বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা

২০১৫ সালে স্বাস্থ্য বাতায়ন নামে কল সেন্টার চালু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর নম্বর ১৬২৬৩। ২৪ ঘণ্টা এই সেন্টার খোলা থাকে। এখানে ফোন করে বিনা মূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়া যায়। এখানে কর্মরত চিকিৎসকেরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বছর ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৮ হাজার ১৭৯ জন স্বাস্থ্য বাতায়নে ফোন করে সেবা নিয়েছেন।

করোনার সময় স্বাস্থ্য বাতায়নের মতো কল সেন্টারের গুরুত্ব আরও বেশি অনুভূত হয়েছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসকের কাছে যেতে না পারা মানুষ স্বাস্থ্য বাতায়নে ফোন করে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ নিয়েছেন। দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত কল এসেছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৭টি। করোনাকালে স্বাস্থ্য বাতায়ন ডিজিটাল হাসপাতাল হিসেবে কাজ করেছে। স্বাস্থ্য বাতায়নের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাভাবিক সময়ে ২৪ ঘণ্টায় কল আসে ৫ থেকে ১০ হাজার। মহামারিকালে কল এসেছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার। এই বিপুলসংখ্যক কলের জবাব দেওয়ার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক সেখানে যুক্ত করা আছে।

টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে প্রায় ১০০ হাসপাতালে। এর মাধ্যমে উপজেলা হাসপাতালে থাকা রোগী ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পান। তবে এসব উদ্যোগ বা ব্যবস্থা যদি কাজে না লাগে অথবা প্রয়োজনের সময় মানুষ যদি সেবা না পান, তা হলে সরাসরি অভিযোগেরও ব্যবস্থা আছে।

ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি

স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া ছাড়াও স্বাস্থ্য খাত ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জাতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল থেকে শুরু করে চালু ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিকে একটি করে কম্পিউটার এবং ২৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে টেবলেটসহ ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠ থেকে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও টেলিমেডিসিন সেবা, ভিডিও কনফারেন্স, স্বাস্থ্যশিক্ষা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ নিয়মিত করা হয়। এমআইএস বর্তমানে হেলথ সিস্টেম স্ট্রেনদেনিং নামে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসূচিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি সেবা প্রতিষ্ঠানের মান, দক্ষতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। তার ভিত্তিতে প্রতিবছর সেরা প্রতিষ্ঠানকে ‘হেলথ মিনিস্টারস’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

বিশ্বের ৬৩টি দেশের স্বাস্থ্য খাতে ডিএসআইএস–২ নামে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ইলেকট্রনিক তথ্য, স্বাস্থ্য জনবল, হাসপাতাল অটোমেশন, জনস্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্ক চালু করেছে এমআইএস। দেশগুলোর মধ্যে সফটওয়্যারটি সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ।

ডিএসআইএস–২ ব্যবহারকারী সর্ববৃহৎ দেশ হওয়ায় জার্মান সরকার ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগকে ‘বেস্ট প্র্যাকটিস অ্যাওয়ার্ড’ দেয় এবং আ কোয়াইট রেভল্যুশন ইন হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম ইন বাংলাদেশ নামের একটি বইও প্রকাশ করে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ ও স্বাস্থ্য খাতের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের পরিধি ও মান বাড়াতে হবে।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন