কোলোরেক্টাল ক্যানসার: জানতে হবে লক্ষণগুলো

বিশ্বব্যাপী মরণব্যাধিগুলোর মধ্যে ক্যানসার অন্যতম। বাংলাদেশেও এটি মৃত্যুহারের জন্য দায়ী রোগের তালিকায় রয়েছে। তাই ক্যানসার যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতিরোধ করা যায়, সে জন্য এর উপসর্গ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখতে হবে। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা এড়ানো যায়। এর মধ্যে কিছু রয়েছে যার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, আবার কিছু রয়েছে যেগুলো আমরা জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিবর্তন করতে পারি। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। নিয়মমাফিক চলাফেরার মাধ্যমে ক্যানসার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এসকেএফ অনকোলোজি ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক মো. ডা. মোয়াররফ হোসেন, এমবিবিএস, এফসিপিএস, ডিএমআরটি, ফেলোশিপ ট্রেনিং (টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মুম্বাই), ট্রেইনড ইন ক্লিনিক্যাল অনকোলোজি (ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল, সিঙ্গাপুর), অনকোলোজিস্ট, সাবেক পরিচালক ও অধ্যাপক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা এবং অধ্যাপক ডা. কাজী মনজুর কাদের, বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট, অনকোলোজি বিভাগ, ডেল্টা হাসপাতাল লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

এ পর্বের আলোচনার বিষয় ছিল ‘কোলোরেক্টাল ক্যানসার’। অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলাম।

ডা. মোয়াররফ হোসেন বলেন, কোলোরেক্টাল ক্যানসার মূলত উন্নত বিশ্বের রোগ। উন্নত বিশ্বে মানুষ ফাস্ট ফুডে বেশি অভ্যস্ত। নিয়মিত মলত্যাগ না হলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ মলাশয়ের মধ্যে মল যত বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হবে, কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তত বৃদ্ধি পাবে। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্তের হার ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ। কিন্তু আজ থেকে ১০ বছর পর এর হার আরও অনেক বেড়ে যাবে। কারণ, নতুন প্রজন্ম দিন দিন ফাস্ট ফুডের দিকে বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এ–জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। এ রোগ থেকে দূরে থাকতে, বিশেষ করে প্যাকেজড বা স্মোকড ফুড না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা বলে জানান ডা. মোয়াররফ হোসেন।

ডা. মোয়াররফ হোসেন আরও জানান, কোলোরেক্টাল ক্যানসারের উপসর্গগুলোর মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য অন্যতম। এ ছাড়া মলের সঙ্গে রক্ত আসা, শরীরের ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব হওয়া, পেটে ব্যথা অনুভব করা ইত্যাদি লক্ষণ নিয়ে সাধারণত রোগীরা যান ডাক্তারের কাছে। তিনি বলেন, ‘কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা এ রোগ শনাক্ত করতে পারি এবং একই সঙ্গে এর ব্যাপ্তি সম্পর্কেও জানতে পারি। অর্থাৎ এটি শরীরের অন্য কোনো অঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পারি। এর ওপর ক্যানসারটি কোনো স্টেজে আছে তাও জানা যায়।’

কোলোরেক্টাল ক্যানসারের উপসর্গগুলোর মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য অন্যতম। এ ছাড়া মলের সঙ্গে রক্ত আসা, শরীরের ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব হওয়া, পেটে ব্যথা অনুভব করা ইত্যাদিও এ ক্যানসারের লক্ষণ।

ডা. কাজী মনজুর কাদের বলেন, বিশ্বে পুরুষ ও নারীদের কোলোরেক্টাল ক্যানসার তৃতীয় স্থানে অবস্থিত। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়, এখানে প্রথম ১০টি ক্যানসারের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার একটি।

বিজ্ঞাপন

কোলোরেক্টাল ক্যানসার বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কারও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, অর্থাৎ পরিবারের কেউ এতে আক্রান্ত হলে তার এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকবে। এ ছাড়া কোলনে যদি পলিপ থাকে, সে ক্ষেত্রেও এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিছু কিছু ইনফ্লেমেটারি ডিজিজ, যেমন টুলস ডিজিজ থেকেও এ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। যারা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকে, তাদের কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। আমাদের দেশের তুলনায় তাই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয় কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্তের হার অনেক বেশি। কিছু কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস, যেমন ধূমপান কিংবা মদ্যপানেও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই উপসর্গ দেখামাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

কারও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, অর্থাৎ পরিবারের কেউ এতে আক্রান্ত হলে তার এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকবে। এ ছাড়া কোলনে যদি পলিপ থাকে, সে ক্ষেত্রেও এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিছু কিছু ইনফ্লেমেটারি ডিজিজ, যেমন টুলস ডিজিজ থেকেও এ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ক্যানসার পুরোপুরিভাবে প্রতিরোধ করা না গেলেও এর ঝুঁকির কারণগুলো জানা থাকলে আমরা সচেতন হতে সক্ষম হব। ফলে এর ঝুঁকি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে পারব। বলা যেতে পারে, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার ধরন আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং এখানে বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব বলে জানান ডা. কাজী মনজুর কাদের।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন