টিকা নিলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

যেকোনো ধরনের টিকারই সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেমন: জ্বর, শরীরে ব্যথা, টিকা প্রয়োগের জায়গায় লালচে হওয়া। এসবে ভয় না পেয়ে করোনাভাইরাসকে ভয় পাওয়া উচিত। করোনা থেকে বাঁচতে চাইলে টিকা নিতে হবে। কেবল সেটাই নয়, স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে। অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

default-image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা ও এর প্রতিকার নিয়ে প্রথম আলো আয়োজন করে এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ের সুরক্ষা’। অনুষ্ঠানটির দশম পর্বে ডা. নাদিয়া নিতুলের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ উল্লাহ ফিরোজ। অনুষ্ঠানটি ২৭ জানুয়ারি প্রথম আলোর ও এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডা. মোহাম্মাদ উল্লাহ ফিরোজ আলোচনা করেন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগী, বিশেষ করে যাঁদের হৃৎপিণ্ডে রিং রয়েছে, তাঁদের করোনার সময়ের যত্ন নিয়ে। তিনি বলেন, আগে থেকে যেসব রোগীর উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেলিওর, হার্টে রিং বসানো ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে, তাঁদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও যেমন বেশি থাকে, তেমনি তাঁরা আক্রান্ত হলে মৃত্যু ঝুঁকিও বেশি থাকে। এ ধরনের রোগী করোনায় আক্রান্ত হলে রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।

ভাইরাসের সংক্রমণে দেহের গভীর শিরাগুলোয় থ্রম্বোসিস তৈরি হয়, যা সাধারণত পায়ের শিরায় দেখা যায়। এভাবে রক্ত জমাট বেঁধে শিরার জায়গায় জায়গায় আটকে পড়ে কিংবা সেগুলো যদি টুকরা বা ক্ষুদ্র হয়ে ভেঙে ফুসফুসের দিকে যায়, তখন তা রক্ত চলাচলকে আটকে দিয়ে জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। তাই করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই রক্ত তরল করার ওষুধ প্রয়োগ করতে বলা হয়। যেমন রাইভ্যারোক্সেবান–জাতীয় ওষুধ। তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। রোগী নিজে এই ওষুধ গ্রহণ করলে অন্য জটিলতা দেখার আশঙ্কা রয়েছে।

এরপর ডা. মোহাম্মাদ উল্লাহ ফিরোজ আলোচনা করেন টিকা বিষয়ে। তাঁর মতে, করোনা মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে টিকা। পৃথিবীর বিভিন্ন গবেষণা ও ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান করোনার টিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অ্যাস্ট্রজেনেকা, যা তৈরি করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। একটি ওষুধ বা টিকা যেকোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেও একই ফর্মুলায় অন্য কোনো কোম্পানি অনুমতি সাপেক্ষে সেই ওষুধ বা টিকা তৈরি করতে পারে এবং তা বিপণনের ব্যবস্থা করতে পারে। আমদের দেশে যে টিকা এসেছে, এটি তৈরি করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। এটি তৈরি করতে তারা ব্যবহার করেছে অক্সফোর্ডের আবিষ্কৃত ফর্মুলা। সুতরাং আমাদের ধরে নিতে হবে, সেরাম যে টিকা তৈরি করেছে, তা অক্সফোর্ডের টিকার মতোই নিরাপদ।

ডা. মোহাম্মাদ উল্লাহ ফিরোজ আরও বলেন, আরেকটি কথা না বলেলই নয়, যেকোনো ধরনের টিকারই কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন: একটু জ্বর, শরীর ব্যথা, যেখানে টিকা প্রয়োগ করা হয় সেই জায়গা কিছুটা লাল হয়ে যাওয়া বা ব্যথা করা। এ ধরনের ছোট ছোট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কারও বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয় না। সব মিলিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে, টিকা ছাড়া করোনা থেকে মুক্তির উপায় নেই। আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, এ টিকা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ বছরের ওপরের মানুষের জন্য। অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তারা এটি নিতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর এটি ট্রায়াল করা হয়নি। তাঁরাও এটি গ্রহণ করতে পারবেন না। এ ছাড়া যাঁদের ইমিউন সাবট্যান্স আছে, তাঁরা টিকাটি গ্রহণ করতে পারবেন কি না, পরিষ্কার ধারণা নেই। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাবে। এমনকি তাঁদের টিকা নেওয়া আরও বেশি জরুরি। কারণ, অন্য যেকোনো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা যদি করোনায় আক্রান্ত হন, তবে তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে ডা. মোহাম্মাদ উল্লাহ ফিরোজ আলোচনা করেন রক্ত তরল করার ওষুধ কীভাবে কাজ করে এবং এটি কত দিন গ্রহণ করতে হয়, তা নিয়ে। তিনি বলেন, সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি করোনায় আক্রান্ত রোগীদের এই রক্ত তরল করার ওষুধ দেওয়া হয়। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, এই ওষুধ কীভাবে দেওয়া হবে এবং কত দিন সেবন করতে হবে। এ বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। কারণ, রোগীর অবস্থা যদি জটিল হয়, তাহলে রক্ত তরল করার ওষুধ ইনজেকশন ফর্মে দেওয়া হয়। যদি কম জটিল হয়, তাহলে মুখে খেতে দেওয়া হয়।

আবার করোনা ভালো হয়ে গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক থেকে দুই মাস বা আরও বেশি সময় এই ওষুধ সেবন করতে হতে পারে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কিছুই করা যাবে না। আরও একটি বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিতে হবে, তা হচ্ছে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি রয়েছে, বয়স বেশি (ষাটোর্ধ্ব), তাঁদেরই ঝুঁকি অনেক বেশি। একটি কথা সবারই খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে, আমাদের শরীরের ফাংশনগুলো খুবই জটিল এবং প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রেই আলাদা। তাই সবাইকে যার যার জায়গা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দুরে থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন