বিজ্ঞাপন

ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে বিশেষ করে পুরুষেরা ফুসফুসে ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাডভান্সড স্টেজে আসে। তখন ক্যানসার পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ফুসফুসে ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে ধূমপানকে চিহ্নিত করা হয়। তাই আমাদের দেশে সাধারণত পুরুষদের তুলনায় নারীরা এ রোগে কম আক্রান্ত হয়ে থাকেন। ধূমপান ছাড়াও ধুলোবালু, হাইড্রোকার্বন ইত্যাদি দূষণমূলক উপাদানের কারণে আমাদের দেশের মানুষ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

নারীদের মধ্যে অনেকেই প্যাসিভ স্মোকিংয়ের শিকার হন; অর্থাৎ পরিবারের পুরুষ সদস্য ধূমপান করলে একই সঙ্গে দুজনেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণে কিংবা কোষের মিউটেশনের কারণে নারীরা ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। আবার এমনও দেখা গেছে, কোনো নারী হয়তো এমন পরিবেশে ছিলেন, যেখানে কার্বন পার্টিকেল বেশি। এ কারণে তিনি ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।

যেকোনো ক্যানসারেই কী কী লক্ষণ প্রকাশ পাবে, তা নির্ভর করে টিউমারটি কতটুকু বিস্তার লাভ করল তার ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে কাশি, জ্বর, কাশির সঙ্গে রক্ত কিংবা শ্বাসকষ্ট ফুসফুস ক্যানসারের কিছু সাধারণ উপসর্গ, যেগুলো ফুসফুসে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে। অনেক সময় ক্যানসার ফুসফুস থেকে অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ে; যেমন হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে প্রবল ব্যথা অনুভব হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্যানসার মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এটি পেটে বা লিভারে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এ ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় জন্ডিস হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। আর ধূমপায়ী ব্যক্তিদের উচিত নিয়মিত চেকআপ করা এবং বছরে অন্তত একবার স্ক্রিনিং পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যানসার পরীক্ষা করা।

ডা. এ কে এম একরামুল হক বলেন, ‘ফুসফুসে ক্যানসার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে, অর্থাৎ স্টেজ ১, ২ বা ৩-এ যদি শনাক্ত করা যায়, তবে তা সার্জারির মাধ্যমে পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা সম্ভব এবং এর সাফল্যের হারও অনেক বেশি। যেহেতু ক্যানসারটি ফুসফুসের, তাই অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর আমরা রোগীকে আবার অনকোলজিস্টের কাছে পাঠিয়ে থাকি। তবে দুঃখের বিষয় এই যে আমরা ফুসফুস ক্যানসারের যত রোগী পাই, তাদের মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ রোগীর শারীরিক অবস্থা অপারেশন করার উপযোগী থাকে; অর্থাৎ প্রায় ৯২ শতাংশ রোগী এমন অবস্থায় ফুসফুস ক্যানসার নিয়ে আসে, যখন তা আর অপারেশন করার অবস্থায় থাকে না। তখন আমরা রোগীর বেঁচে থাকার জন্য থেরাপির সাহায্য নিয়ে থাকি।’

সার্জারির খুব ভালো একটি দিক হলো এর মাধ্যমে বড় একটি টিউমার শরীর থেকে চলে যায়। এরপর কিছু অবশিষ্ট থাকলেও তা কেমোথেরাপি কিংবা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে দূর করা যায়।

শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে ক্যানসার একটি অপরটির সঙ্গে জড়িত। তাই শ্বাসকষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে হলে তিনটি উপায় অবলম্বন করতে হবে। একটি হলো শ্বাসকষ্ট এড়িয়ে চলতে কী কী করণীয় রোগীকে তা বুঝিয়ে দেওয়া। পরবর্তী কাজ হলো কী কী বুঝে চলতে হবে, তা জানিয়ে দেওয়া। এরপর কোন কোন ওষুধ খেলে রোগী ভালো থাকবে, তা বলে দেওয়া। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসাপ্রক্রিয়া পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন না করা হলে রোগ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই রোগীকে ধৈর্যের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ ও তা মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন