ভালো থাকুন

ডিম্বাশয়ে ‘চকলেট সিস্ট’

বিজ্ঞাপন
default-image

ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট একধরনের এন্ডোমেট্রিয়াল সিস্ট। দেখতে অনেকটা চকলেটের মতো হয় বলে এমন নামকরণ। জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। এই এন্ডোমেট্রিয়াম টিস্যু যদি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে জরায়ুর বাইরে চলে আসে, তাকে এন্ডোমেট্রিওসিস বলে। এটি সবচেয়ে বেশি হয় ডিম্বাশয়ে। সাধারণত যাঁদের এন্ডোমেট্রিওসিস রয়েছে, তাঁদের চকলেট সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি। তবে আগে থেকেই সচেতন হলে জটিলতা অনেকটাই কম হয়।

কেন হয়

মাসিকের সময় জরায়ুর বাইরের এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যুগুলো ছিঁড়ে যায়। এ সময় অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হয়। এই রক্ত ডিম্বাশয়ের ভেতরে জমে সিস্ট তৈরি হয়।

সাধারণত ৩০-৪৫ বছর বয়সী নারীদের এই সিস্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে কম বয়সী মেয়েদেরও এই সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া যাঁদের সন্তান হয়নি বা বন্ধ্যাত্ব রয়েছে, প্রথম সন্তান দেরিতে নিয়েছেন, তাঁদেরও এ সমস্যা হতে পারে। বংশগতভাবেও সমস্যাটি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপসর্গ

২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গই থাকে না। ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথা হতে পারে, যা মাসিক শুরুর দুই-তিন দিন আগে শুরু হয় এবং মাসিকের সময় তীব্রতর হয়ে ওঠে। মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত এবং ঘন ঘন মাসিকও চকলেট সিস্টের উপসর্গ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তলপেটে বা কোমরে ব্যথাও হতে পারে।

সন্তান ধারণে প্রভাব

চকলেট সিস্ট ধীরে ধীরে ডিম্বাশয়ের টিস্যুকে নষ্ট করে ফেলে। এ কারণে অনেকের ক্ষেত্রেই গর্ভধারণে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে এই সিস্ট নিয়ে গর্ভধারণ বেশ কষ্টসাধ্য হলেও একেবারে অসম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা

রোগীর বয়স, সিস্টের ধরন, উপসর্গ, একটা বা দুটো ডিম্বাশয় আক্রান্ত কি না ইত্যাদি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। চকলেট সিস্ট আছে, এমন নারীদের মধ্যে যাঁদের বয়স কম ও বিবাহিত, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব সন্তান নেওয়া উচিত। কারণ সমস্যাটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে সন্তান ধারণের ফলে তা অনেকটাই সেরে যায়।

সিস্টের আকার চার সেন্টিমিটারের বেশি হলে ব্যথা বেশি, গর্ভধারণে জটিলতা বা বন্ধ্যাত্ব এবং সিস্ট ফেটে যাওয়ার সমস্যায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

মনে রাখতে হবে, সচেতন থাকলে চকলেট সিস্টে জটিলতা অনেক কম হয়। কাজেই মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, ঘনঘন মাসিক, সন্তান ধারণে বিলম্ব কিংবা সন্তান না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

লেখক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগ, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

আগামীকাল পড়ুন: কোমরে আঘাত পেলে কী করবেন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন