ছবি: পেকজেলসডটকম
ছবি: পেকজেলসডটকমঅলংকরণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী

জীবনে কোনো না কোনো বয়সে মেরুদণ্ড অথবা ঘাড়, পিঠ বা কোমরের ব্যথায় ভোগেননি—এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। দিন দিন আমাদের দেশে এটি খুব পরিচিত একটি রোগে পরিণত হচ্ছে। তবে শুরুতেই মেরুদণ্ডের ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি। তা না হলে ভোগান্তি ও চিকিৎসা—দুটোই দীর্ঘায়িত হতে পারে।

default-image

প্রথম আলো আয়োজিত এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ব্যথার সাতকাহনে এ বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করেন অতিথিরা। ২৪ অক্টোবর প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বের প্রতিপাদ্য ছিল: মেরুদণ্ড ও হাঁটুর ব্যথা। চিকিৎসক বিলকিস ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ ছাড়া সম্প্রচারিত হয় এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও।

বিজ্ঞাপন

কী কী কারণে মেরুদণ্ড ও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে, সে আলোচনা দিয়েই শুরু হয় অনুষ্ঠান। ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, গঠন অনুযায়ী মেরুদণ্ড মাথার খুলির নিচে ঘাড়ের ৭টি হাড়, পিঠের ১২টি হাড় এবং সবার নিচে কোমরের ৫টি হাড় নিয়ে গঠিত। মেরুদণ্ডের ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। উৎপত্তি ও লক্ষণ প্রকাশের স্থান আলাদা হওয়ায় সঠিকভাবে এই রোগ নির্ণয় করা কখনো কখনো কঠিন। এর জন্য অনেক সময় সঠিকভাবে এর চিকিৎসা করাও কঠিন।

মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর ভেতর দিয়ে মাথার খুলি থেকে নেমে আসা রগ বা স্পাইনাল কর্ডে দুই হাড়ের মধ্যবর্তী ডিস্কের কোনো অংশ বের হয়ে গিয়ে চাপের সৃষ্টি করলেই ব্যথাটা হয়। ডিস্কের স্থানচ্যুতি বা সরে যাওয়ার মাত্রার ওপর এর জটিলতা নির্ভর করে। তাই সঠিক সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নানা কারণে মেরুদণ্ডে ব্যথা হয়। আবার ঘাড়, পিঠ বা কোমরে ব্যথার কারণ ও লক্ষণ আলাদা। মেরুদণ্ডের সমস্যায় ঘাড়ে ব্যথার যে লক্ষণ দেখা দেয়, প্রাথমিক পর্যায়ে কাঁধ ও হাতে ব্যথা, দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় ঘাড়ে ব্যথা, ঘাড় থেকে উৎপন্ন ব্যথা হাতে ছড়িয়ে পড়া, হাতের বিভিন্ন অংশে ঝিনঝিন, শিনশিন করা, হাতের বোধশক্তি কমে আসা, পর্যায়ক্রমে হাতের অসারতা, ধীরে ধীরে হাত দুর্বল হয়ে হাতের কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি।

পিঠের অংশে ব্যথার লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বসা ও দাঁড়ানো অবস্থায় ব্যথা এবং বুকের চারপাশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া। কোমরের দিকের মেরুদণ্ডের ব্যথার লক্ষণগুলো হলো ভারী জিনিস তুলতে বা হাঁচি-কাশি দিতে কোমরে বা পায়ে ব্যথা অনুভব, পায়ে টান লাগা, কোমরে ঝিনঝিন, জ্বালাপোড়া বা অবশ অবশ ভাব, এক জায়গায় অনেকক্ষণ বসলে পুরো কোমরে আস্তে আস্তে ব্যথা বেড়ে যাওয়া। এ ছাড়া আছে চলাফেরা বা হাঁটাহাঁটিতে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়া, শুয়ে থাকলেও ব্যথা অনুভব হওয়া। পায়ের মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়া, এক পা বা দুই পা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়াই এর লক্ষণ।

default-image

ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত। তবে কিছু কিছু বিষয়ে সব সময়ই সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে জানান ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনেকেই অফিসে বসে কাজ করে অথবা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন। এর ফলে নরম হাড়ের ওপর চাপ পড়ে। ধীরে ধীরে এটা দুর্বল হয়ে যায়। শোয়ার সময়ও এটা ঠিক করতে হবে। বিছানাটা যদি শক্ত হয়, অথবা বেশি নরম হয়, তখন এই অবস্থা ঠিক রাখা যাবে না। তখন এই অসুবিধাগুলো হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি প্রত্যেকের মেরুদণ্ডের একটি ভার বহনের ক্ষমতা আছে, সেটার বাইরে গেলেও ব্যথা হতে পারে। আবার যাদের ভারী কাজের অভ্যাস নেই, তারা যদি ভারী কিছু তোলে, তখন এই ডিস্কগুলোয় সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে। রোগের ধরন জানা থাকলে ওষুধ না খেয়েও রোগ ভালো করা সম্ভব। মেরুদণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় রোগী সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে উপশমের চেষ্টা করে। কিন্তু এ ধরনের ওষুধ নিয়মিত ও দীর্ঘদিন খেলে কিডনিতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিডনি বিকলও হয়ে যেতে পারে। তাই ঘাড়, পিঠ ও কোমরে ব্যথা কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, ওষুধ ২০ শতাংশ রোগ নিরাময় করে। আর বাকি ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময় করে জীবনযাত্রার পরিবর্তন।

মন্তব্য পড়ুন 0