বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অক্সিজেনই ওষুধ

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা হলেন, করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ৪৭টি সভা করেছে। অধিকাংশ সভায় অক্সিজেনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন অক্সিজেন সরবরাহ বেড়েছে, পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের নিউমোনিয়া পরিস্থিতি ও সরকার কী করছে তা উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ডা. মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। দেশে নিউমোনিয়া চিকিৎসায় অন্যতম সমস্যা হচ্ছে, শুরুতেই রোগটি শনাক্ত হয় না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচির বিষয়ভিত্তিক পরিচালক ডা. মো. শামসুল হক বলেন, হাসপাতালে আসা কোনো রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজন আছে কি না, তা পরীক্ষা বা যাচাই করার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলমান আছে। তবে ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শামিনা শারমীন বলেন, হাসপাতালে তাৎক্ষণিক অক্সিজেন স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক শেখ দাউদ আদনান বলেন, অক্সিজেন উৎপাদনের প্ল্যান্ট বসানো হচ্ছে যেন পরবর্তী পাঁচ বছরে অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি না হয়।

লক্ষণ ও ভুল চিকিৎসা

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক সাকিল আহম্মদ বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু অক্সিজেন-স্বল্পতায় ভুগছে কি না, পালস অক্সিমিটার দিয়ে মাপা যায়। কিন্তু শিশুদের পরিস্থিতি মাপার জন্য এই যন্ত্র পাওয়া দুষ্কর। তবে কিছু লক্ষণ দেখে এটা বোঝা সম্ভব: শিশুদের বুকের খাঁচার নিচে দেবে যায়, শিশুর মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়, মাথায় অক্সিজেন কম থাকে বলে শিশু কাঁদতেই থাকে, শিশু দ্রুত শ্বাস নেয়, তার গলার মাংস ফুলে যায়। তিনি বলেন, শিশুদের ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র অপরিণত, তাই তাদের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মা ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ৫০ শতাংশ নিউমোনিয়ার কারণ ভাইরাস। নিউমোনিয়ার পেছনে বায়ুদূষণ, ধূমপান—এসবেরও ভূমিকা আছে।

অংশীদারত্ব

নিউমোনিয়া বা যেকোনো স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় অংশীদারত্বের ওপর জোর দেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান শানজানা ভরদ্বাজ। তিনি বলেন, প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে বিশ্বের কোথাও না কোথাও নিউমোনিয়ায় একটি শিশু মারা যায়। তবে এই মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়।

সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, নিউমোনিয়া মোকাবিলায় বহু খাতভিত্তিক উদ্যোগ দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক ডা. নুরুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে থেকে নবজাতক কর্মসূচিতে কাজ করছে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য নিউমোনিয়া মোকাবিলা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, আজ বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা শিশুদের জন্য বিশেষ ধরনের পালস অক্সিমিটার দিলে তা হবে বড় পাওয়া।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। প্রায় দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন