default-image

স্তন ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। তাই অক্টোবর মাসকে স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতার মাস হিসেবে পালন করা হয়। আমাদের দেশেও এর বিস্তৃতি ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এই লক্ষ্যে এসকেএফ অনকোলজি নিবেদিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন বরেন্দ্র মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (ক্যানসার) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. দায়েম উদ্দিন এবং আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবুল আহছান। এ অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ছিল: স্তন ক্যানসার।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলাম।

ডা. মোঃ দায়েম উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে চলেছে। অনেকে মনে করে থাকেন—এটি শুধু মহিলাদের হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মহিলা ও পুরুষ উভয়েই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ডা. মোঃ দায়েম উদ্দিন বলেন, স্তন ক্যানসার নির্ণয়ে স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে খুব সহজ উপায়ে স্তন ক্যানসারে যেভাবে শনাক্ত করা যায় তা হলো—নারীরা নিজেদের স্তন নিয়মিত পরীক্ষা করা। এভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে দেখতে হবে স্তনে চাকা কিংবা গোটা অনুভব করছেন কি না। এ ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখামাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে স্তন ক্যানসার শনাক্ত করা যায়। বর্তমানে গ্রামপর্যায়েও আল্ট্রাসনোগ্রামের সুব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সুযোগ থাকলে স্তনের সিটিস্ক্যান কিংবা এমআরআই করা যেতে পারে। সাধারণত স্ক্রিনিং পদ্ধতির মধ্যে এ ধরনের পরীক্ষাগুলোই সহজতর হয়ে থাকে।

আবার প্রয়োজনে এফএনএসি বা বায়োপসির মাধ্যমে সহজেই এ রোগ শনাক্ত করা যায়। বর্তমানে জেলা পর্যায়েও মেডিকেল কলেজ রয়েছে। ফলে এটি সহজে শনাক্ত করা সম্ভব। পুরুষদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার যদিও ১%, তবুও সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সাধারণত পুরুষদের নিপলে ঘা বা গোটা কিংবা বগলে বা ঘাড়ে গোটা অনুভব হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ পেলেই দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে স্তন পরীক্ষা করানো উচিত।

আজকাল বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও স্তন ক্যানসার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। তাই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হলেই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বরং ধৈর্য্য ও মনোবল নিয়ে সম্পূর্ণ চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।

default-image

ডা. মোঃ আবুল আহছান বলেন, স্তন ক্যানসারের লক্ষণ মূলত তিন পর্যায়ে ধরা পড়ে: আর্লি ব্রেস্ট ক্যানসার, লোকালি অ্যাডভান্সড ব্রেস্ট ক্যানসার ও মেটাস্টেটিক ব্রেস্ট ক্যানসার। আর্লি ব্রেস্ট ক্যানসার পর্যায়ে স্তনে ছোট দানা, গুটি কিংবা চাকার সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাথা হয় না। লোকালি অ্যাডভান্সড স্টেইজে টিউমারের সঙ্গে সঙ্গে বগলে গোটা ও ব্যাথা এবং তরল নিঃসৃত হতে পারে। এতে মাসল ইনভলভমেন্ট থাকতে পারে। আবার অনেক রোগীর স্তনের চাকাটি এর দূরবর্তী স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে।

এটিকে মেটাস্টেটিক ব্রেস্ট ক্যানসার বলা হয়। এর মাধ্যমে ফুসফুস বা পায়ে পানি আসতে পারে কিংবা মাথাব্যাথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে লাং ইনভলভমেন্ট থাকলে কাশি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সূত্রেও স্তন ক্যানসার হয়ে থাকে এবং পরিবারের কারও স্তন ক্যানসার থাকলে, তাঁর আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তবে আর্লি স্টেইজে এ রোগ শনাক্ত এবং দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণরূপে সারানো সম্ভব। তাই লক্ষণ দেখামাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0