default-image

আমাদের জীবনে খাদ্যাভ্যাস বেশ বড় একটি ভূমিকা পালন করে। মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সঙ্গেও রয়েছে এর গভীর সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেও আমরা মাইগ্রেনের ব্যথা এড়াতে পারি। মাইগ্রেনের রোগীর খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত ও অনুচিত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো ‘মাইগ্রেন ও মাথাব্যথা সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আয়োজিত এসকেএফ নিবেদিত ‘মাথা নিয়ে মাথাব্যথা’ অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ পর্বে।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘মাইগ্রেনের খাদ্যাভ্যাস’। এ পর্বে অতিথি হিসেবে ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার জাহানারা আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন সারা ফ্যায়রুজ যাইমা। পর্বটি ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মাইগ্রেন প্রাইমারি মাথাব্যথার অন্তর্ভুক্ত। এর সঠিক কোনো কারণ পাওয়া যায় না। মাইগ্রেনের রোগীদের সংবেদনশীলতা অনেক বেশি। রোদ, আগুন, শব্দ, আলো—এসব তাঁদের ব্যথার নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তবে এ পর্বে জানা গেল মাইগ্রেনের রোগীরা খাদ্যেও সংবেদনশীল হতে পারেন।

default-image

কিছু খাবার বা খাবারের গন্ধ ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন মাথাব্যথা হলে অনেকে গরম চা বা কফি পান করেন আরাম বোধের জন্য। কিন্তু মাইগ্রেনের রোগীরা এটি করলে হিতে বিপরীত হয়ে থাকে। তাই তাঁদের চা-কফির সঙ্গে অ্যালকোহলিক ড্রিংকস, কার্বোনেটেড বেভারেজ এড়িয়ে চলা উচিত। সিট্রাস বা লেবুজাতীয় ফল বা অন্য কোনো টক ফল খেলে এবং পেঁয়াজের গন্ধ বা ঝাঁঝে ব্যথা হতে পারে।

default-image

৫০ শতাংশ মাইগ্রেনের রোগী গন্ধের প্রতি সংবেদনশীল। মুখ থেকে মাথা পর্যন্ত টারজেমেনিয়াল নামের একটি স্নায়ু ছড়িয়ে আছে। কিছু গন্ধ থাকে, যা এই স্নায়ুতে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এই উদ্দীপনার জন্য মাইগ্রেনের ব্যথা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে কিছু খাবারের কড়া গন্ধ ব্যথার ট্রিগার হয়ে থাকে। মস্তিষ্কে গন্ধ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু পাশাপাশি থাকে। আবেগও মাইগ্রেন ট্রিগার।

বিজ্ঞাপন

আবার এমন কিছু খাবার আছে, যা খেলে ব্যথায় স্বস্তি পাওয়া যায়। যেমন: টাটকা শাকসবজি, মিষ্টি ফল, মাংস ইত্যাদি। পানি পানের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, শরীরে পানির অভাব মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয়।

default-image

ফাস্ট ফুড আমাদের সবারই পছন্দের। বেশির ভাগ ফাস্ট ফুড তৈরিতে বিভিন্ন রকমের পনির ব্যবহার করা হয়। সুস্বাদু পনিরের জন্যও মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। কারণ, এতে রয়েছে টাইরামিন নামের একটি উপাদান, যা মাইগ্রেন ট্রিগার। এই টাইরামিন শুধু পনির নয়, প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেমন: সসেজ, বেকন, বোলোনিয়া, বিভিন্ন রকমের পিকেল বা আচার, সয়া সস, অ্যালকোহলিক ড্রিংক ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। তাই মাইগ্রেনের রোগীদের এই খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

চিকিৎসকেরা মাইগ্রেনের রোগীদের সব সময় একটি ডায়েরি রাখতে বা মেনটেইন করতে বলেন, যাতে তাঁরা কোন কোন খাবার খেলে তাঁদের ব্যথা বেড়ে যায় বা কমে যায়, সেটা লিখে রাখতে পারেন। কারণ, সবারই যে একই খাবার খেলে ব্যথা বাড়বে বা কমবে, এমন কোনো কথা নেই। যেমন, কারও লেবু খেলে ব্যথা বাড়ে আবার কারও ব্যথা হয় না। কারও গরম খাবার খেলে ব্যথায় আরাম বোধ হয় আবার কারও ঠান্ডা খাবার খেলে ব্যথার তীব্রতা কমে। ডায়েরিতে লেখা খাবারের তালিকা দেখে চিকিৎসকেরা রোগীর জন্য একটি আদর্শ খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ দিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

এখন মানুষ নিজেদের ফিটনেস ও শারীরিক সুস্থতা নিয়ে অনেক সচেতন। এ জন্য সবাই কমবেশি চেষ্টা করেন একটা ভালো খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে। অনেক রকমের ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস আছে। এর ভেতর বেশ জনপ্রিয় কিটো ডায়েট। অনুষ্ঠানে প্রশ্ন ছিল, মাইগ্রেনের রোগীরা কিটো ডায়েট করতে পারবেন কি না। বিশেষজ্ঞ জানালেন, কিটো ডায়েট তাঁরা করতে পারবেন। কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম আর ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এই ফ্যাট থেকে পাওয়া এনার্জি মাইগ্রেনের ঘন ঘন ব্যথা হওয়ার প্রবণতা কমায়। তাই বলা যায়, কিটো ডায়েট খুবই ভালো। তবে এই ডায়েট শুরু করার আগের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাহানারা আলম তাঁর মাথাব্যথা নিয়ে অভিজ্ঞতা ও নিজের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস আর এক্সারসাইজের রুটিন নিয়ে কথা বলেন। ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী দর্শকদের মাথাব্যথা নিয়ে কিছু প্রশ্নের জবাব দেন।

মন্তব্য পড়ুন 0