বিজ্ঞাপন

হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরক্সিন হরমোনের ঘাটতি খুবই মৃদু ধরনের হতে পারে। এতে তেমন উল্লেখযোগ্য উপসর্গ না-ও থাকতে পারে। কিশোরী বা অল্পবয়স্ক নারীর মাসিকের দীর্ঘসূত্রতা, মাসিকে অতিরিক্ত রক্তপাত, এর ফলে রক্তশূন্যতা ও ক্লান্তির মতো সমস্যাগুলোকে অনেক সময়ই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। একই সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, শুষ্ক খসখসে ত্বক, চুল পড়ার মতো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা পরীক্ষা করার বিষয়টি অনেকে প্রয়োজন মনে করেন না। বিষণ্নতা, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগের অভাব, দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বা অবসাদগ্রস্ততার মতো সমস্যাকেও মেয়েরা পাত্তাই দিতে চান না। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এগুলোকে বড় কোনো সমস্যা মনে করেন না। অথচ এসব হতে পারে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতির প্রভাবে।

মৃদু মাত্রার থাইরয়েড হরমোন ঘাটতিও নারীর প্রজননক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সন্তান ধারণে বিলম্ব বা বারবার গর্ভপাতের একটা বড় কারণ এটি। অনেক পরিবারেই সন্তান হতে দেরি হওয়া বা সন্তান গর্ভে নষ্ট হওয়ার কারণে মেয়েদের ভীষণ অশান্তির মধ্যে পড়তে হয়। অথচ এর পেছনের কারণটি অনুসন্ধান করার চেষ্টা করা হয় না। গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ নির্ভর করে মায়ের থাইরয়েড স্ট্যাটাসের ওপর। তাই এখন যেকোনো নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে, উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষাকে জরুরি মনে করা হচ্ছে।

কেবল প্রজনন নয়, নারীদের থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি যথাযথভাবে ও যথাসময়ে চিকিৎসা করা না হলে আরও নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ওজন বেড়ে যাওয়া ও রক্তে চর্বি বাড়ার কারণে পরবর্তী সময়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি হওয়া। ক্রমাগত কোষ্ঠকাঠিন্যর কারণে নারীদের পাইলস ও মলদ্বারের নানা সমস্যাও দেখা দেয়। ক্লান্তি, অবসাদ, বিষণ্নতা, ঘুমঘুম ভাব, ভালো না লাগা, স্ট্যামিনা বা এনার্জি কমে যাওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবনমানের অবনমন ঘটে। অথচ রক্তের একটি কি দুটি পরীক্ষায়ই সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান করা যায়।

নারীর শরীর ও মনের নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে থাইরয়েড হরমোন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই থাইরয়েড সম্পর্কে জানুন, নিজেকে সুস্থ রাখতে সচেতন হোন।

আগামীকাল পড়ুন: দাঁতের গর্ত অবহেলা নয়

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন