default-image

প্রসব-পরবর্তী সময়ে নারীদের থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহজনিত বিশেষ এক ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা প্রসব–উত্তর বা পোস্ট-পার্টাম থাইরয়ডাইটিস নামে পরিচিত। এটি এক ধরনের অটোইমিউন রোগ। এর সঠিক কারণ অজানা। তবে এতে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা থাইরয়েডকে আক্রমণ করে।

ঝুঁকিতে যাঁরা: ৫ থেকে ১০ শতাংশ নারীর প্রসব-পরবর্তী সময়ে এই রোগ হতে পারে। যাঁদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো অটোইমিউন রোগ আছে, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। তা ছাড়া থাইরয়েড রোগের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ইতিহাস, রক্তে থাইরয়েড অ্যান্টিবডির উপস্থিতি অথবা আগে প্রসব–উত্তর থাইরয়ডাইটিস থাকলে এ রোগের ঝুঁকি বেশি।

সন্তান প্রসবের পর থেকে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে এ রোগ দেখা দিতে পারে। সাধারণত প্রসবের পর এক থেকে চার মাসের মধ্যেই এ রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

উপসর্গ: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রসব–উত্তর থাইরয়ডাইটিসের দুটি পর্যায় দেখা যায়: প্রথমে হাইপারথাইরয়ডিজম (থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য) ও পরে হাইপোথাইরয়ডিজম (থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতা)।

প্রদাহে আক্রান্ত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে বেশি হরমোন বের হওয়ায় প্রথমে হাইপারথাইরয়ডিজমের উপসর্গ যেমন ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা, ঘাম, গরমে সংবেদনশীলতা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অনিদ্রা প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। এ পর্যায় সাধারণত দুই থেকে চার মাস স্থায়ী হয়।

চলমান প্রদাহের কারণে থাইরয়েড গ্রন্থির কোষ ক্রমান্বয়ে ধংসপ্রাপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাই থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন উৎপাদনের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে দ্বিতীয় পর্যায়ে হাইপোথাইরয়ডিজম বা রক্তে থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, গলগণ্ড (থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া), ওজন বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক ক্লান্তিবোধ, বিষণ্নতা, শীত অনুভব করা, কোষ্ঠকাঠিন্য, সারা শরীরে ব্যথা, মনোযোগহীনতা, ধীরগতি, কর্কশ কণ্ঠ, চেহারায় ফোলা ফোলা ভাব, শুষ্ক ত্বক, ভঙ্গুর নখ, চুল পড়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ পর্যায়টি এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা ছাড়াই এটি ভালো হয়ে যায়।

তবে প্রসব–উত্তর থাইরয়ডাইটিসে আক্রান্ত নারীদের প্রতি পাঁচজনের একজন স্থায়ীভাবে হাইপোথাইরয়ডিজম বা থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতায় ভোগেন। এ রোগীদের আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

করণীয়: প্রসব-পরবর্তী সময়ে মায়েরা নবজাতক ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এতই উদ্বিগ্ন, দুর্বল ও অবসাদগ্রস্ত থাকেন যে এ সময় তাঁর শারীরিক লক্ষণগুলো থেকে থাইরয়ডাইটিসের উপসর্গগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করা দুষ্কর। প্রসব-পরবর্তী সময়ে কারও প্রসব–উত্তর থাইরয়ডাইটিসের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কিছু রুটিন পরীক্ষার পাশাপাশি রক্তের থাইরয়েড হরমোন প্রোফাইল ও অ্যান্টিবডি টেস্ট করার দরকার হয়। প্রয়োজনে থাইরয়েডের আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও স্ক্যান পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা: প্রসব–উত্তর থাইরয়ডাইটিসের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। প্রথম পর্যায়ের সমস্যায় বেশির ভাগ রোগী চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।

দ্বিতীয় পর্যায়েও (হাইপোথাইরয়ডিজম) বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসা লাগে না। তবে উপসর্গ তীব্র হলে বা কেউ আবার সন্তান নিতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করতে হতে পারে। রক্তের হরমোন নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন