বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে মাথাব্যথার ধরন নিয়ে আলোচনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সেলিম শাহী। তিনি বলেন, মাথাব্যথা সাধারণত দুই ধরনের—প্রাথমিক মাথাব্যথা ও গুরুতর মাথাব্যথা। ৯৫ শতাংশ মানুষ প্রাথমিক মাথাব্যথায় ভোগেন। দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস, পর্যাপ্ত না ঘুমানোর কারণে এ ধরনের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। আর গুরুতর মাথাব্যথা অন্য কোনো রোগের লক্ষণ। যেমন স্ট্রোক, ব্রেন টিউমার ইত্যাদি। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষ টেনশনজনিত মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই মাথাব্যথার কিছু বিশেষ লক্ষণ রয়েছে। যেমন এটি যে কোনো বয়সেই হতে পারে, উদ্বিগ্নতা, বিষণ্ণতায় ভোগা, ঘুম না হওয়া ইত্যাদি কারণে এ ধরনের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। সাধারণত মাথার উপরিভাগ বা পেছনে বেশি ব্যথা হয়। রোগীরা অনেক সময় বলেন, মাথা ভার হয়ে রয়েছে; যেন মাথায় কোনো ভারি বোঝা রেখে দেওয়া হয়েছে। দিনের যে কোনো সময় ব্যথা হতে পারে, তবে বিকেলে বা সন্ধ্যায় বেশি ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক সময় বমি বমি ভাব হতে পারে, তবে বমি হয় না। অপর দিকে মাইগ্রেন ব্যথার সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ রয়েছে।

default-image

সাধারণত কম বয়সীদের মাইগ্রেন কম হয়ে থাকে। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সে মাইগ্রেন বেশি হয়। এই ব্যথা মাথার যে কোনো একপাশ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে যায় এবং দপদপ করে মাথাব্যথা করে। এ সময় আলো বা শব্দ ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। বমি বমি ভাব হয়, অনেক সময় বমি হয়। মাইগ্রেনের রোগীরা ঘুমালে বা ব্যথানাশক ওষুধ খেলে আরাম বোধ করেন। আবার ব্রেন টিউমারের ব্যথার আলাদা কিছু লক্ষণ রয়েছ। যেমন মাথাজুড়ে ব্যথা বা মাথার ভেতর কামড়ানো ধরনের ব্যথা হয়, রোগী সামনের দিকে ঝুঁকতে পারেন না, ঘুমের মধ্যেও ব্যথা হয় বা ব্যথায় ঘুম ভেঙে যেতে পারে, ঘুম ভেঙে বমিও হতে পারে। স্ট্রোকের জন্য যে মাথাব্যথা, এরও আলাদা লক্ষণ রয়েছে। যদি হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, মাথাব্যথার সঙ্গে বমি এবং হাত–পা অবশ হয়ে আসে বা প্যরালাইসিস হয়, তবে বুঝতে হবে তার স্ট্রোক হয়েছে।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সেলিম শাহী আলোচনা করেন মাথাব্যথার ধরন নির্ণয় সম্পর্কে। তিনি বলেন, মাথাব্যথার ধরন এবং কারণ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তবে তা করতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। রোগীরা সঠিকভাবে তাদের মাথাব্যথার ধরন চিকিৎসকদের কাছে বলতে পারলে মাথাব্যথার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব। তবে যাদের মাথাব্যথা গুরুতর, তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে, পরীক্ষাও নির্ভর করে মাথাব্যথার কারণ ও ধরনের ওপর। যেমন বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় মাথাব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর থাকে, তবে করোনা বা ডেঙ্গু হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে করোনা বা ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। অনেক সময় ম্যালেরিয়া রোগীদেরও মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর হয়ে থাকে। আবার কারও সাইনোসাইটিস বা কানে আঘাতের কারণে মাথাব্যথা হলে এক ধরনের পরীক্ষা করাতে হবে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন