অলংকরণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী
অলংকরণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ফাস্ট ফুডে আসক্ত ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি। শিশু ও তরুণেরাও খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে। স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সময় মহামূল্যবান। সময় পেরিয়ে গেলে মূল চিকিৎসার সুযোগ কমে যায়। তখন কেবল সহায়ক চিকিৎসা চলে। এতে পরবর্তী জীবনের জটিলতাগুলো এড়ানো সম্ভব হয় না।

default-image

স্ট্রোক বিষয়ে সচেতন করতে ২৯ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এ উপলক্ষে প্রথম আলো আয়োজন করে এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘স্ট্রোক প্রতিরোধ ও পরামর্শ’। অনুষ্ঠানটির চতুর্থ পর্বে ডা. লুবাইনা হকের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানটি ৩০ অক্টোবর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ ছাড়া সম্প্রচারিত হয় এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও।

বিজ্ঞাপন

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপনের পরিবর্তন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী পরামর্শ দেন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার। তিনি বলেন, এ জন্য প্রথমেই খাবারে বাড়তি লবণ একেবারেই বাদ দিতে হবে। রান্নায়ও লবণের পরিমিত ব্যবহার করতে হবে। বেশি লবণযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। সয়াসস, কেচআপ ইত্যাদি কম খান। তেল-চর্বিযুক্ত ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো রক্তনালিতে চর্বি জমতে এবং ব্লক তৈরি করতে সাহায্য করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। সবুজ পাতাযুক্ত সবজি, শাক, বরবটি এবং টক ফলে পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড থাকে। প্রচুর পরিমাণে তাজা ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে আছে পটাশিয়াম, যা রক্তনালিকে প্রসারিত করে, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এসব ফলমূলে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টও থাকে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলে বছরে দু-একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। শরীরের ওজন এবং রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং হাঁটুন। মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। ধূমপান অবশ্যই বর্জন করুন। একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেবুজাতীয় ফল, আপেল ও নাশপাতির মতো শক্ত ফল, কলা, ফলমূলজাতীয় শাকসবজি ও শিকড়জাতীয় শাকসবজি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এ ছাড়া প্রতিদিন ২০০ গ্রাম দুধ ৫ শতাংশ, দিনে ১০০ গ্রাম দই ৯ শতাংশ স্কিমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

অনুষ্ঠানে সরাসরি দর্শকদের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী। নানা ধরনের পরামর্শের পাশাপাশি তিনি কথা বলেন স্কিমিক স্ট্রোক কী এবং এর চিকিৎসা নিয়ে। তিনি জানান, মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহের ব্যাঘাত ঘটার কারণে স্কিমিক স্ট্রোক হয়। সাধারণত রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে, উচ্চ রক্তচাপের কারণে বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে স্কিমিক স্ট্রোক হয়ে থাকে। যাঁরা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, তাঁদের প্রায় ৮০ ভাগই স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। এ ধরনের স্ট্রোকের চিকিৎসায় অবশ্যই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে হবে বা জমাট বাঁধা রক্ত ভেঙে তরল করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। স্ট্রোকের মাত্রা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে ব্রেইন স্ক্যান বা সিটি স্ক্যান এবং ম্যাগনেটিক রেজনেন্স ইমেজিংয়ের (এমআরআই) পরীক্ষা করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জমাট বাঁধা রক্ত তরল করতে ওষুধ সেবন করতে হবে।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মনে রাখতে হবে, স্ট্রোক একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। স্ট্রোকের কারণ ও ঝুঁকি বিষয়ে জানতে হবে। স্ট্রোকের কারণ প্রধানত দুটি। অপরিবর্তনযোগ্য বা ননমোডিফায়েবল এবং পরিবর্তনযোগ্য বা মোডিফায়েবল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ে, আপনি যদি পুরুষ হন তবে আশঙ্কা বেশি। নারীর বেলায় কম। এগুলো হলো অপরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি। আর হৃদ্‌রোগী, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, কোলেস্টেরল বেশি হলে, স্থূল হলে, ধূমপান করলে, অলস জীবনযাপন এগুলো হলো পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে হৃদ্‌রোগী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী ও ধূমপায়ীরা। এই চার বিষয় যাঁদের আছে, তাঁদের স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0