ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ২ কোটি মানুষের চিকিৎসার অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি

কোলাজ: রজত কান্তি রায়
কোলাজ: রজত কান্তি রায়
বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন কারণে দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত। কিন্তু এ সমস্যাগুলোর প্রধান চিকিৎসা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের মূল্যায়ন ও উন্নয়ন একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বাধায় অর্ধশতাব্দী ধরে আটকে আছে।

স্বাধীনতা-উত্তর মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ওপুনর্বাসন এবং ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত জনমানুষের সুস্বাস্থ্য বিবেচনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি বিভাগে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ব্যাপকভাবে শুরু হয়।

স্বাধীনতা-উত্তর মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ওপুনর্বাসন এবং ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত জনমানুষের সুস্বাস্থ্য বিবেচনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি বিভাগে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ব্যাপকভাবে শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টিতে ফিজিওথেরাপি বিষয়ে শুরু হওয়া স্নাতক ডিগ্রি কোর্সটি এখনো চলমান। উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হলেও বর্তমানে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে প্রতিষ্ঠিতফিজিওথেরাপি বিভাগের নাম-নিশানা মুছে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে এই মহলের বাধায় অর্ধশতাব্দী পার হলেও ফিজিওথেরাপি কলেজ, কাউন্সিল ও পদ সৃষ্টি হয়নি। তাই দেশের মানুষ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর মধ্যেই প্রতিবছর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। ‘করোনা আক্রান্ত-পরবর্তী সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরতে ফিজিওথেরাপিই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন প্রধান চিকিৎসা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) উদ্যোগে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, ফ্রি চিকিৎসাসহ সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি নিয়ে দিনটি পালন করা হচ্ছে।

ব্যথা, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বার্ধক্যজনিত সমস্যা, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, সেরিব্রাল পালসি, অটিজম, মেরুদণ্ডে আঘাত, সড়ক দুর্ঘটনা, ক্যানসার, অবেসিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানাবিধ অসংক্রামক রোগের কারণে বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক বড় একটি অংশ আংশিক বা পুরোপুরি প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা যায়, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় আক্রান্ত। বিশ্বব্যাপী ব্যথার চিকিৎসায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। আর এ রকম ব্যথায় আক্রান্ত ৪৯ শতাংশ মানুষকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অর্থাৎ বাধ্য হয়ে কাজে অংশ নিতে হচ্ছে। ব্যথা, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বার্ধক্যজনিত সমস্যা, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, সেরিব্রাল পালসি, অটিজম, মেরুদণ্ডে আঘাত, সড়ক দুর্ঘটনা, ক্যানসার, অবেসিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানাবিধ অসংক্রামক রোগের কারণে বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক বড় একটি অংশ আংশিক বা পুরোপুরি প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ব্যথায় আক্রান্ত ও প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগীদের ৮০ শতাংশই সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। চিকিৎসা মানেই ওষুধ নয়, আর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। যেমন ২০১৬ সালে শুধু আমেরিকায় অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে ৬৩ হাজার ৬৩২ জনের মৃত্যু হয় বলে একটি গবেষণায় বলা হয়েছে। এই ধরনের সমস্যায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাই উত্তম সমাধান ও প্রমাণিত পদ্ধতি এবং এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকেরাই প্রধান স্বাস্থ্য পেশাজীবী।

default-image
ফিজিওথেরাপির ব্যাপক প্রসার খুব জরুরি। মেডিকেল সায়েন্সের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হিসেবে ফিজিওথেরাপি এখন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাবিদ্যা হিসেবে অনেক জনপ্রিয়।

এ রকম পরিস্থিতিতে ফিজিওথেরাপির ব্যাপক প্রসার খুব জরুরি। মেডিকেল সায়েন্সের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হিসেবে ফিজিওথেরাপি এখন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাবিদ্যা হিসেবে অনেক জনপ্রিয়। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে অনেক রোগ সারানোসহ ক্রীড়াঘাত, উইমেন্স হেলথ, কারডিও রেস্পিরেটরি হেলথ, বার্ন, ক্যানসার, মানসিক হেলথে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা অনেক এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সুস্থ ও সচল জীবনযাপনের সুযোগ আছে। আর এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারেন একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত লাখ লাখ রোগী থাকলেও এদের সংখ্যা ও চিকিৎসা বিষয়ে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতায় ফিজিওথেরাপি প্রধান চিকিৎসা হলেও বাংলাদেশে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাপদ্ধতিকে অর্ধশতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠিত হতে না দেওয়ার কারণে এ দেশে রোগীরা একদিকে যেমন কষ্ট পাচ্ছেন, অন্যদিকে অক্ষম বা কম কর্মক্ষম জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তারা নিজের কাছে, পরিবারের কাছে, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে বড় বোঝা হয়ে অবহেলিত হচ্ছে। দেশে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ ও কর্মক্ষম করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) অর্জনে বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অথচ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পরিসংখ্যানের মতে, ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত লোকজনকে যথাসময়ে সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি কিংবা আংশিক সুস্থ ও কর্মক্ষম করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদক্ষেপের অভাবে কয়েক যুগেও দেশে কোনো ফিজিওথেরাপি কলেজ প্রতিষ্ঠা, কাউন্সিল গঠন, পদমর্যাদাসহ কোনো পদ সৃষ্টি হয়নি।

জনমানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

যুগের পর যুগ সরকারের সব মহলে সব রকম চেষ্টা ও তদবির করেও কোনো কূলকিনারা হচ্ছে না, এমনকি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনাও ঝুলে আছে কয়েক বছর ধরে। এ রকম পরিস্থিতিতে জনমানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

লেখক: চিকিৎসক ও সভাপতি, বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন