বাংলাদেশেও মৃত্যুহার বাড়াচ্ছে ব্লাড ক্যানসার

বিশ্বব্যাপী মরণব্যাধিগুলোর মধ্যে অন্যতম রক্তরোগ বা ব্লাড ক্যানসার। বাংলাদেশেও এটি মৃত্যুহারের জন্য দায়ী রোগগুলোর মধ্যে একটি। তাই এ ক্যানসার যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতিরোধ করা যায়, সে জন্য এর উপসর্গ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখতে হবে। বলা হয়ে থাকে, শরীরের যাবতীয় রোগের মধ্যে ব্লাড ক্যানসার খুবই মারাত্মক। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা এড়ানো যায়। আর এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

default-image

এ লক্ষ্যে এসকেএফ অনকোলজি নিবেদিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানের ১৭তম পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন ডা. এ যুবায়ের খান, সহকারী অধ্যাপক, রক্তরোগ বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাব মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার, কনসালট্যান্ট হেমাটোলজিস্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রক্তরোগ, ব্লাড ক্যানসার ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট স্পেশালিস্ট, আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। এ অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ব্লাড ক্যানসার।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রথম আলো ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

ডা. এ যুবায়ের খান বলেন, সার্বিকভাবে আমাদের দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং ব্লাড ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৮-১০ ভাগ মানুষ রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার একটি অন্যতম কারণ হলো জেনেটিক এরর। জেনেটিক এরর আবার দুই ভাগে বিভক্ত; একটি হলো জার্মলাইন এরর, অর্থাৎ, মায়ের গর্ভ থেকে যে জিনগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম হয়, অন্যটি হলো অ্যাকোয়ার্ড এরর যে ত্রুটিগুলো পরবর্তী সময়ে পরিবেশগত বা অন্যান্য বিভিন্ন কারণে হচ্ছে। মূলত পরিবেশদূষণ এবং খাদ্যে ভেজালকেই এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।

ব্লাড ক্যানসারগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। একটি হলো অ্যাকিউট ব্লাড ক্যানসার এবং অন্যটি হলো ক্রনিক ব্লাড ক্যানসার। এর মধ্যে অ্যাকিউট লিউকোমিয়া, মাইনর লিউকোমিয়া, ক্রনিক মাইনর লিউকোমিয়া, ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকোমিয়া ও লিম্ফোমায় রোগীরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এমন অনেক ক্যানসার রয়েছে, যেগুলো সম্পূর্ণভাবে নির্মূল সম্ভব। আবার এমন কতগুলো রয়েছে, যেগুলোর চিকিৎসায় তেমন কোনো সুদূরপ্রসারী ফল আশা করা যায় না। উল্লেখ্য, আমাদের দেশে ব্লাড ক্যানসারগুলোতেই সাধারণত সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাই এ ক্যানসারের যেকোনো একটি বা একাধিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হবে।

ব্লাড ক্যানসারের বেশ কিছু উপসর্গ রয়েছে। আমাদের দেশের ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা যেসব উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাধারণত রক্তশূন্যতা, জ্বর ও রক্তক্ষরণ। আবার কারও কারও শরীর ক্লান্ত বা দুর্বল অনুভূত হওয়া কিংবা অনেক সময় রোগীর ঝিমানোভাব হয়ে থাকে। সাধারণত ব্লাড ক্যানসারের উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমেই আমরা সিভিসি পরীক্ষার উপদেশ দিয়ে থাকি। বর্তমানে আমাদের দেশে ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসা অনেকাংশেই সম্ভব। কারণ, এটি নিয়ে বিশ্বময় গবেষণা চলছে এবং নতুন নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির প্রচলন আমাদের দেশেও হচ্ছে। আশার কথা হলো, আজকাল আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন রোগের ওষুধ আবিষ্কারের পাশাপাশি ক্যানসারের, বিশেষ করে ব্লাড ক্যানসারের ওষুধও তৈরি করছে। আর ক্যানসার চিকিৎসায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বৃদ্ধি পেলে এ অবস্থার আরও উন্নতি করা সম্ভব।

যেকোনো ক্যানসার চিকিৎসায় সাধারণত কেমোথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি আজকাল ইমিউনোথেরাপি এবং টার্গেটেডথেরাপির চিকিৎসাও দেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া রেডিয়েশন অনকোলজিও বেশ ভালো কাজ করছে। মূলত ব্লাড ক্যানসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিকভাবে ডায়াগনোসিস করা। একেক ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসা একেক রকম। তাই ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী সঠিক এবং সূক্ষ্ম চিকিৎসা প্রয়োগ করতে হবে। আর ওষুধের মানের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বর্তমানে আমাদের দেশেও ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে। তাই উপসর্গ দেখামাত্রই দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন