বিজ্ঞাপন

ব্লাড ক্যানসার কী

রক্তরোগের ক্যানসার বলতে আমরা মূলত ব্লাড ক্যানসারকেই বুঝি। এতে রক্তের কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তখন রক্তের কোষগুলো স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। কোষভেদে এ ক্যানসার বিভিন্ন রকম হয়। এর কমন নাম লিউকেমিয়া। বাংলাদেশে ব্লাড ক্যানসারের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। অ্যাকিউট মাইলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া, ক্রনিক মাইলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া, অ্যাকিউট লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া, ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া, অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া, নন হজকিনস লিম্ফোমা, হজকিনস লিম্ফোমা—বাংলাদেশে এ রকম নানান ধরন আছে। আমাদের অস্থিমজ্জা থেকে এগুলো জন্ম নেয়। ১৫ বছরের নিচের শিশুদের যত লিউকেমিয়া ক্যানসার হয়, তার ৪ ভাগের ৩ ভাগই অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া। ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁরা, তাঁদের বেশি হয় অ্যাকিউট মাইলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া। অন্যান্য দেশে ক্যানসারের রোগীর সংখ্যা, হার একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। কিন্তু আমাদের দেশে এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সারা বিশ্বে যত ক্যানসার আছে, তার সাড়ে ৬ ভাগ রক্তরোগের ক্যানসার। আমাদের দেশে ২০৩০ সালে ৪৮ শতাংশ ক্যানসার বেড়ে যাবে। জাতীয়ভাবে আমাদের দেশে ক্যানসারের কোনো হিসাব রাখা হয় না। ক্যানসার রেজিস্ট্রি যেটা রয়েছে, সেটা যথেষ্ট নয়। যদিও বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা বাংলাদেশেই আছে। কিন্তু এ ‘কিন্তু’ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

ব্লাড ক্যানসার কেন হয়?

অনেকগুলো ফ্যাক্টর জড়িত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসারের কারণ অজানা। যেগুলো জানা, সেগুলোর বেশির ভাগই মাল্টিফ্যাক্টরিয়াল। তাই যেকোনো একটা স্পেসিফিক কারণ বলা যাবে না। আমাদের ব্লাড সেলে যে ক্রোমোজোম থাকে, সেখানে একটা পরিবর্তন আসে। এই জেনেটিক চেঞ্জ ক্যানসার নির্দেশ করে। কিছু থাকে জেনেটিক্যাল, আবার কিছু থাকে পরিবেশগত। পরিবেশের ভেতর থাকতে পারে কোনো কেমিক্যালের প্রভাব, ড্রাগস, কোনো ভাইরাস এমনকি ব্যাকটেরিয়াও এ পরিবর্তনের জন্য দায়ী। এসবের ফলে নরমাল জিন রূপান্তরিত হয়ে ক্যানসারাস জিনে পরিণত হয়। ফলে সেলের বৃদ্ধির গতি বহুগুণে বেড়ে যায়। আবার ক্ষতিকর বৃদ্ধ জিন অপ্রয়োজনীয় জিনগুলোও ধ্বংস হয় না। সেখানে ১১ হাজার পর্যন্ত স্বাভাবিক, সেখানে হোয়াইট ব্লাড সেলের কাউন্ট দুই–তিন লাখ হয়। কোষগুলোকে তো জিন নিয়ন্ত্রণ করে। চার হাজার থেকে ১১ হাজার পর্যন্ত হতে পারে সেল কাইন্ট। যখনই সেলের সংখ্যা ১১ হাজার হয়ে যায়, তখন জিন নির্দেশ দেয় যে যথেষ্ট। আর লাগবে না। এভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকে। কিন্তু যেকোনোভাবে জেনেটিক এই ব্যালান্স নষ্ট হয়ে গেলে তখন জিন আর কাজ করে না। ফলে কোষের অস্বাভাবিক গ্রোথ হতে থাকে। যারা রঙের কারখানায় কাজ করে, ভেজাল খাবার, রেডিয়েশনের কাজ করে, কেমিক্যাল কারখানার কাজ করে, তাদের এ ক্যানসার হতে পারে।

লক্ষণ কী

সাধারণ শারীরিক সমস্যা থেকেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ রোগ ধরা পড়ে। যেমন অনেক দিন ধরে জ্বর, সেই জ্বর সারছে না। বা শরীর দুর্বল। দুর্বলতা যাচ্ছে না। গলায় ব্যথা আছে। গলার গ্রন্থিগুলো ফুলে গেছে। কখনো কখনো পেটেও ব্যথা হতে পারে। শরীরে ব্যথা। বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হচ্ছে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক শুরু হয়, শেষ হচ্ছে না। এমন সময় রক্ত পরীক্ষায় দেখা যেতে পারে ক্যানসার রোগ কি না। তবে রক্তের ক্যানসার পরীক্ষার ক্ষেত্রে ‘দ্য ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন কিন্তু জিন ট্রান্সফার বা জিন কারেকশন করা যায়। জন্মের পরপরই যদি জিনের পরীক্ষা করে সেখানে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, তাহলে ট্রিটমেন্ট করে সেটা সারিয়ে তুললে পরে আর সেখান থেকে ক্যানসারের কোনো ঝুঁকি থাকল না। তাই ক্যানসার চিকিৎসার জন্য কবে ক্যানসার হবে, সেই অপেক্ষা না করে আগেই সারিয়ে তোলা যায় সম্ভাব্য ক্যানসার।

ব্লাড ক্যানসার কি বংশগত?

সরাসরি বংশগত নয়। তবে ইনহেরিটেড বা জন্মগত কিছু রোগ থাকলে কিছু কিছু ব্লাড ক্যানসার হওয়র আশঙ্কা বেশি থাকে। যেমন ডাউন সিনড্রোম, নিউরো ফাইব্রো মাইটোসিস।

আমাদের দেশে চিকিৎসা

কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট রয়েছে। অন্য বিষয়গুলো আমরা এখনো শুরু করতে পারিনি। তবে বোন ম্যারোটাকে আরও আধুনিক ও ব্যাপকভাবে করার জায়গা আছে। অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া চিকিৎসার অনেক উপায় আছে। আটটা টাইপ আছে এই ক্যানসারের। এর ভেতর এম জিরো, এম ওয়ান আর এম টুর চিকিৎসা ও সেরে ওঠার সম্ভাবনা এক রকম। সঠিক সময়ে ঠিকঠাক চিকিৎসা হলে সেরে উঠতে পারেন। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে চিকিৎসাও জটিল আর খরচসাপেক্ষ, সম্ভাবনাও কম। কেমোথেরাপিতে তিন থেকে পাঁচ বছর সারভাইভ করে। স্টেমসেল থেরাপি, বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনে আরও বেশি দিন বাঁচতে পারেন রোগী।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ওয়ান–স্টপ ব্লাড ক্যানসার হেমাটোলজির চিকিৎসা এখানেই সম্ভব।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন