বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার ধরা পড়ার জন্য এর লক্ষণগুলো জানা জরুরি। দীর্ঘদিন যদি কারও ধূমপানের ইতিহাস থাকে আর ওই ব্যক্তি যদি কাশিতে ভোগেন, যদি দ্রুত ওজন কমে যায়, তাহলে তাঁর ফুসফুসে ক্যানসার হতে পারে। একইভাবে নারীর বয়স যদি চল্লিশোর্ধ্ব হয়, আর স্তনে যদি চাকা থাকে, তাহলে সেটাকে উপসর্গ হিসেবে ধরা যেতে পারে। কোনো রোগীর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায়, ওজন কমে যায়, সেটা কোলন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। এ রকম উপসর্গ দেখা দিলে রোগীর অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ক্যানসার নির্ণয়ে মলিকুলার ডায়াগনোসিস কার্যকর। এখানে মানুষের সেলের ভেতরে জিনের অবস্থা দেখা হয়। ইমিউনো হিস্ট্রি কেমিস্ট্রি (আইএইচসি) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। আর যে পরীক্ষাগুলো বাংলাদেশে করা যায় না, সেগুলো স্যাম্পল নিয়ে পাশের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশেই উন্নত পদ্ধতিতে সঠিকভাবে ক্যানসার নির্ণয় করা সম্ভব। এটা আগামী দিনে আরও উন্নত হবে।

default-image

একজন প্রশ্ন করেছেন, তাঁর বাবার আগে কোলন ক্যানসার ছিল। সেটার দীর্ঘ সময় চিকিৎসার পর বেশ খানিকটা সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। এরপর আবার তাঁর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছে। ব্যথায় খুবই কষ্ট পাচ্ছেন। এখন তাঁর কী করণীয়? উত্তরে ডা. মো. কুদরত-ই-ইলাহী বলেন, কোলন ক্যানসারটাই ফুসফুসে পৌঁছে ফুসফুসের ক্যানসারে রূপ নিয়েছে কি না, সেটা নির্ধারণ করা আগে জরুরি। তারপর চিকিৎসা শুরু করতে হবে। ব্যথাটা একটু কমিয়ে স্বস্তিতে থাকার জন্য প্রাথমিকভাবে ডাইক্লোফেনাক, ইটোরিক্সের মতো সাধারণ ব্যথা কমার ওষুধ দেওয়া হয়। এতেও ব্যথা না কমলে মরফিন দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া কিছু কর্মকাণ্ড আর জীবনযাপনের পদ্ধতি ব্যথা কমিয়ে রাখতে পারে। এ ছাড়া ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে ব্যথা কমিয়ে রাখার জন্য একটা বিভাগই আছে। সেখানেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।

আরেকজন রোগী জানান, তাঁর গলায় ক্যানসার হয়েছে। কিন্তু তাঁর হার্টের সমস্যা থাকায় রেডিও বা কেমোথেরাপি দিতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কি হোমিও চিকিৎসা করতে পারবেন? উত্তরে এই ডাক্তার বলেন, কোমো বা রেডিওথেরাপির জন্য শারীরিক ফিটনেস জরুরি। আর সেগুলোর মধ্যে হার্টের কন্ডিশন জানা খুবই জরুরি। যদি হার্ট ভালো না থাকে, তাহলে এগুলোর কোনোটাই দেওয়া যাবে না। অন্যান্য বেস্ট সাপোর্টিভ কেয়ার ও ট্রিটমেন্টের সাহায্যে তাঁকে ভালো রাখার চেষ্টা করা হয়। হোমিও চিকিৎসা করতে পারবেন কি না, এই বিষয়ে কিছু জানাতে পারবেন না বলে যোগ করেন এই ডাক্তার। হোমিও চিকিৎসার বাইরে মিউজিক থেরাপি, হারবাল এগুলোও আছে।

রোগীরা যে ভুলটা করেন সেটা হলো, ক্যানসার যখন বেশি খারাপের দিকে চলে যায়, তখন চিকিৎসা করাতে আসেন। কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসার অনেক সুযোগ থাকে, সুস্থ হয়ে যাওয়া বা বেশি দিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে। যেকোনো ক্যানসারে যদি প্রথমে অপারেশনের মাধ্যমে টিউমারটা সরিয়ে ফেলা যায়, তাহলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন