বিজ্ঞাপন

সালেহা দেশের একটি বিখ্যাত পোশাক ব্র্যান্ডের নিজস্ব কারখানায় কাজ করেন। তাঁর বয়স ২৪ বছর। তিনি পিরিয়ডের সময় কোনো স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না। তাঁর কাছে এটি বিলাসিতা, সহজলভ্য কোনো উপকরণ নয়। তাই শুরু থেকেই তিনি হাতে বানানো কাপড়ের বেল্ট আর টুকরা ভারী কাপড় ব্যবহার করে থাকেন। ২/৩ ঘণ্টায় পাল্টাতে হয় বিধায় কারখানার শিফটের ফাঁকেই তিনি চেষ্টা করেন বাথরুমে পাল্টে নিতে। বাথরুমগুলো সবাই ব্যবহার করেন, তাই চাইলেও তিনি কাপড়টি পরিষ্কার করতে পারেন না, পলিথিনে মুড়ে বাসায় নিয়ে এসে পরিষ্কার করতে হয়। পিরিয়ড বিষয়টি মেয়েদের জীবনে স্বাভাবিক হলেও সালেহার জন্য এটি কাজের সময় নষ্ট করা এবং ব্যক্তিজীবনে বিড়ম্বনার কারণ।

default-image

মাহমুদার বয়স ১৬। সে একটি বাসার স্থায়ী সাহায্যকারী। ছোট থেকেই সে এই বাসায় কাজ করে বড় হয়েছে। বাসার কর্ত্রী কর্মজীবী। শুরু থেকেই সালেহার পিরিয়ডের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন তিনি। যেদিন পিরিয়ড শুরু হয়েছে, সেদিনই তিনি স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে এনেছেন। মাহমুদাকে বুঝিয়ে বলেছেন, এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। সতর্ক থাকাটাই যথেষ্ট। মাহমুদা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে, বাসার কাজও করতে পারে। শুরু থেকেই সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করার কারণে পিরিয়ড তাকে কখনোই আটকাতে পারেনি। তবে মাহমুদার এলাকার মেয়েরা এখনো স্যানিটারি প্যাডের সঙ্গে পরিচিত নয়। মাহমুদা জানায়, তাদের মাঝেমধ্যেই কাপড় ও টিস্যু ব্যবহার করার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। মাহমুদা আরও বলে, সে প্রথমে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে চায়নি। একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে পরে নিজে কেনার সামর্থ্য না-ও তো থাকতে পারে। তবে তাকে গৃহকর্ত্রী বলেছেন, এখন প্যাডের দাম আর বেশি নয়। তাই সে সব সময় প্যাডই ব্যবহার করতে আগ্রহী।

বেশি নয়, মাত্র বছর দুয়েক আগেই পত্রিকায় নারীদের শৌচাগারের দুরবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মতো জায়গার শৌচাগারে ছিল না প্যাডের প্রতুলতা। আইনজীবী থেকে শুরু করে আইনের সাহায্যপ্রার্থী নারীরা পিরিয়ডের সময় পানি পান করতেন না বা কম পান করতেন, যেন সুপ্রিম কোর্টের শৌচাগারে যেতে না হয় এবং পিরিয়ডের বেগ কম থাকে। ছিল না স্যানিটারি ন্যাপকিনেরও ব্যবস্থা। প্যাড বা কাপড় পাল্টানোরও কোনো সুব্যবস্থা ছিল না কোথাও।

default-image

দিন বদলেছে। প্যাড এখন আর বিলাসের পণ্য নয়, স্যানিটারি প্যাড এখন প্রয়োজনীয় পণ্য হয়ে উঠেছে। নারীদের সচেতনতা বাড়ছে, কমছে প্যাডের দাম। স্যানিটারি কোম্পানিগুলোও সব স্তরের নারীদের জন্য সুলভ মূল্যে প্যাড তৈরি করার চেষ্টা করেছে। উদাহরণ হিসেবে ফ্রিডম স্যানিটারি ন্যাপকিনের কথা বলা যায়। সম্প্রতি পোশাককর্মীসহ প্রান্তিক আয়ের বিভিন্ন পেশার কর্মজীবী নারীদের পিরিয়ড ব্যবস্থাপনার জন্য ফ্রিডম এনেছে পপুলার ও বেল্ট সিস্টেম স্যানিটারি ন্যাপকিন। অন্যান্য ন্যাপকিনের মতোই সমানভাবে কার্যকর এই ন্যাপকিনের দাম মাত্র ৩০ টাকা থেকে শুরু।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন