঘর, আসবাব ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত করা জরুরি। না হলে এগুলো আবার সংক্রমণের উৎস হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

রোগীর ব্যবহার করা কাপড়, আসবাব বা অন্য কিছু স্পর্শ করার আগে অবশ্যই হাতে গ্লাভস পরবেন। আইসোলেশনে থাকার সময় আক্রান্ত ব্যক্তি যে কাপড়চোপড় ব্যবহার করেছেন, তিনি সুস্থ হওয়ার পর সেগুলো আলাদা করে রাখুন। পরিষ্কার করার আগে বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, রোগীর কাপড়চোপড় ঝাড়াঝাড়ি করবেন না।

কাপড়চোপড় আলতো করে উঠিয়ে ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট মেশানো গরম পানিতে ভেজান। কিছুক্ষণ এভাবে রেখে তা কেচে কড়া রোদে শুকাতে দিন। কাজ শেষে অবশ্যই সাবান-পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলবেন। হাত ধোয়ার আগে কিছুতেই নাক-মুখ-চোখ স্পর্শ করা যাবে না। রোগীর ব্যবহার করা থালাবাসন এবং অন্য তৈজসপত্রও ক্ষারযুক্ত সাবান বা বাসন মাজার লিকুইড দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে ফেলুন।

রোগী যে ঘরে আইসোলেশনে ছিলেন, সেখানকার মেঝে ডিটারজেন্ট ও জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করুন। ঘরের আসবাবের পৃষ্ঠতলে, দেয়ালে, দরজা–জানালা, জানালার গ্রিল এবং নব ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানি ও ডিটারজেন্ট মেশানো পানি দিয়ে স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করুন। মেঝে ও আসবাব পরিষ্কার করার পর ঘরের সব দরজা-জানালা খুলে দিন। এতে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করবে।

ক্লোরোহেক্সিডিন ও ৭০ শতাংশ আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলের দ্রবণে তুলা ভিজিয়ে সাবধানতার সঙ্গে ঘরের ইলেকট্রিক সুইচগুলো আলতো করে মুছে ফেলুন। করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির আইসোলেশন চলাকালে তিনি যে টয়লেট ব্যবহার করেছেন, সেটিও ভালো টয়লেট ক্লিনার বা ব্লিচ দিয়ে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন। শুধু টয়লেটের মেঝে আর দেয়ালই নয়, কমোড, কল, টাওয়েল রড ও শাওয়ারও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

ডা. হিমেল ঘোষ: চিকিৎসা কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডুমুরিয়া, খুলনা

বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন