বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রশ্ন: আমি আমার জীবনের এমন এক পর্যায়ে এসে পড়েছি, যেখানে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে, আমি অন্যের ইচ্ছা, আশা, আকাঙ্ক্ষা পূরণের মানবযন্ত্রমাত্র। বিয়ে করো, বাড়ি কেনো, বাচ্চা নাও—এগুলোর জন্য ক্রমাগত চাপ আসছে। এ কাজগুলোই নাকি জীবনকে একটা সঠিক আকৃতি দেয়। সম্প্রতি আমি আমার প্রেমের সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছি। টাকা জমিয়েছিলাম বাড়ি কেনার জন্য। ভাবছি, বাড়ি আর কিনব না। এগুলো কিছুই আমাকে তৃপ্তি দিচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছে, এগুলো সবই অন্যের চাওয়া। আমি নিজে কী চাই, সেটাও বুঝতে পারছি না। আমি নিজেই কি নিজের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু চাইছি, নাকি জীবন এমনই। আমার সমস্যাটা কী?

উত্তর: ‘আমার সমস্যা কী’ আপনি কখনো এমন প্রশ্ন করবেন না। আমি এ রকম প্রশ্ন পছন্দ করি না। কেননা, এর মানে হলো, আপনি ধরেই নিচ্ছেন, আপনার কোনো সমস্যা আছে। তখন আপনি নিজেই ব্যাকফুটে চলে যাবেন। মানসিকভাবে হীনম্মন্যতায় ভুগবেন। আত্মবিশ্বাস হারাবেন। আপনি জিজ্ঞাসা করুন, ‘আমার কী হয়েছে? আমি এই অবস্থা থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পাব?’ দ্বিতীয়ত, আপনি জানালেন, সম্প্রতি আপনি একটা ‘মেজর রিলেশনশিপ’ থেকে বের হয়ে এসেছেন। বাড়িও কিনবেন না বলে জানিয়েছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপনি নিজে যে এ দুই সিদ্ধান্ত নিলেন, এই বিষয়ে আপনার অনুভূতি কী? আপনার কি একটু হালকা, নির্ভার লাগছে? সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার ওপর কি ছোটবেলা থেকেই নানা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? ‘ইউ শুড’, আপাতত এটি ভুলে যান। নিজেকে সময় দিন। আমার মনে হচ্ছে, ছোটবেলা থেকে হয়তো আপনার অনুভূতির মূল্যায়ন বা চর্চা হয়নি। অন্যরা আপনার সঙ্গে যা করেছে, আপনি নিজে নিজের সঙ্গে মোটেও সেটা করবেন না। আপনার মতো অবস্থায় যাঁরা আছেন, তাঁরা নিজেকে দুঃখ না দেওয়ার জন্য নিজের অনুভূতিগুলোকে পাথর বানিয়ে ফেলেন, যাতে কেউ সেখানে আঘাত করলে তিনি ব্যথা না পান। আপনি সেটা করবেন না। আপনি আপনার অনুভূতির যত্ন আর মূল্যায়ন করবেন।

অনেকে মনে করেন, অনুভূতি দুই প্রকার। যেটা নিজের ভেতরে আছে, আপনি জানেন।  আরেকটা হলো, নিয়ন্ত্রণের বাইরে হঠাৎ পাওয়া অনুভব। যাঁদের দ্বিতীয়টা অনুভবের সাহস নেই, কেবল তাঁরাই প্রথমটা বেছে নেন। কিন্তু মন আর মস্তিষ্কের ভেতর কেন সব সময় একটিকেই বেছে নিতে হবে? আপনি দুটোই নিতে পারেন।

আপনি এমন কিছু করুন, যে কাজ আপনি করতে আগ্রহী; কিন্তু আগে কখনো করেননি। প্রতিদিন একটু করে হৃদয়কে খুলুন। ভুল আর ব্যর্থতা কিন্তু শেখার সবচেয়ে বড় সোপান। তাই ব্যর্থতা ও ভুলকে শিক্ষক বানিয়ে নিন। আপনি আপনার শারীরিক, মানসিক আর আত্মিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। প্রতিদিন একটু হাঁটুন, ব্যায়াম ও ইয়োগা করুন। মনকে জাগিয়ে তুলুন। শিখুন। এমন কিছুর সঙ্গে যুক্ত হোন, যা আপনার জীবনে ‘ভ্যালু অ্যাড’ করে। আমি ভয় পাচ্ছি যে আপনি আপনার শৈশবের অভিজ্ঞতায় আটকে আছেন কি না। আপনি নিজেকে এক্সপ্লোর করুন। কর্মশালা করুন। অনেক সময় বলা হয়, আকাঙ্ক্ষাই সব দুঃখের মূল। আমি এই ধারণায় বিশ্বাস করতে বলি না। বরং আপনি আকাঙ্ক্ষা করুন। আর সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করুন। অন্তত ধীর পায়ে হলেও এগিয়ে যান সেদিকে। আপনি ধীরে ধীরে নিজের সবটা মেলুন, বাঁচুন।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন