ফুসফুস ক্যানসার নারী-পুরুষ মানে না

বর্তমানে ফুসফুসে ক্যানসার সবচেয়ে মারাত্মক ক্যানসারগুলোর মধ্যে একটি। এর ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে এর ফলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফুসফুসে ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব বেশ লক্ষণীয়। তাই এটি নির্মূলে সবার আগে প্রয়োজন জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা।

default-image

এই লক্ষ্যে এসকেএফ অনকোলজি নিবেদিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (রেডিওথেরাপি) ডা. অসীম কুমার ঘোষ এবং এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার ক্যানসার কেয়ার সেন্টারের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটার (মেডিকেল অনকোলজি) ডা. ফেরদৌস শাহরিয়ার সাইদ। অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ছিল ফুসফুস ক্যানসার।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

ডা. অসীম কুমার ঘোষ বলেন, বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্যানসার বড়সড় জায়গা স্থান দখল করে আছে। পুরুষ ও নারী উভয়ই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এটি এমন একটি অসুখ, যার কারণ হিসেবে চিকিৎসকেরা মূলত ধূমপানকে চিহ্নিত করেন। তা ছাড়া যাঁরা টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন এবং যাঁদের পরিবারে ধূমপায়ী ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁদের ঝুঁকি রয়েছে। আবার পরিবেশের ধুলাবালি, হাইড্রোকার্বন থেকেও অনেকে ফুসফুসে ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে।

সাধারণত জনবহুল নগরীগুলো যেখানে প্রচুর ট্রাফিক, সেসব অঞ্চলে যানবাহনের কালো ধোঁয়া মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে ঢুকে পড়ছে। ফলে অনেক রকম কেমিক্যাল ফুসফুসে প্রবেশের কারণে প্রচুর মানুষ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে বর্তমানে ফুসফুস ক্যানসারের রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার সুবিধা বাংলাদেশের প্রতিটি বড় শহরেই রয়েছে।

সাধারণত গ্রামে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে যাঁরা আর্থিকভাবে খুব একটা সচ্ছল নন, সেসব রোগীর আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ বিড়ি। অর্থাৎ ধূমপান এবং শহরের দূষিত কেমিক্যালই মূলত ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান দুটি কারণ।

ডা. ফেরদৌস শাহরিয়ার সাইদ বলেন, আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা হলো পরিসংখ্যানের অভাব। তবে অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, গ্রামের তুলনায় শহর কিংবা মেট্রোপলিটন সিটিগুলোতে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যায়। শহরকেন্দ্রে অনেক ধরনের কেমিক্যাল এক্সপোজারের কারণে এমন হতে পারে।
ফুসফুসের ক্যানসার থেকে বাঁচতে হলে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ ছাড়া পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে হলে প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগ করতে হবে। কঠোর আইন ব্যবস্থা ও জরিমানার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে ক্রোমিয়াম, নিকেল, ক্যাডমিয়ামের কারণে যেন ক্ষতি না হয়, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেসব কর্মক্ষেত্রে মাস্ক, পিপিই ইত্যাদির ব্যবহার অনেকটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। যদি সঠিক নিয়ম মেনে প্রোটেকশন ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা হয়, তা হলে কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

আমাদের দেশে একসময় প্রচুর পরিমাণে ডিজেল ব্যবহার হতো, যা বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে। ডিজেল থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। এভাবে সঠিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ জাতীয় ক্ষতির ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0