বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে আগ্রহ কম। নানা কারণে বাংলাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমগুলো নারীকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। এর প্রধান কারণ, নারীরা গর্ভধারণ করেন। সন্তান জন্ম দেন। তাই সেই জন্ম রুখতে বেশির ভাগ পদ্ধতিই নারীদের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণের দায় কেবল নারীর একার ঘাড়ে চাপালে চলবে না। এর দায়িত্ব একা নারীর নয়। পুরুষকেও সমানভাবে তার অংশীদার হতে হবে। এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিতে হবে। গর্ভধারণ থেকে শুরু করে সন্তান জন্ম ও তার লালনপালনের দায়িত্ব কেবল নারীর নয়। তাতে সমাজ পরিবর্তনে, অর্থনীতিতে নারীর সম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, পরিকল্পিত গর্ভধারণ নারী আর পুরুষ দুজনের সিদ্ধান্তে হতে হবে। আর অপরিকল্পিত জন্ম রুখতে তাই পুরুষকেও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ দিবসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে পুরুষের অংশগ্রহণ বাড়ালে এসব পদ্ধতি গ্রহণে তাদের আগ্রহ বাড়বে।

default-image

এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেখানে শতভাগ পরিকল্পিত গর্ভধারণ অর্জন লক্ষ্যমাত্রা থেকে যথেষ্ট দূরে, সেখানে চীনের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। চীনে প্রতিটি নারীর ফার্টিলিটি রেট ১ দশমিক ৬৯৯। মানে প্রত্যেক নারী গড়ে ১.৬৯৯টি শিশু জন্ম দেন। অন্যদিকে বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের নারীরা গড়ে ১.৯৭৯টি সন্তান জন্ম দেন, যেখানে ১৯৭১ সালে একজন নারী ৬.৯৪টি করে শিশু জন্ম দিতেন। চীনে প্রতি হাজারে ৮.৫২টি শিশু জন্ম নেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ১৭.৫৫টি শিশু জন্ম নেয়। তবে ১৯৭০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৮.৫! প্রজননের হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় এগিয়েই রয়েছে। তবে লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। আর সেই যাত্রায় নারী আর পুরুষকে সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অপরিকল্পিত জন্ম রুখতে নারীর যতটা দায়, পুরুষেরও ঠিক ততটাই।


তথ্যসূত্র: ডেটা ডট ওয়ার্ল্ডব্যাংক ও স্ট্যাটিস্টা, সিবিসি ও নিউজ মেডিকেল

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন