default-image

আমাদের শরীরে যখন ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়, তখন তা ক্রিস্টাল বা দানাদার আকারে অস্থিসন্ধিতে জমে। ফলে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ হয়, সন্ধি লাল হয়ে ফুলে যায়, তীব্র ব্যথা হয়। এ অবস্থাকে গাউট বা গেঁটে বাত বলে। কাজেই শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

কিডনি রোগ, স্থূলতা, মেটাবলিক সিনড্রমে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। যেসব খাবারে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে, সেগুলো পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে লাল মাংস (গরু, ছাগল ইত্যাদির মাংস), অ্যালকোহল, ডাল, শিম, বরবটি, কচু, লতি, পুঁইশাক, টমেটো, ফুলকপি ইত্যাদি।

ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বা অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ দেখা দিলে মেডিসিন বা বাত রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। এ ছাড়া ব্যথা কমাতে ফিজিওথেরাপি বেশ কার্যকর। এ ক্ষেত্রে দক্ষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এবার জেনে নেওয়া যাক, যেসব ব্যায়াম ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে।

১. অ্যারোবিক ব্যায়াম: হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো কিংবা নাচ ভালো ব্যায়াম হতে পারে। প্রথম দিকে ১০ মিনিট করে এসব ব্যায়াম করলেই চলবে। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত করতে হবে সপ্তাহে পাঁচ দিন। পাশাপাশি সঠিক ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

২. সাঁতার: সপ্তাহে দুই দিন ১৫ মিনিট করে সাঁতার কাটতে হবে। ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে তা ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত করা যাবে।

৩. স্ট্রেচিং: প্রথমে হাতের কবজি মুষ্টিবদ্ধ করে চারদিক ঘোরাতে হবে। ঘড়ির কাঁটার দিকে ও উল্টো দিকে ৩০ সেকেন্ড করে ঘোরান। এভাবে ১০ বার ব্যায়ামটি করুন। এরপর একইভাবে কাঁধের সন্ধি এবং অন্যান্য অস্থিসন্ধিতে একইভাবে ঘোরানোর বা নড়াচড়ার চেষ্টা করুন। প্রতিটি অস্থিসন্ধিতে ৩০ সেকেন্ড করে ১০ বার ব্যায়ামটি করুন।

৪. পায়ের পাতা ধরা: বসে পা দুটি সোজা করে হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরার চেষ্টা করুন। ৩০ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার সোজা হয়ে বসুন। এভাবে ১০ বার করুন।

এ ছাড়া অস্থিসন্ধির ব্যথা কমাতে অথবা সন্ধি ফুলে গেলে বরফ বা ঠান্ডা সেঁক ভালো কাজ করে। অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করতে হবে।

* উম্মে শায়লা রুমকি, ফিজিওথেরাপি পরামর্শক, পিটিআরসি

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন