বিজ্ঞাপন

কুশল রায় বলেন, যোগাভ্যাসের মাধ্যমে প্রাথমিক মাথাব্যথার অনেকগুলো কারণ নিরসন করা সম্ভব। যোগব্যায়াম এবং যোগাভ্যাসের মধ্যে একটি পার্থক্য আছে। যোগব্যায়াম করলেও মাথাব্যথা থেকে যেতে পারে। ব্যায়ামটাকে অভ্যাসে পরিণত করে শুরু হয় যোগাভ্যাস, এই স্তরে মাথাব্যথা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। যোগাভ্যাসে কিছু জায়গা আছে যা ঘাড়ের পেছনটাকে শিথিল করবে, ব্রিদিং প্যাটার্ন বদলে যাবে যেন মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ও অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যোগাভ্যাসের একটি আসন আছে—নাদা ইয়োগা। এটুকু করেই অনেকে তীব্র মাথাব্যথা থেকে বের হয়ে আসতে পারেন।

default-image

তিনি বলেন, প্রাথমিক মাথাব্যথা সারানোর দুটি ব্যায়াম আপনি যেকোনো জায়গায় বসে করতে পারেন। প্রথমেই খেয়াল করুন নাকের কোনো পাশ বন্ধ হয়ে আছে। বাঁ পাশ বন্ধ হয়ে থাকলে ডান নাকের ফুটো বন্ধ করে বাঁ পাশে দম নেব, ডান পাশে দম ছাড়ব। একে বলা হয় চন্দ্রবেদী। ডান পাশ বন্ধ থাকলে ডান পাশে দম নেব, বাঁ পাশে দম ছাড়ব। একে বলে সূর্যবেদী। অথবা ভ্রমরি করুন। মাথার তালুতে ডান হাতের তালু রাখুন, তার ওপর বাঁ হাতের তালু রাখুন। এবার লম্বা দম নিয়ে যতক্ষণ পারেন ততক্ষণ ওম শব্দ করে দম নিয়ে তারপর দম ছাড়তে থাকুন। এতে মস্তিষ্কে একটি ভাইব্রেশন তৈরি হয়, যা দ্রুত মাথাব্যথায় সারিয়ে তোলে। তবে কোনোভাবেই চাপ নেওয়া যাবে না। খুবই ধীরেসুস্থে, আরাম করে ব্যয়ামগুলো করতে হবে। প্রতিদিন এই অভ্যাসটি করলে তীব্র মাথাব্যথাও কমে আসে।

ডা. নাহিদুল ইসলাম বলেন, মাথাব্যথার চিকিৎসার বেশ কিছু স্তর আছে। তীব্র হলে প্রাথমিকভাবে টাফনিলের মতো ওষুধ দিয়ে মাথাব্যথা প্রশমন করা হয়। মাঝেমধ্যে সোমাটিপটান গ্রুপের কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয়। মাঝেমধ্যে নাজাল স্প্রে করলেও মাথাব্যথা কমে আসে। এর মাধ্যমে মাইগ্রেনের নিরসনমূলক বা অ্যাবরটিভ ট্রিটমেন্ট করা হয়। কিন্তু সপ্তাহে অন্তত দুই দিন যদি তার মাথাব্যথা থাকে, তখন প্রিভেন্টিভ ট্রিটমেন্ট করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এবং নন-ড্রাগ ট্রিটমেন্ট যেমন যোগাভ্যাসের পরামর্শ দেওয়া হয়। আরেকটি মাথাব্যথার ধরন হলো ক্লাস্টার হেডেক, এর ফলে চোখের চারপাশে ব্যথা হয়। এর চিকিৎসা হিসেবে অক্সিজেন দিতে হয়। ৫ থেকে ১০ মিনিট ১০০ শতাংশ অক্সিজেন দিলে এই ব্যথাটি কমে যায়। অন্যান্য চিকিৎসা তো আছেই।

default-image

কুশল রায় জানান, দীর্ঘদিনের সাইনোসাইটিস এবং মাইগ্রেনের সমস্যা সমাধানে আমরা শুরুতে ছয় রকম ক্লিনজিং প্রসেস করাই যার একটি হলো জলনেতিক ক্রিয়া। আমাদের নাকে ছয়টি নার্ভ আছে যেগুলো পরিষ্কার না থাকলে মাথাব্যথা থেকেই যায়। জলনেতিক ক্রিয়ায় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে নিতে ছোট একটি পটের সাহায্যে নাকের একপাশ দিয়ে হালকা উষ্ণ লবণপানি প্রবেশ করাতে হয়। একপর্যায়ে সেই পানি নাকের আরেক ফুটো দিয়ে বের হয়ে আসে। পানির নরম বাষ্প স্নায়ুগুলোকে শিথিল ও পরিষ্কার করে। প্রতিদিন চোখে পানি দেওয়া, চোখের হালকা ব্যায়াম করা এবং জলনেতি অভ্যাস করলে মাথাব্যথার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসে।

তিনি বলেন, সাধারণ মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেনের ব্যথা কীভাবে পার্থক্য করবেন? ডা. নাহিদুল ইসলাম বলেন, মাইগ্রেনের ব্যথা মাথার অর্ধেকজুড়ে থাকবে। দব দব করবে, নড়াচড়া হলেই ব্যথা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে ব্যথাটি তীব্র হবে। বমি বমি ভাব বা বমি হবে। শব্দ ও আলো সহ্য করতে পারবে না। ব্যথাটি রিপিটেড হবে। মাসে বা সপ্তায় এক বা দুবার এমন ব্যথা হবেই। আর সাধারণ ব্যথায় এগুলোর কিছুই হবে না। আর চোখের চারপাশে তীব্র ব্যথা হলে তাকে ক্লাস্টার বলে চিহ্নিত করা যাবে।

তীব্র মাথাব্যথার আরেকটি ব্যায়াম হলো নাড়িশোধন বা অনুলোম-বিলোম। কুশল রায় জানান, প্রথমে মেরুদণ্ড সোজা করে বসে সব দম ছেড়ে দিতে হবে। এরপর সূর্যভেদ প্রাণায়ামের মতো প্রথমে ডান নাসাপথে ৬ সেকেন্ড শ্বাস গ্রহণ, তারপর সঙ্গে সঙ্গে বাঁ নাসাপথে সমান সময় শ্বাস ত্যাগ এবং আবার বাঁ নাসাপথে ৬ সেকেন্ড দম নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ৬ সেকেন্ডে ডান ফুটো দিয়ে বের করতে হবে। এভাবে পরপর ছয়বার করতে হবে। কোনোভাবেই দম ধরে রাখা যাবে না। ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম করলেও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানো যায়। প্রথমে ধীর, তারপর মধ্যম এবং দ্রুতগতিতে দম নিয়ে ছাড়তে হবে।

মাইগ্রেনের আক্রমণ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়। তবে মাইগ্রেনের মাথাব্যথা ওষুধ ও যোগাভ্যাসের মাধ্যমে কমিয়ে আনা যায়। নিয়মিত চিকিৎসায় সপ্তাহ থেকে মাসে একবার, বা কয়েক মাস পরপর একবার এভাবে বিলম্বিত করা সম্ভব, তা–ও আবার স্বল্প কিছু সময়ের জন্য। তবে ওষুধই শেষ কথা নয়। জীবনযাত্রায়ও আনতে হবে পরিবর্তন। ঘন ঘন চকলেট খেলে মাইগ্রেন বাড়ে। অনিয়মিত রাত জাগার অভ্যাস, তীব্র রোদে ছাতা ছাড়া ঘোরাফেরা করলেও মাইগ্রেন বাড়ে। এগুলো সচেতনভাবে পরিহার করতে হবে।

তীব্র মাথাব্যথা তাৎক্ষণিকভাবে কমাতে চাইছেন কিন্তু হাতের কাছে কোনো ওষুধ নেই, এই ক্ষেত্রে কী করবেন? বুড়ো আঙুল এবং তর্জনীর মাঝে শক্ত অংশে আকুপ্রেশারের চাপ দিলে, সূর্যভেদী-চন্দ্রভেদী করলে মাথাব্যথা কমবে। আরেকটি উপায় আছে, সেটাকে বরে জলান্ধার বান্ধ। প্রথমে লম্বা করে দম নিয়ে, তারপর মাথা নিচু করে, চিবুক ও গলা এক করে দমকে আটকে বা বন্ধ করে রাখতে হবে। তারপার আস্তে আস্তে ছাড়তে হবে। মাঝেমধ্যে ঘাড়ের পেশি শক্ত হয়ে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। তখন লম্বা দম নিয়ে মুখ ওপরে তুলে ধরতে হবে। দুই দাঁতের পাটি পরস্পর লেগে থাকবে ও দম আটকে থাকবে। এখানে ভ্রমরের মতো শব্দ করতে হবে, কিন্তু খুবই হালকাভাবে। প্রেশার দিয়ে কখনোই কোনো মাথাব্যথা কমানোর ব্যায়াম করা যাবে না।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন