কর্মক্ষেত্রে মাথাব্যথা

কর্মক্ষেত্রে মাথাব্যথা
বিজ্ঞাপন

কর্মজীবীদের মধ্যে মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তাঁদের বেশির ভাগ মাথাব্যথার কারণ প্রচণ্ড কাজের চাপ ও দুশ্চিন্তা। কীভাবে এই মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হলো ‘মাইগ্রেন ও মাথাব্যথা সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আয়োজিত এসকেএফ নিবেদিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘মাথা নিয়ে মাথাব্যথা’র শেষ পর্বে। এবারের বিষয় ‘কর্মক্ষেত্রে মাথাব্যথা’। অতিথি হিসেবে ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল ইসলাম এবং অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সি এফ সি বি বিটপীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সারা আলী। এই পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন রবি টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। অনুষ্ঠানটি ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনাকালে কর্মজীবীদের প্রায় সবারই ঘরে বসেই অফিস করা লাগছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম মোডে তাঁদের কাজের পরিমাণ না কমে বরং আরও বেড়ে গিয়েছে। আগে ‘নয়টা-পাঁচটা’ অফিস করে বাসায় ফিরে বিশ্রাম নেওয়া হতো এবং পরের দিনের কাজের জন্য নিজেকে ‘রিচার্জ’ করা যেত। পরিবারকে সময় দেওয়া হতো আলাদাভাবে। আর এখন সারাক্ষণই কাজ ও কমিউনিকেশনের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে তাঁদের কর্মক্ষেত্রে ও পারিবারিক জীবনের ভেতর যে ভারসাম্য ছিল, তা একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং এ জন্য স্ট্রেস বেড়ে গিয়েছে, যা টেনশন টাইপ মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।

default-image

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো বাসায় অফিসের কাজ করার সময় ওই নির্দিষ্ট সময়ে নিজেকে পরিবার থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে। অফিস টাইম শেষে পরিবারকে সময় দিতে হবে। অর্থাৎ একদম আগে ঠিক যেভাবে জীবন চলত, ঠিক সেভাবেই চললে এই ভারসাম্যহীনতা থাকবে না। সে জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদেরও উচিত কর্মক্ষম ব্যক্তিটির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা। এমন কিছু না করা, যাতে তাঁর কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এ ছাড়া যাঁরা বাসায় অফিস করছেন, তাঁদের সব সময় চাপমুক্ত থাকতে হবে, সঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে হবে এবং ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আলোচনায় আরও জানা গেল টেনশনজনিত মাথাব্যথা সম্পর্কে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবারই দুশ্চিন্তা বেড়ে গিয়েছে। নিজেকে নিয়ে, পরিবারের সুস্থতা নিয়ে, আর্থিক অবস্থা—সবকিছু নিয়েই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। এ কারণে মাথাব্যথাও বাড়ছে। প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মাথাব্যথার মূল কারণ হচ্ছে টেনশন আর স্ট্রেস। বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন কারণে মানুষের ভেতরে এসব দেখা দেয়। যেমন শিশুদের পড়াশোনা ও ভালো রেজাল্টের চাপ, কিশোর বয়সে বন্ধুত্ববিষয়ক চাপ, কর্মক্ষেত্রে কাজ নিয়ে নানা রকমের চিন্তা এবং স্ট্রেস, বৃদ্ধ বয়সে নিরাপত্তাহীনতা বা একাকিত্বের চাপ ইত্যাদি। টেনশনজনিত মাথাব্যথার লক্ষণগুলো হলো সারাক্ষণই মাথাব্যথা হওয়া, এর জন্য সব সময় অস্থির বোধ করা, ব্যথার জন্য ঠিকমতো ঘুম না হওয়া।

নারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় মাথাব্যথার পাশাপাশি শরীরে জ্বালাপোড়া করে। এখন করোনার জন্য অনেকে বাসায় কাজের লোক রাখছে না। তাই বাসার নারীদের সংসারের কাজ বেড়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং কাজের চাপের জন্য এ সময়ে নারীদের মাথাব্যথা বেড়ে গিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাইগ্রেনের মাথাব্যথা থেকে টেনশনজনিত ব্যথা একদম আলাদা। মাইগ্রেনের ব্যথায় মাথার একপাশে দপদপ করে ব্যথা হয়, বমি বমি ভাবের সঙ্গে বমিও হয়ে থাকে। কিন্তু টেনশনজনিত ব্যথায় পুরো মাথায় ব্যথা করে, বমি বমি ভাব হয়, তবে বমি হয় না। মাইগ্রেনের ব্যথা বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যায়, কিন্তু টেনশনজনিত ব্যথা টেনশন না কমলে কখনো কমে না। এমনকি ব্যথার ওষুধেও সারে না। অনেক সময় এই ব্যথা কমানোর জন্য চিকিৎসকেরা রোগীদের অ্যান্টিডিপ্রেশন ওষুধ প্রেস্ক্রাইবড করে থাকেন।

যেসব কাজ টেনশন টাইপ মাথাব্যথার ট্রিগার হিসেবে কাজ করে, তা বের করতে হবে। এই ‘ট্রিগার ফ্যাক্টর’গুলো কমানোর মাধ্যমে মাথাব্যথা প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব হবে।

মাইগ্রেনের মাথাব্যথা থেকে টেনশনজনিত ব্যথা একদম আলাদা। মাইগ্রেনের ব্যথায় মাথার একপাশে দপদপ করে ব্যথা হয়, বমি বমি ভাবের সঙ্গে বমিও হয়ে থাকে। কিন্তু টেনশনজনিত ব্যথায় পুরো মাথায় ব্যথা করে, বমি বমি ভাব হয়, তবে বমি হয় না। মাইগ্রেনের ব্যথা বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যায়, কিন্তু টেনশনজনিত ব্যথা টেনশন না কমলে কখনো কমে না। এমনকি ব্যথার ওষুধেও সারে না।

অনেকে বুঝতে পারে না তাদের ব্যথার ট্রিগার কোনটা। চিকিৎসকেরা তখন রোগীর ব্যথার বিস্তারিত ইতিহাস জেনে সেটা বের করেন এবং তাদের তা থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নেওয়া হয়। যেমন বাচ্চাদের পড়াশোনার স্ট্রেসের জন্য ব্যথা হলে অভিভাবকদের বলা হয় তাদের পড়া নিয়ে চাপ না দিতে। সে যতটুকু পড়বে আনন্দসহকারে যেন পড়ে। পাশাপাশি নিয়ম মতো ঘুম এবং ঠিকমতো খাওয়াদাওয়ার প্রতিও অভিভাবকদের লক্ষ রাখতে বলা হয়। হোমমেকার যাঁরা আছেন, তাঁরা যেন তাঁদের সহ্যসীমার বাইরে কাজ না করেন, পাশাপাশি একটা ভালো সাপোর্ট যাতে পান, সেই ব্যাপারে চিকিৎসকেরা পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষভাবে নজর রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ পর্বে অনেকের প্রশ্ন ছিল মাথাব্যথার চিকিৎসার খরচ নিয়ে। টেনশনটাইপ মাথাব্যথায় সাধারণত ওষুধ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এটি নির্ণয় করতে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। তাই এই চিকিৎসায় খুব একটা খরচ হয় না। তবে অস্বাভাবিক মাথাব্যথা, ব্যথার সঙ্গে বমি, অজ্ঞান হওয়া, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে রোগীকে গুরুত্বসহকারে পরীক্ষা করা হয় এবং কোনো বড় রোগ ধরা পরলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। এ ক্ষেত্রে বেশ খরচ করা লাগে। তবে বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় এখন এমআরআই, সিটিস্ক্যান, সিএসএফ স্টাডি ইত্যাদি টেস্ট এবং চিকিৎসা স্বল্প খরচে করা হচ্ছে।

টেনশনটাইপ মাথাব্যথায় সাধারণত ওষুধ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এটি নির্ণয় করতে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। তাই এই চিকিৎসায় খুব একটা খরচ হয় না। তবে অস্বাভাবিক মাথাব্যথা, ব্যথার সঙ্গে বমি, অজ্ঞান হওয়া, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে রোগীকে গুরুত্বসহকারে পরীক্ষা করা হয় এবং কোনো বড় রোগ ধরা পরলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। এ ক্ষেত্রে বেশ খরচ করা লাগে।

অনুষ্ঠানে সারা আলী বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন এবং সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করছেন, সে সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ডা. মাহমুদুল ইসলাম মানসিক চাপ ও মাথাব্যথা নিয়ে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন