বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সুতরাং এই চিকিৎসাব্যবস্থা একটি লম্বা শিকলের মতো। এ শিকলে কোথাও এতটুকু ফাটল থাকলে উল্টো রোগীর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। আমাদের হাসপাতালে ২০১৪ সালে এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রথমে শুরু হয়েছিল। এসবিআরটি মূলত প্রথম দিকে ফুসফুস ও যকৃতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন প্রোস্টেট গ্রন্থির ক্যানসার চিকিৎসায়ও এর প্রয়োগ লক্ষ করা যাচ্ছে, কিন্তু শর্ত হচ্ছে একটাই যে এ ধরনের চিকিৎসা কেবল ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

default-image

যেমন ধরা যাক, ফুসফুসের রোগের পরিমাপ সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে চার সেন্টিমিটার এবং টিউমার ফুসফুসের এক পাশে থাকলে ভালো। ফুসফুসের অন্য জায়গায় রোগটির বিস্তার ঘটলে এই চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।

যকৃতের ক্যানসারের বেলায় টিউমারের মাপ সর্বোচ্চ ছয় সেন্টিমিটার হওয়া বাঞ্ছনীয়। যাদের ক্ষেত্রে অন্যান্য চিকিৎসা যকৃতে কাজ করে না, তাদের বেলায় এই এসবিআরটি চিকিৎসায় অসাধারণ সফলতা লক্ষ করা গেছে এবং রোগীকে ছয় মাস থেকে এক বছরও বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

মস্তিষ্কের ক্যানসার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হয় এসআরটি বা এসআরএস। সেখানে একই কথা প্রযোজ্য। মস্তিষ্কের টিউমারে মাপ ছোট হতে হবে এবং এটি মস্তিষ্কের মূল অংশ ব্রেন স্টেম থেকে দূরে থাকতে হবে। রেডিওথেরাপির এসবিআরটি চিকিৎসায় আমরা একসঙ্গে অনেক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্স–রে রোগীর শরীরে প্রয়োগ করি, সেটা সনাতন এক্স–রে থেকে পাঁচ গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। এ জন্য রোগীকে মাত্র পাঁচটা রেডিওথেরাপি দিয়ে পুরো চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায়।

মস্তিষ্কের ক্যানসার চিকিৎসায় এসআরটি একই রকম। কিন্তু এসআরএস একটু ভিন্ন রকমের। এই পদ্ধতিতে এক দিনেই পুরো রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করা হয় এবং এটি এ দেশেই সম্ভব হয়েছে।

একটি অসুবিধা হলো এই চিকিৎসাগুলো রোগীর প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার চিকিৎসায় খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বাংলাদেশের রোগীরা ক্যানসার চিকিৎসকের কাছে অনেক দেরিতে চিকিৎসার জন্য আসেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই এই অত্যাধুনিক চিকিৎসাগুলো প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না।

তারপরও আমরা গর্বিত এ কারণে যে উন্নত বিশ্বের মতো এ দেশেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পূর্ণ সফলতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ফোর ডাইমেনশনাল সিটি স্ক্যানারের সাহায্য নিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসকে ৩০ সেকেন্ডের মতো সাময়িক বন্ধ রেখে বাঁ স্তনের রেডিওথেরাপি চিকিৎসাব্যবস্থা সফলভাবে সম্পন্ন করা গেছে। শরীরের বাঁ দিকে হৃদ্‌পিণ্ড বা হার্ট থাকায় অনেকাংশে আড়াআড়িভাবে রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য হৃদ্‌পিণ্ডের অনেক ক্ষতি হতে পারে। সেটাকে পুরোপুরি কমানোর জন্য এই চিকিৎসাব্যবস্থা। এটা হার্ট খুব কম পরিমাণ রেডিয়েশন পায় এবং ফলে এ ধরনের রোগীদের হার্ট অনেক দিন ভালো থাকে।

default-image

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, আমরা হয়তো সব ক্যানসার রোগীকে এ ধরনের অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রয়োগ করতে পারব না। তবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এসব চিকিৎসা প্রয়োগ সম্ভব এবং এটাই আমাদের সফলতা। অন্যান্য উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক, এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

লেখক: সিনিয়র কনসালট্যান্ট, রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল, ঢাকা

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন