default-image
বিজ্ঞাপন

খুব কম মানুষই আছেন, যাঁরা জীবনে অন্তত একবার হলেও কোমরের ব্যথায় ভোগেননি। এ ব্যথার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয় স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান এসকেএফ নিবেদিত ব্যথার সাতকাহনের চতুর্থ পর্বে। অনুষ্ঠানে শ্রাবণ্য তৌহিদার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে ছিলেন নিটোর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং অর্থোপেডিক, ট্রমা ও স্পাইন সার্জন শরীফ আহমেদ জুনায়েদ এবং যোগব্যায়াম প্রতিষ্ঠান ইয়োগানিকার প্রতিষ্ঠাতা ইয়োগা ইনস্ট্রাক্টর এবং হেলথ কোচ আনিকা রাব্বানি। আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার মো. আশরাফুল।
অনুষ্ঠানটি ১১ এপ্রিল প্রথম আলো ও এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ক্রিকেটারদের কোমরে ব্যথা হওয়ার একটা সূক্ষ্ম ঝুঁকি থাকে। মো. আশরাফুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ব্যথার সময় তিনি কী করতেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বেশ ভাগ্যবান ছিলাম, কারণ ক্যারিয়ারে খুব কম ইনজুরিতে পড়েছি। সাধারণত যাঁদের ওজন বেশি থাকে এবং অতিরিক্ত কাজ বা ট্রেনিং করেন, তাঁরাই কোমরের ব্যথায় বেশি ভোগেন। যেকোনো ধরনের ব্যথা হলেই আমাদের ফিজিও যিনি থাকতেন, সব সময় তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী চলতাম।’

কোমরের ব্যথা কমানোর জন্য যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। আনিকা রাব্বানি জানান, এমন অনেক আসন আছে, যেগুলো করলে ব্যথা থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে আছে কোবরা পোজ বা ভুজঙ্গাসন, চাইল্ড পোজ বা বালাসন ইত্যাদি। যাঁরা বয়স্ক বা যাঁরা সারা দিন অফিসে বসে থাকেন, তাঁদের কোমরে ব্যথা হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ কম মুভমেন্ট বা কম হাঁটাচলা বা কাজ করা।

বিজ্ঞাপন

এগুলো এড়াতে হলে শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে পিঠ ও কোমর শক্তিশালী করতে হবে। এ নিয়ে আনিকা রাব্বানি বলেন, এ জন্য শুধু যোগব্যায়াম করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বেশ কিছু ব্যায়াম আছে, যেগুলো করলে পিঠ এবং কোমরের শক্তি বাড়বে। যেমন ডেড লিফট। এটি নিয়মিত করলে পুরো পিঠ শক্তিশালী হয়, ব্যথার সম্ভাবনা কমে।

default-image

প্রতিটি মানুষের জীবনে কোমরের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ, এমনটাই জানালেন শরীফ আহমেদ জুনায়েদ। তিনি আরও বলেন, ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই ব্যথা ভালো হয়ে যায়। অর্থাৎ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে না। কোমর ব্যথা হয় পেশি ও হাড়ের ভারসাম্যহীনতার কারেণ। এই ভারসাম্যহীনতা ওভার স্ট্রেস বা আন্ডার স্ট্রেস দুই কারণেই হতে পারে। যাঁরা খেলোয়াড়, তাঁদের পেশিতে স্প্রেইন বা আঘাত পেলে ব্যথা হয়। আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কায়িক শ্রম কম করলে পেশি দুর্বল হয়ে যায়। দুর্বলতার জন্য দুটো হাড়ের মধ্যের ডিস্কের স্নায়ুতে চাপ পড়ে। এ জন্যই ব্যথা হয়ে থাকে।

কোমরের ব্যথা প্রতিরোধের জন্য সঠিক দেহভঙ্গি এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট জোরে হাঁটা, এক ঘণ্টা টানা বসে থাকার পর দুই বা তিন মিনিটের জন্য হাঁটাহাঁটি করা, টানা এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর দুই বা তিন মিনিটের জন্য বসা, পরিমিত ঘুম, ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম ঠিকমতো মেনে চললেই কিন্তু ব্যথা এড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে শরীফ আহমেদ জুনায়েদ ব্যথানাশক ওষুধ সম্পর্কে বলেন, কখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যথার ওষুধ সেবনে দেখা যায়, প্রায়ই রোগীরা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এ ছাড়া হাড়ের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, উচ্চতা অনুযায়ী ওজনের ভারসাম্য থাকতে হবে। বেশি ওজন হলে ব্যথা হবেই। এ জন্য খাদ্যাভ্যাস বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শর্করাজাতীয় খাবার যেমন ভাত, চিনি, রুটি, আলু কম খেতে হবে। ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ইত্যাদি সম্ভব হলে বাদ দিতে হবে নয়তো চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করে কম গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া স্ট্রেসফুল কন্ডিশন এড়িয়ে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন