ফুসফুসে ক্যানসার বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে

ফুসফুস আমাদের দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি। আর ফুসফুসে ক্যানসার বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিগত বছরগুলোয় আমাদের দেশেও এর প্রাদুর্ভাব বেশ লক্ষণীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক স্তরে এটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ না করলে পরবর্তী সময়ে এটি মৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

default-image

তবে আশার কথা হলো সঠিক নিয়ম মেনে প্রোটেকশন ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা হলে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। ফুসফুসে ক্যানসার নির্মূলে সবার আগে প্রয়োজন জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে এসকেএফ অনকোলজি নিবেদিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ অনুষ্ঠানের ১৫তম পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক ডা. মো. মোফাজ্জেল হোসেন (লে. কর্নেল, অব.) ফেলো মেডিকেল অনকোলজি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এনইউএইচ, সিঙ্গাপুর এবং মেম্বার এএসসিও এবং ইএসএমও, চিফ কনসালট্যান্ট-মেডিকেল অনকোলজিস্ট, বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেড। এ অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ‘ফুসফুস ক্যানসার’।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রথম আলো ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

ডা. মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ ক্যানসারে মারা যায়। অর্থাৎ, প্রায় ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ নারী ও পুরুষ ক্যানসারে মারা যায়। সারা বিশ্বে প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লক্ষ মানুষ ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১৮ লাখ রোগী মারা যায়। ফুসফুস ক্যানসার দুভাবে হতে পারে। একটি হলো ফুসফুসের মধ্যকার ক্যানসার। অপরটি হলো রক্তের মাধ্যমে অন্য কোথাও থেকে ফুসফুসে ছড়িয়ে সৃষ্ট ফুসফুসের ক্যানসার।

ফুসফুস ক্যানসারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষণ হলো কাশি। আর তা শুধু কাশির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসে রোগের অ্যাডভান্সড স্টেজে। তবে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি হতে থাকলে রোগীর ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান কারণ হলো ধূমপান। আর যারা ধূমপান করে, তাদের প্রায়ই কাশি হয়। তাই দেখা যায়, কাশিকে তারা ক্যানসারের উপসর্গ বলে মনে করে না। ফলে, এটিকে উপেক্ষা করার কারণে ক্যানসারটি প্রাথমিক পর্যায় পার হয়ে যায়।

অনেক সময় রোগী যখন আসে, তখন তাদের শুধু কাশি থাকে না, কাশির সঙ্গে রক্ত আসে। আবার অনেকের বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা খাবারে অরুচি হতে পারে। আর রোগটি শরীরে ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন, হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, লিভারে ছড়িয়ে পেটে ব্যথা কিংবা হাড়ে ছড়িয়ে ব্যথা এমনকি মেরুদণ্ডে প্যারালাইসিস হতে পারে। এ ছাড়া মস্তিষ্কে ছড়িয়ে স্ট্রোক, বমিভাব, কিংবা প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়ে থাকে। ক্যানসারের কারণে হাড়ে ক্যালসিয়াম বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে শরীরে লবণের পরিমাণ কমে যায়, প্যারালাইসিস হয়, পেশি দুর্বল হয় কিংবা হাতের আঙুলের মাথা মোটা হয়ে যায়।

অনেক সময় ফুসফুস ক্যানসার এবং অন্যান্য রোগকে আলাদা করে চিহ্নিত করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ক্যানসার ডায়াগনোসিস কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। এ জন্য রোগীর অবস্থার ওপর অর্থাৎ রোগটি কোন স্তরে আছে, সেটির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। আর ধূমপায়ীদের উচিত নিয়মিত চেকআপ করা এবং ক্যানসার পরীক্ষা করা।

বিজ্ঞাপন

ফুসফুসের ক্যানসার সারা পৃথিবীতে পুরুষদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এবং নারীদের ক্ষেত্রেও এর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। সাধারণত ধুমপায়ী ব্যক্তিদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আমাদের দেশেও সাধারণত ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ধূমপায়ী হয়ে থাকে। তবে শুধু প্রত্যক্ষ ধূমপান করলেই যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে তা নয়, বরং পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অনেকেই ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে।

তবে ধূমপান ছাড়াও বংশগতভাবে কিংবা অন্যান্য কারণে রোগী ফুসফুসে ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া পরিবেশের কেমিক্যালের কারণেও ফুসফুসে ক্যানসার হতে পারে।

ফুসফুস ক্যানসারের চিকিৎসার প্রক্রিয়া পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন না করা হলে রোগ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য রোগীকে ধৈর্যের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ ও তা মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন