বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক ডা. এম জি আজম কথা বলেন, টিকার কার্যকারিতা নিয়ে। তিনি বলেন, শুরুতেই বলতে চাই করোনা যদি পুরোপুরি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে চাই তাহলে ভ্যাক্সিন ছাড়া সম্ভব হবে না। আর যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাক্সিন তৈরি করেছে, তারা যথেস্ট পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের মাধ্যমেই বাজারে ভ্যাক্সিন সরবারহ করার অনুমতি পেয়েছে। এই ভ্যাক্সিন ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। সুতরাং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ প্রকাশের অবকাশ নেই।

আর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমরা এখন অতিক্রম করছি। এ জন্য আগের চেয়েও বেশি সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। দ্বিতীয় ঢেউ বলতে আমরা কী বুঝি, সে বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিদের্শনা অনুযায়ী, কোনো একটি জায়গায় যদি শনাক্তকরণের তুলনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশ হয় এবং এই পরিস্থিতি যদি টানা তিন সপ্তাহ চলে, তবে বলা যায় সেই এলাকায় মহামারি নিয়ন্ত্রণে। এই বিবেচনায় আমরা এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অতিক্রম করছি। ভ্যাক্সিন চলে এলেও এখনো সবার কাছে পৌঁছায়নি। সুতরাং যেকোনো মূল্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

অধ্যাপক চৌধুরী হাফিজুল আহসান বলেন, ‘ভ্যাক্সিন নিয়ে যাঁরা দ্বিধা প্রকাশ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই, ফাইজারের যে ভ্যাক্সিনটি রয়েছে তার দুটি ডোজই আমি নিয়েছি। পাশপাশি আমার পরিবারের সবাই নিয়েছে। তারা আমাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে বলেই আমরা ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছি।’ এর জন্য আমাদের জানতে হবে এই ভ্যাক্সিন কীভাবে বাজারে ছাড়া হয়। শুরুতে হাজার হাজার মানুষের মাঝে এর ট্রায়াল চলে। আমেরিকায় ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাক্সিনের ব্যবহার শুরুর পর দেখা গেল ভাইরাস গ্রহীতাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্তত ৯৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। আবার খুবই কম ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ভ্যাক্সিন দেওয়ার পরও যাঁরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের সংক্রমণের মাত্রা খুবই কম। সুতরাং এ বিষয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ আমাদের থাকা উচিত নয়। আরও একটি বিষয় লক্ষ করলেই দেখা যাবে পোলিও বা চিকেনপক্স এখন আর ভয়াবহ কিছু নয়। কারণ, এর ভ্যাক্সিন।

করোনার শুরু বা প্রথম ওয়েভে আমরা নিউইয়র্কে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেছি, আমেরিকার অন্য প্রদেশের মানুষেরা হয়তো ভেবেছিল দ্বিতীয় ঢেউ হয়তো তারা দেখবে না। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, লাস ভেগাসে। এখানকার হাসপাতালগুলোতে কোনো বেড ফাঁকা নেই। এর জন্য অনেকগুলো কারণ দায়ী। এর মাঝে এখানে ভ্যাক্সিন অনেকটাই সহজপ্রাপ্য। কিন্তু গত শুক্রবারের একটি রিপোর্টে আমি দেখলাম যে এখানকার ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো ভ্যাক্সিন নিতে আগ্রহী না। ভ্যাক্সিন নিয়ে ভুল ধারণা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আমেরিকাতেও রয়েছে। এখানে একটি বিষয় আমি উল্লেখ করতে চাই তা হচ্ছে, রিস্ক এবং বেনিফেট। যেকোনো ধরনের মেডিসিনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। কিছু রিক্স নিতেই হবে। কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবেই। কিন্তু জানতে হবে সেটার পরিমাণ বা সে হার। বর্তমান সময়ে মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তথ্যপ্রবাহ অবাধ। তাই বলে ভুল তথ্য দেওয়া ঠিক নয়। আবার আমাদের বোঝা উচিত কোন তথ্যাটা ভুল, কোনটা সঠিক।

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে অধ্যাপক চৌধুরী হাফিজুল আহসান এবং অধ্যাপক ডা. এম জি আজম আলোচনা করেন করোনায় আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্ত জমাটবাঁধা সমস্যা নিয়ে। তাঁরা বলেন, করোনা অন্য সব সাধারণ ভাইরাসের মতো না। এর কয়েকটি ধাপ রয়েছে। এটি একেকজনকে একেকভাবে আক্রান্ত করে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি ইমিউন থ্রম্বসিসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে এটি আমাদের শরীরের মলিকুয়াগুলেশন প্রসেস বা রক্ত জমাটবাঁধার প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি কার্যকর করে তোলে। এ সময় অ্যান্টিকোয়াগুলশেন জাতীয় ওষুধ রোগীকে দিতে হয়। তবে ঢালাওভাবে সবার জন্য এটি প্রয়োজন নেই। যাদের অবস্থা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, শুধু তাদের এই ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত। আমেরিকাতেও রোগীর সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রোগীকে অ্যান্টিকোয়াগুলশেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। এককথায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর অবস্থা বিবেচনায় এই ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। আমেরিকায় দু–এক দিন আগের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গুরুতরভাবে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ গ্রয়োগে তাদের অর্গান ডিসফাংশনের সম্ভাবনা কম, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকিও কম।

অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে আবারও আলোচনা হয় করোনা ভ্যাক্সিন নিয়ে। এ সময় অধ্যাপক চৌধুরী হাফিজুল আহসান বলেন, ভ্যাক্সিন নেওয়াটা এখন আমাদের মানবিক দায়িত্ব। কারণ, করোনা দ্রুত তার চেহারা পাল্টাচ্ছে। যদি এটি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে, তবে হয়তো আমরা করোনার কাছে হেরে যাব। সুতরাং পৃথিবী থেকে করোনা দূর করতে হলে ভ্যাক্সিনের বিকল্প নেই। আর একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। ভ্যাক্সিনের কিছু পার্শপ্রতিক্রিয়া বা সাইড এফেক্ট আছে বা থাকবেই। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে রিস্ক অ্যান্ড বেনিফিট। এখানে আমাদের বেনিফিট বেশি। সুতরাং ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের সুযোগ নেই। আবার বিশেষ কোন দেশে প্রস্তুত ভ্যাক্সিন কার্যকর আর অন্য দেশে তৈরিটি কার্যকর না। এমন কথারও কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, ভ্যাক্সিন তৈরি গাইডলাইন সবার জন্যই এক এবং এটি সবাইকে অবশ্যই মানতে হয়।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন