ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, সাধারণত লোকজন গ্যাস্ট্রিক বা আলসার বলতে যা বুঝিয়ে থাকেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে পেপটিক আলসার। যাঁরা নিয়মিত খাবার গ্রহণ করেন না কিংবা দীর্ঘ সময় উপোস থাকেন, তাঁদের পেপটিক আলসার দেখা দিতে পারে। পেপটিক আলসার যে শুধু পাকস্থলীতেই হয়ে থাকে, তা কিন্তু নয়, বরং এটি পৌষ্টিকতন্ত্রের যেকোনো অংশেই হতে পারে। সাধারণভাবেই মানুষের পেট কিছু পরিমাণ গ্যাস নির্গমন করে। এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। এ কারণেও কখনো কখনো বুকজ্বালা হতে পারে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ অনেকেই একটু–আধটু বুকজ্বালা বা গ্যাস নির্গমন হলেই মনে করে তিনি পেপটিক আলসারে ভুগছেন। এ সমস্যা অনেকাংশে মানসিক।

ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, প্রথমেই জানতে হবে এই রোগের লক্ষণ ও কারণ সম্পর্কে। প্রধানত, পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হওয়ায় পেপটিক আলসার দেখা দেয়। অতিরিক্ত অ্যাসিড পাকস্থলীর মিউকোসার পর্দা নষ্ট করে পাকস্থলীর সংস্পর্শে আসে এবং প্রদাহ তৈরি করতে পারে। আর হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়াও মিকোসাল পর্দা নষ্ট করে দেয়। অ্যাসিডকে পাকস্থলীর সংস্পর্শে এসে প্রদাহের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া কারও পৌষ্টিকতন্ত্র থেকে যদি বেশি পরিমাণে অ্যাসিড ও প্রোটিন পরিপাককারী একধরনের এনজাইম (পেপসিন নামে পরিচিত) নিঃসৃত হতে থাকে, তবে এটি হতে পারে। আবার জন্মগতভাবে কারও পৌষ্টিকতন্ত্রের গঠনগত কাঠামো দুর্বল থাকে, তাহলেও পেপটিক আলসার হতে পারে।

অধ্যাপক মাহমুদ হাসান বলেন, এ ছাড়া আরও একটি উপসর্গ নিয়ে রোগীরা প্রায়ই আসে, তা হচ্ছে গ্যাসের কারণে পেট ফুলে যাওয়া। এই গ্যাস যখন বের হতে না পারে, তখন পরিপাকতন্ত্রের নালির ভেতর জমা হয়ে তা ফুলে ওঠে। এটাকে বলে ব্লটিং বা স্ফীত হওয়া। ব্লটিংয়ের কারণেই ব্যথা ও অস্বস্তি হয়। যেসব কারণে ব্লটিং বেশি হয়, তা হচ্ছে। তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া, কার্বোনেটেড বেভারেজ বা কোমল পানীয় পান করলে, খাদ্য দ্রুত খাওয়া, স্ট্র দিয়ে জুস বা তরল পান, চুইংগাম খাওয়া, মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতায় ভোগা, ধূমপান করা, পরিপাকতন্ত্রের অভ্যন্তরে ব্লক বা নালি সরু হয়ে যাওয়া, কলিয়াক ডিজিজ, ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স ইত্যাদি।

ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, পেট ফাঁপার পেছনে কিছু খাবারও দায়ী। যাঁদের পেটে গ্যাস বেশি হয়, তাঁদের কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন শিম ও শিমজাতীয় খাবার, ব্রকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, আপেল, দুধ ও দুধজাতসামগ্রী, পেঁয়াজ প্রভৃতি। তবে এই খাবারগুলো পরিহার করার আগে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডা. মাহমুদ হাসানের মতে, বুকজ্বলা সমস্যাকে অনেকে গ্যাস হয়েছে বলে মনে করেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ সেবন করেন। এটি একবারেই উচিত নয়।

বুকজ্বলা এবং পেপটিক আলসারের মধ্যে কিছুটা সম্পর্ক থাকলেও বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে জানতে হবে। যাঁদের বুকজ্বলা বা অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স বা জিইআরডি রোগ আছে, তাঁদের পাকস্থলী থেকে কিছুটা অ্যাসিড গলার কাছে চলে আসে। এ অবস্থা প্রতিরোধ করতে রোগীকে বারবার ঢোঁক গিলতে হয়। তখন ঢোঁকের মাধ্যমে বাতাস পাকস্থলীতে ঢুকে যায়। তাই বুকজ্বলা রোগীদের অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা দেখা যায়। তবে শুধু গ্যাস হলে বুকজ্বলা সমস্যা নাও হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন যদি গ্যাসের সমস্যা চলতেই থাকে, সে ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে গ্যাসের কারণে একধরনের প্রদাহ বা গ্যাসট্রাইটিস হতে পারে কিংবা হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি দিয়ে ইনফেকশন হতে পারে, যা পেপটিক আলসারের কারণ।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন